গাজীপুরের টঙ্গীতে স্বামীকে তালাক দেয়ায় স্ত্রী শিরিনা আক্তারের (২৪) গলা কেটে জখম করেছেন তাঁর বেকার সাবেক স্বামী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার টঙ্গীর পাগাড় ঝিনু মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনার সময় স্ত্রী আত্বরক্ষার্থে স্বামী সিদ্দিকুল ইসলাম নয়নকে গলায় ধারালো অস্ত্র (বঁটি) দিয়ে আঘাত করে হত্যার চেষ্টা করেন। নয়নের অবস্থা আশংকাজনক এবং গুরুতর আহত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
জানা যায়,
শিরিনা আক্তার কুড়িগ্রামের চিলমারী থানার খরদু বাসপাড়া এলাকার আব্দুর রশিদের মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিরিনা পেশায় একজন পোশাক শ্রমিক। প্রায় ১০ বছর আগে শিরিনা আক্তার ও নয়নের বিয়ে হয়। তাঁদের পরিবারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। পারিবারিক কলহের জেরে কয়েক দিন আগে ভাড়া বাসা থেকে বেরিয়ে যায় নয়ন। এরপর মঙ্গলবার গাজীপুর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গিয়ে স্বামী নয়নকে তালাক দেন শিরিনা।
তালাকের বিষয়টি জানতে পেরে দুই দিন পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাবেক স্বামী নয়ন ওই বাসায় গিয়ে বঁটি দিয়ে শিরিনাকে উপর্যুপরি কোপাতে থাকেন। এতে গুরুতর আহত হন শিরিনা। এরই একপর্যায়ে শিরিনা অপর একটি বঁটি দিয়ে তাঁর সাবেক ও বেকার স্বামী নয়নের গলায় আঘাত করে। বিষয়টি আশপাশের লোকজন দেখতে পেয়ে তাঁদের উদ্ধার করে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়।
শিরিনা আক্তারের ছোট বোন ঋণা আক্তার বলেন, ‘আমার দুলাভাই (নয়ন) কোনো কাজ করত না। এ নিয়ে আমার বোনের সঙ্গে প্রায়ই ঝগড়া হতো। মঙ্গলবার আমার বোন তার স্বামীকে তালাক দেয়। এ নিয়ে দুজনে বটি নিয়ে কোপাককুপি করে আহত হয়। টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নুসরাত জাহান এ্যানি বলেন, তাঁদের দুজনের শরীরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। নয়নের কণ্ঠনালির কিছু অংশ কেটে গিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে। নয়নের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁদের দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, এই বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। পেলে ব্যবস্থা নেব।
Leave a Reply