টঙ্গীতে বিএনপি নেতার আশ্রয়ে, এক সময়ের প্রভাবশালী যুবলীগ কর্মী এখন বিএনপি ত্যাগী কর্মী !
জানা যায়, টঙ্গী পশ্চিম থানার ৫২ নং ওয়ার্ডের দাঁড়াইল এলাকায় ঝুট ব্যবসা ধরে রাখতে ৫ আগষ্টের পর ঐ এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও টঙ্গীর পশ্চিম থানা যুবলীগের সদস্য খোকন (পিতা- কুদরত আলী) রাতারাতি বিএনপির ত্যাগী কর্মী বনে গেছেন।
খোকনের আওয়ামীলীগ হওয়ার গল্প যেভাবে শুরু : জনশ্রুতি রয়েছে, বিগত ১৫ বছর ধরে খোকন ঐ এলাকার ঝুটের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে আওয়ামী লীগ যুবলীগের আশ্রয়ে। খোকন এবং তার বোন জামাই নাজমুল হাসানের নেতৃত্বে তাদের একটা কিশোর গ্যাংও রয়েছে ওই এলাকায়।
গত ৪/৮/২০২৪ইং পল্টন থানায় একটি গণহত্যা মামলার এজাহারে ২৮২ নং আসামি হওয়া সত্বেও বিএনপির কয়েকজন নেতার আশ্রয়ে আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপির ত্যাগী কর্মী হয়ে যান খোকন, এবং স্থানীয় বিএনপির যারা বিগত আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন তাদেরকে নানা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছেন খোকন।যারা খোকনের অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছেন তাদের নিরাপত্তা দিতে পারছে না থানা বিএনপির শীর্ষ নেতারা এমন অভিযোগও রয়েছে ।
টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ্ মোঃ নাসির উদ্দীন নাসু, বর্তমান কমিটির আহবায়ক প্রভাষক বশির উদ্দিন আহমেদ, গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক রাকিব উদ্দিন সরকার পাপ্পু, কারারুদ্ধ নুরুল ইসলাম সরকার এবং গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব হাসান উদ্দিন সরকার এর ছবির সাথে ছবি ঝুলিয়ে বানিয়েছেন দলীয় কার্যালয়। খোকন বিগত দিনে বিএনপি বা অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কোন কমিটিতে ছিলেন না বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাসুর প্রত্যক্ষ মদদে যুবলীগ কর্মী খোকন বিএনপিতে প্রবেশ করে হয়ে উঠেছে বেপরোয়া। দাঁড়াইল গ্রাম কমিটির দলীয় কার্যালয়ের একটি দোকান পরেই খোকনের অফিস, কিন্তু পদ-পদবী না থাকায় কোন ব্যানারে তা লিখতে পারছেন না।
খোকনের বিষয়ে ৫২নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি ইউনুস আলী এবং বর্তমান সভাপতি ইদ্রিস শরীফ, ও সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে, উনারা জানান, খোকন কোনদিনই বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল না।

তাহলে সে কি ভাবে বিএনপির নাম ব্যবহার করে অফিস নেয় ? প্রশ্র উঠেছে, বর্তমান থানা কমিটির আহবায়ক বশির উদ্দিন, সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান নূর ও সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক জাহাঙ্গীর আলম খোকন কেনো এ বিষয়ে কোন ভুমিকা পালন করছেন না। খোকনের মতো এমন অসংখ্য অনুপ্রবেশকারী ও হাইব্রিড নেতাদের কারণে দলের ত্যাগী পরীক্ষিত নেতাকর্মীরা দল থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ।
উল্লেখ্য : সাবেক থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাসু এবং তার অনুসারীরা নাসুর কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার পর থেকে কোন কার্যক্রমে অংশ নেয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সরাসরি গত সিটি নির্বাচনে আওয়ামী যুবলীগের মহানগর এর আহবায়ক সদস্য আলম পাশার নির্বাচন করেন এবং নৌকার পক্ষে ভোটও চান নাসু ও তার সহযোগীরা। শুধু ঐ এলাকাতেই নয় তার নিজ এলাকা মুদাফাতেও যুবলীগ নেতা মাসুদের সাথে মিলে প্রকাশ্যে ঝুটের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন নাসুসহ খোকন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকেই নাসুর এমন কর্মকান্ডে বিব্রত এবং শংকিত।ভুক্তভোগী বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, মহানগর বিএনপি এবং কেন্দ্রের কাছে এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
Leave a Reply