দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-২ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী (নৌকা প্রতীক) এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল বলেছেন, আমি কখনো কুপথে পা বাড়াইনি। অল্প বয়সে এমপি হয়েছি, মন্ত্রী হয়েছি। আমার হাতে ক্ষমতা ছিল, টাকা ছিল। অল্প বয়সে মানুষ ক্ষমতা এবং টাকা পেলে তার ভার সহ্য করতে পারে না, মানুষ খারাপ হয়ে যায়। আমি কখনো আমার ক্ষমতা ও টাকার অপব্যবহার করিনি। মানুষের আমানত খেয়ানত করিনি। কোনো প্রকার খারাপ কাজের সঙ্গে আমার সংশ্লিষ্টতা কেউ প্রমাণ করতে পারবে না।
বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে টঙ্গী তিস্তার গেট এলাকায় এক উঠান বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, জাহাঙ্গীর আলম তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি। গত সিটি নির্বাচনে তার মায়ের জন্য ভোট চাইতে এসে তিনি বিভিন্ন জায়গায় বলেছিলেন যে, তার মা জায়েদা খাতুন যদি মেয়র হতে পারেন তা হলে বাড়ির হোল্ডিং ট্যাক্স পাঁচ বছরের জন্য মওকুফ করে দেবেন। কিন্তু এখন খবর পাচ্ছি, তিনি প্রতিটি বাড়িতে ট্যাক্সের পরিমাণ দুই-তিনগুণ বৃদ্ধি করে বাড়ির মালিকদের নোটিশ পাঠাচ্ছেন। ট্যাক্স মাফ তো করেনই নাই; বরং দ্বিগুণ, তিনগুণ বাড়িয়ে নোটিশ দিচ্ছেন। যার মুখে এক, অন্তরে আরেক তাকে আমরা কী বলতে পারি, এমন প্রশ্ন রাখেন তিনি।
তিনি বলেন, সিটি নির্বাচনে তিনি (জাহাঙ্গীর আলম) বাড়ির হোল্ডিং ট্যাক্স মাফ করে দেওয়ার কথা বলে মা-বোনদের পটিয়ে ভোট নিয়েছেন। এবারও তিনি একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে এলাকার ভোটারদের বিভিন্ন মিথ্যা ও লোভনীয় প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট নেওয়ার চেষ্টা করছেন। আপনারা সবাই সজাগ থাকবেন। মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে প্রলুব্ধ না হয়ে ৭ জানুয়ারি নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে এলাকার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আমাকে সহযোগিতা করুন।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল বলেছেন, গাজীপুর সিটির সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের কাছে কেউ নিরাপদ নয়। তিনি একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীকে নিয়ে নির্বাচন করছেন। তিনি যেভাবে মানুষকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ, অশোভন ভাষায় কটাক্ষ করে কথা বলছেন, যা নিজে না শুনলে বিশ্বাস করার মতো নয়।
তিনি বলেন, সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লা খানসহ সিনিয়র নেতাদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও বাজে মন্তব্য করছেন। তিনি শুধু আমাকে নিয়ে নয়, অন্যান্য দলের প্রার্থীকে নিয়েও অশোভন ভাষায় কটাক্ষ করে কথা বলছেন।
তিনি বলেন, টাকা তো অনেকেরই আছে এবং থাকবে। কিন্তু তার মতো এত দাম্ভিক ও অহংকারী হয়ে উঠতে কাউকে দেখিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি গাজীপুর এলাকায় কোটি কোটি টাকার কাজ করেছি। আমার বিশ্বাস, আমি একটি টাকাও আত্মসাৎ করিনি। কখনো মানুষের জমি দখল করিনি, কারও আমানত খেয়ানত করিনি। আমার জানামতে, আমি কারও মনে কষ্ট দিইনি। তাই আমার বিশ্বাস আগামী নির্বাচনে আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাকে জয়যুক্ত করবেন।
এ সময় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সহধর্মিণী খাদিজা রাসেল, ওয়ার্ড কাউন্সিলর হেলাল উদ্দিন, আওয়ামী লীগ নেতা জয়নাল আবেদীন সিকদার, কবির হোসেন শিমুল, আবুল কাশেম, হুমায়ুন কবির বাপ্পি, বিল্লাল হোসেন, শাহিন সিকদার, সোহেল রানা, আনোয়ার হোসেন, সফিকুল ইসলাম, আহসান উল্লাহসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply