সিলেটে ১২ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ৪ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল (জেলা ও দায়রা জজ) সিলেটের বিচারক মিয়াজী শহিদুল আলম চৌধুরীর আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সিলেটের সদর উপজেলার বটেশ্বর এলাকার আনোয়ার হোসেন, মো. খোকন, ফয়সল মিয়া ও মো. আনাই। তাদের মধ্যে আনোয়ার হোসেন পলাতক রয়েছেন। রায় ঘোষণাকালে বাকি আসামিরা আদালতে উপস্থিতি ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের এপিপি অ্যাডভোকেট ইশতিয়াক আহমদ চৌধুরী।
আদালত সূত্র জানায়, ২০০৯ সালের ৪ জানুয়ারি বিকালে বটেশ্বর এলাকায় ওই শিশু তার দুই ভাইকে নিয়ে গরু চরাতে ক্যান্টনমেন্টের পাশের একটি মাঠে যায়। কিন্তু সন্ধ্যায় ছোট দুই ভাই গরু নিয়ে বাড়ি ফিরলেও ফেরেনি তাদের বোন। সারারাত পরিবারের সদস্যরা তাকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও পাননি। পরদিন সকাল ১০ টার দিকে স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে ওই গরু চরানোর মাঠের পাশের একটি নির্জন টিলার উপর একটি গর্তের মাঝে ১২ বছরের শিশুর মরদেহ পাওয়া যায়।
খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। ওই সময় পুলিশ জানায়- গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে এবং হত্যার আগে তাকে গণধর্ষণ করা হয়েছে ।
ঘটনার পর ভিকটিমরে বাবা বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর আনোয়ার, খোকন, ফয়সল ও আনাইকে গ্রেফতার করে পুলিশ এবং রিমান্ডে নেয়। পরে তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়। মামলার দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার তাদের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন ও ১ লক্ষ টাকা জরিমানার দণ্ড দেয় আদালত।
এদিকে, আদালতে মামলার চার্জশিট দাখিলের আগে হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে আসামি আনোয়ার পালিয়ে যান। তিনি এখনো পলাতক। বাকি আসামিরা রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
এ ব্যাপারে মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের এপিপি অ্যাডভোকেট ইশতিয়াক আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘ঘটনার পর শিশুর পিতা আবুল কাশেম বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলার মোট ১৩ জন স্বাক্ষীর মধ্যে সবাই স্বাক্ষী প্রদান করেছেন।
Leave a Reply