রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০৭:৪৩ পূর্বাহ্ন

কাতারে প্রথমবারেরমত অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশি আম উৎসব

অনলাইন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : শুক্রবার, ২৩ মে, ২০২৫
  • ৬০ বার

আম উৎপাদনের বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। কিন্তু রপ্তানিতে দেশের অবস্থান তলানিতে। এই পরিস্থিতি রপ্তানি বাড়ানোর ক্ষেত্রে সম্ভাবনা দেখাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো। বিষয়টি নিয়ে কাতারে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
এর অংশ হিসেবে আগামী মাসের শেষ সপ্তাহে কাতারের রাজধানী দোহায় প্রথমবারের মত বাংলাদেশী আম মেলা আয়োজন করা হয়েছে দূতাবাস। এর মাধ্যমে দেশটিতে ফল রপ্তানির দ্বার উন্মোচন হবে। মেলায় ৫ লাখ কেজি ফল বিক্রির প্রত্যাশা আয়োজকদের।
কাতারের দোহায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের আয়োজনে আগামী ২৫ জুন থেকে ১ জুলাই হতে যাওয়া সপ্তাহব্যাপি এই মেলায় ৬০ টি স্টল অংশ নিবে। কাতারের রাজধানী দোহা এর বাণিজ্য এলাকাখ্যাত সুক ওয়াকিফে অনুষ্ঠিত এই মেলায় দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা স্বল্প খরচে অংশ নিতে পারবেন। মেলায় ভালো জাতের আম, বোম্বাই লিচু, কাঁঠাল ও জাম প্রদর্শন ও বিক্রি করতে পারবেন দেশের উদ্যোক্তারা।
এছাড়া কৃষি প্রক্রিয়াজাত কোম্পানিগুলো তাদের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির জন্য স্টল নিতে পারবেন। এই মেলা আয়োজনে সহযোগী পার্টনার হিসেবে বাংলাদেশে কাজ করছে এম্পিরিক রিসার্স লিমিটেড। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে কোন প্রতিষ্ঠান এই আম উৎসবে অংশ নিতে চাইলে এম্পিরিক রিসার্স লিমিটেডের সার্বিক সহযোগিতা নিতে পারবে।
এ বিষয়ে কাতারে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব আবদুল্লাহ আল রাজী চ্যানেল 24 কে জানিয়েছেন, কাতার সরকারের সহযোগিতা নিয়ে প্রথমবারের মত কাতারে বাংলাদেশি আম মেলা ২০২৫ আয়োজন করতে যাচ্ছে। কাতারের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সুক ওয়াকিফে এই মেলা অনুষ্ঠিত হবে। এই উৎসবের লক্ষ্য হলো কাতারের ভোক্তা, আমদানিকারক এবং পরিবেশকদের কাছে বাংলাদেশের আম এবং আম সম্পর্কিত পণ্য এবং অন্যান্য মৌসুমী ফলের অনন্য স্বাদ, সুগন্ধ, গুণমান এবং বৈচিত্র্য প্রদর্শন করা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশি ফলের খ্যাতি এবং চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে।
বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের জন্য মেলাতে পণ্য আনার জন্য হ্রাসকৃত মূল্যে কার্গো ভাড়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও তিনি আরও বলেন, মেলার মাধ্যমে কাতারের সঙ্গে কৃষি পণ্য রপ্তানির একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই স্টলগুলো বরাদ্দ দেওয়া হবে।
সম্প্রতি রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) জানিয়েছে, ২০২৫ সালে তাজা ফলের বৈশ্বিক বাজার প্রায় ৭৭৮ বিলিয়ন ডলার। ২০২৪ সালে আমের বৈশ্বিক বাজার ছিলো ৬৭.৪ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৫ সালে ৭১.৯৮ বিলিয়ন ডলারে। ২০২৯ সালে ৯৭.৮২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হতে পারে আমের বাজার।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, মূলত ভারত ও পাকিস্তান থেকেই বেশি ফল আসে কাতারে। তবে নানা বাধায় কাতারে বাংলাদেশের সুস্বাদু ফল পৌছাতে পারে না। কিন্তু দেশটিতে চার বিলিয়ন ডলারের বেশি ফলের বাজার রয়েছে। সেই বাজারে প্রবেশ করতে গেলে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের আরো দক্ষভাবে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে দেশটিতে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এক বিলিয়ন ডলারের ফল রপ্তানি করা সম্ভব হবে। এই মেলার আয়োজন সেই সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তুলবে।
জানা গেছে, দেশে প্রায় ২৭ লাখ টন আম উৎপাদন হচ্ছে। যার বাজার মূল্য ২০ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্য, হংকং, কানাডা, বাহরাইন, সুইজারল্যান্ড, ইতালি ও সুইডেনে আম রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যে সর্বাধিক রপ্তানি হয়েছে। এছাড়া চীনে বড় ধরনের আম রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে। এক্ষেত্রে আম রপ্তানির ক্ষেত্রে এখন সম্ভাবনাময় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো।
আমের বেশ কয়েকটি প্রজাতি ইতোমধ্যেই জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। যেমন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের খিরসাপাত, রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফজলি, নওগাঁর নাক ফজলি, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ল্যাংড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জের আশ্বিনা ও রংপুরের হাঁড়িভাঙ্গা। এসব আম সঠিক মান বজায় রেখে রপ্তানি করতে পারলে ভালো দাম পাওয়া যাবে।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories