তাবলীগে সৃষ্ট বিভক্তি, মামুনুল হক ও জুবায়েরপন্থীদের নৃশংস হামলা এবং তাবলীগ নিয়ন্ত্রণের ষড়যন্ত্রের বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি করেছেন সাদপহ্নীরা।
গত ১৭ ডিসেম্বর টঙ্গীতে জোড়ের কাজ করতে আসার পথে সাদপন্থী তাবলীগের সাথীরা জুবায়েরপন্থীদের পরিকল্পিত হামলার শিকার হয়। রাত আনুমানিক ২টার দিকে টঙ্গী কামারপাড়ায় ইজতেমা ময়দানের পাশে গাড়ি বহরে নৃশংস হামলায় বগুড়ার সাথী বেলাল আহমদ (৬৫) নিহত হন। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সাদপন্থী তাবলীগ জামাতের মুরুব্বিরা শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানান।
জুবায়েরপহ্নী তাবলীগে মামুনুল হক এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পক্ষগুলোর হস্তক্ষেপ ও বিভক্তি সৃষ্টির অপচেষ্টায় দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়েছে।
উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডের নিন্দা
১৪ ডিসেম্বর বিশ্ব ইজতেমার ময়দানে মামুনুল হক “তুরাগ নদী রক্তে লাল” করার ঘোষণা দেন। এ ধরনের বক্তব্য দেশের ধর্মীয় পরিবেশ উত্তপ্ত করে তুলছে। তাছাড়া, জুবায়েরপন্থীদের সহিংস কর্মকাণ্ড এবং উস্কানিমূলক বক্তব্যের পর থেকে সারাদেশে সাদপন্থীদের উপর নির্যাতন বাড়ছে।
গতকাল রাতে ঢাকার বিভিন্ন মাদরাসা ও মসজিদে হামলা চালানো হয়। নিকুঞ্জ মাদরাসায় হামলা করে হেফাজত ও জুবায়েরপন্থীরা। অনেক সাথী এখনো হাসপাতালে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন। তাছাড়া, ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে আহত সাথীদের সেবা গ্রহণেও বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে।
তাবলীগের ভেতর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধের আহ্বান
মামুনুল হক ও তার অনুসারীরা রাজনৈতিক নেতাদের প্রভাব কাজে লাগিয়ে তাবলীগ জামাতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছেন। এর ফলে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রচেষ্টা বারবার ব্যর্থ হচ্ছে।
আমরা তাবলীগে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং মাদরাসার ছাত্রদের ব্যবহারের মাধ্যমে সংঘাত সৃষ্টির চক্রান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাই।
সাদপহ্নীদের দাবিসমূহ: ১. আগামি বিশ্ব ইজতেমায় মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
২. কাকরাইল মসজিদে সাদপন্থীদের স্বাভাবিক কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনা করতে দিতে হবে। ৩. টঙ্গীর ইজতেমা ময়দান সরকার নিয়ন্ত্রণে রেখে সাদপন্থীদের ইজতেমার আগে ময়দান বুঝিয়ে দিতে হবে। ৪. আগামি বিশ্ব ইজতেমা সুন্দরভাবে আয়োজনের জন্য সরকার এবং সংশ্লিষ্টদের সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।
৫. সারাদেশে সাদপন্থীদের উপর আক্রমণ ও নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। মসজিদে-মসজিদে বাধা সৃষ্টি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।৬. তাবলীগের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে বারবার আলোচনার আহ্বান জানিয়েছন। তাদের দাবি, সকল সহিংস ঘটনা তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক এবং দেশকে সংঘাতমুক্ত রাখতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত:
মাওলানা জিয়া বিন কাসেম, মুফতী মুআজ বিন নূর, মুফতী শফিউল্লাহ, মুফতী আজিমুদ্দীন, মাওলানা আনাস প্রমুখ।
Leave a Reply