গাজীপুর মহানগরীর সদর থানা এলাকায় মিশুক চালককে খুন করে মিশুক ছিনতাইয়ের একদিনের মাথায় ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) গাজীপুর জেলা। ঘটনায় জড়িত ২ আসামী গ্রেফতার ও ছিনতাই হওয়া মিশুকের আংশিক মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামীর মধ্যে একজন অটোচালক ও অপরজন শিশু রয়েছে। তারা উভয়ে আদালতে স্বাকারোক্তিমূলক জবানবন্ধি দিয়েছে।
নিহত অটো রিক্সা চালকের নাম হাবিবুর রহমান (৪২)। তিনি জামালপুর জেলার মেলান্দহ থানার সাদিপাটি এলাকার মৃত বারেক ফকিরের ছেলে। তিনি গাজীপুর মহানগরীর পুবাইল থানাধীন মেঘডুবি পশ্চিমপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে মিশুক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
গ্রেফতার আসামীরা হলো,শিশু রবিন মিয়া (১৫ বছর ৯ মাস)। তিনি নেত্রকোনা জেলার বারহাট্রা থানার কাকুড়া গ্রামের মো: হযরত আলীর ছেলে। অপরজন, মিজানুর রহমান (৩১)। তিনি পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ থানার পোঃ-সোনাহার মল্লিকাদহ এলাকার মৃত শুকুর আলীর ছেলে।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রবিনকে গত ২৬ ফেব্রুয়ারী মধ্যরাতে গাজীপুর মহানগরীর পুবাইল থানাধীন মেঘডুবি এলাকা থেকে এবং মিজানুর রহমানকে রাজধানীর তুরাগ থানাধীন উত্তরা ১০নং সেক্টরের রানাভোলা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর গত ২৭ ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যায় শিশু রবিন মিয়া ও মামলার ঘটনায় জড়িত তদন্তে প্রাপ্ত আসামী মিজানুর রহমান ঘটনা সংক্রান্তে বিস্তারিত বর্ননা দিয়ে নিজের দোষ স্বীকার করে নিজেদের জড়িয়ে বিজ্ঞ আদালতে ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। পরে তাদের আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়।
শুক্রবার (২৮ ফেব্রুযারি) দুপুরে এসব তথ্য জানিয়েছেন, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার মোঃ আবুল কালাম আজাদ।
তিনি আরো জানান, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় সর্বশেষ মিজানুর রহমানের ছোট ভাই মোঃ জালাল (৩৫) তাকে পূবাইল থানাধীন মেঘডুবি এলাকায় মিশুক চালাতে দেখেন। কিন্তু পরে মিজানুর রহমান আর বাসায় ফিরেননি। অনেক খোজেও তার কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে ২৫ ফেব্রুয়ারি রাত সোয়া ৯টায় জালালের পরিচিত দোকানদার জনৈক মঞ্জুরুলের মাধ্যমে সংবাদ পায় যে, গাজীপুর মহানগরীর সদর মেট্রো থানাধীন ধীরাশ্রম রাহাপাড়া সাকিনস্থ কলের বাজার টু ধীরাশ্রম গামী পাকা রাস্তায় কালভার্টের নিকটে রাস্তার পাশের ধানী জমিতে গলা কাটা অবস্থায় কে বা কারা মিজানের লাশ ফেলে রেখে চলে গেছে। পরে জামাল ও তার শ্বশুর মোঃ নুর মোহাম্মদ (৫২) ঘটনাস্থলে এসে বাদীর ভাইয়ের লাশ দেখতে পায়। কিন্তু তার ভাইয়ের সঙ্গে থাকা ব্যাটারী চালিত মিশুক গাড়িটি খুঁজে পায়নি। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করে ও ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
তিনি আরো জানান, পরে এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামীর বিরুদ্ধে জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে সদর মেট্রো থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করার হয়, অজ্ঞাতনামা আসামীরা ভাইকে ধারালো কাটার দিয়ে গলা কেটে হত্যা করত: তার ভাইয়ের মিশুক ও তার ব্যবহৃত টেকনো ব্র্যান্ডের স্মার্ট মোবাইল ফোন এবং সাথে থাকা সারাদিনের গাড়ী চালিয়ে উপার্জন করা নগদ টাকা পয়সা নিয়ে লাশ ফেলে রেখে চলে যায়।
তিনি আরো জানান, মামলাটি রুজু হওয়ার পর সদর থানা পুলিশ এক দিন মামলাটি তদন্তকালীন সময়ে পিবিআই গাজীপুর মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে। পিবিআইয়ের অতিরিক্ত আইজিপি মোঃ মোস্তফা কামালের তত্ত্বাবধান ও পুলিশ সুপার মোঃ আবুল কালাম আজাদের সার্বিক সহযোগিতায় মামলাটি উপ-পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মোঃ সুমন মিয়া তদন্ত করেন।
পুলিশ সুপার বলেন, তদন্তকালে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় উক্ত আসামীদের গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আসামীরা জানায়, ঘটনায় জড়িত গ্রেফতারকৃত ও পলাতক আসামীগণ গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টায় ফোন করে ডেকে মিশুক ভাড়া নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরাঘুরি করে। পরে ঘটনাস্থলে নিয়ে ধারালো এন্টি কাটার দিয়ে চালকের গলা কেঁটে হত্যা করে লাশ রাস্তার পাশে ফেলে দিয়ে মিশুকটি ছিনতাই করে নিয়ে যায়। পরে উক্ত মিশুকের ৪টি ব্যাটারী, সামনে ব্যবহৃত গ্লাস, ২টি লুকিং গ্লাস ও ৪টি চাকা নিজেদের হেফাজতে রেখে অটোরিক্সার অবশিষ্ট অংশ ভাঙ্গারীর দোকানে বিক্রি করতঃ নিজেদের মধ্যে টাকা ভাগাভাগী করে নেয়। গ্রেফতারকৃত আসামী মিজানুর রহমান ছিনতাই করা মিশুকের ব্যাটারী নিজের অটোরিক্সায় লাগায়।
পুলিশ সুপার মোঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, এটি একটি নৃশংস হত্যাকান্ড। ট হাবিবুর রহমান পেশায় একজন অটোরিক্সা চালক ছিল। ঘটনার দিন জড়িত আসামীগণ মিশুকটি ভাড়া করে ধীরাশ্রম রাহাপাড়া সাকিনে কলের বাজার টু ধীরাশ্রমগামী পাকা রাস্তার পাশে নিয়ে ধারালো কাটার (এন্টি কাটার) দিয়ে গলা কেঁটে হত্যা করে লাশ রাস্তার পাশে ফেলে দয়ে। পরে মিশুকটি (অটোরিক্সাটি) ছিনতাই করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে আসামী মিজানুর রহমান মিশুকের ব্যাটারী নিজের অটোরিক্সায় লাগায় এবং অবশিষ্ট অংশ ভাঙ্গারীর দোকানে বিক্রি করে আসামীগণ টাকা ভাগাভাগী করে নেয়। এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
Leave a Reply