টঙ্গীস্থ বাংলাদেশ রেলওয়ে পুলিশ [জিআরপি] ফাড়ির ইনচার্জ ছোটন শর্মার নেতৃত্বে একদল পুলিশ গোপন সংসাদের ভিত্তিতে ২০ ফেব্রুয়ারী ভোর রাতে ষ্টেশনের কুলিদের বসার রুম থেকে ১১ জুয়াড়িকে দীর্ঘক্ষন ফাড়িতে আটকে রাখার পর স্থানীয় এক লোকের কাছ থেকে মুচলেখা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
জুয়াড়িদের আটক এবং ছেড়ে দেয়ার বিষয়টি জানতে রেলওয়ে ফাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে ষ্টেশনের গোলচত্বরে এস আই ছোটন শর্মাকে পাওয়ার পর বিষয়টি জানতে চাইলে এবং নাম ঠিকানা চাইলে তিনি বেশ দাফটের সাথে বলেন, জুয়াড়ি ধরে আবার ছেড়ে দিয়েছি, আপনি নিউজ করুন-সমস্যা নেই, বিষয়টি আমার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন।
রেলওয়ে ষ্টেশনের একাধিক লোকজন জানান, রেলওয়ে ষ্টেশনের কর্মরত কুলিদের রুমে বসে ৩/৪ কুলিসহ হকারদলের ৮/১০ জন জুয়াড়ি মিলে রাতভর টাস ও লুডুর মাধ্যমে জুয়া খেলেন। বিষয়টি জিআরপি পুলিশের এস আই ছোট শর্মা জানতে পেরে ঘটনাস্থল থেকে ১১ জুয়াড়িকে বেশ কিছু নগদ টাকা, লুডু ও টাসসহ আটক করে ফাড়িতে নিয়ে যান। আটককৃতরা হলেন : কুলি উমর আলী, কুলি ইব্রাহিম, কুলি বাদশাসহ বহিরাগত শাহীন, সজীব, হামিদ, শামীম, হানিফসহ অজ্ঞাত আরো তিনজন। সকাল ৯ টার মধ্যে স্থানীয় একজনের সুপারিশে ও মুচলেখায় তাদের ছেড়ে দেন।
ষ্টেশনের একাধিক লোকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রায় প্রতিদিন এস আই ছোটন শর্মাসহ ফাড়ির পুলিশ সদস্যরা বিকেল থেকে ভোর রাত পর্যন্ত বনমালা রেল গেইট থেকে টঙ্গী বাজার রেল ব্রিজ পর্যন্ত অভিযানের নামে বিভিন্ন অপরাধে চোর, ছিনতাইকারী, মাদকসেবী, ভাসমান পতিতার দালালসহ বিভিন্ন পথচারী লোকজন ধরে এনে রাত পোহানোর পূর্বে ছেড়ে দেন। এছাড়া বউ বাজার রেললাইনের উপর জুয়ার বোর্ড বসানোর অনুমতি দিয়ে অর্থ আদায়, রেললাইনের দু-পাশে ইঠা-বালির ব্যবসায়ী, বিভিন্ন দোকানপাট, রেলওয়ে গোলচত্বরে বসা জুতাসহ বিভিন্ন পন্যাদির দোকান এবং কেরানীরঠেক ও রেলওয়ে বস্তির মাদক ব্যবসায়ীদের থেকে নিয়মিত সপ্তাহ ও মাসিক ভিত্তিতে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে জিআরপি পুলিশ ও রেলওয়ে নিরাপত্তা পুলিশের বিরুদ্ধে।
এসব বিষয় এস আই ছোটন শর্মা অস্বীকার করে বলেন, আমি কেমন অফিসার তদন্ত করে জেনে নিন। আমি যা করি আমার উর্দ্ধতনকে জানিয়ে করি। নিউজ করবেন করুন সমস্যা নেই।
Leave a Reply