ডাব খাওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয় মাগুরার দুই ভাইকে। ঘটনার ২৪ ঘন্টার মধ্যে পুলিশের তৎপরতায় আটক হত্যাকারী আশিকুর রহমানের স্বীকারোক্তিতে এই তথ্য জানা গেছে।
সোমবার দুপুর ২টায় মাগুরা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: কলিমুল্লাহ এ তথ্য জানান।
পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, মাগুরার মহম্মদপুরের পানি ঘাটা ঢোকচান্দের মাঠে জোড়া খুনের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মো. আশিকুর রহমানকে আটক করা হয়েছে। আটক আশিকুর ডাব খাওয়ার কথা বলে হত্যার স্বীকার সবুজ মোল্লা ও হৃদয় মোল্লাকে ডেকে মাঠে নিয়ে যায়। পরিকল্পিত স্থানে পৌছালে অন্য সহযোগীরা তাদের দুই ভাইকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবাই করে হত্যা করে। ঘটনার পর থেকে আশিক পুলিশের সন্দেহের তালিকায় ছিল। তদন্ত এখনও চলমান। এখনই এর বেশি বলা সম্ভব নয়। তবে হত্যাকারী ও হত্যাকান্ডের শিকার উভয়ের মধ্যে আগে থেকেই সু সম্পর্ক ছিল। তা না হলে শীতের রাতে তারা ডাব খাওয়ার কথা শুনে হত্যাকারীদের পিছু নিতো না।
সূত্র জানায়, রোববার সকালে স্থানীয় নহাটা ইউনিয়নের পানি ঘাটা গ্রামের ঢোকচান্দের মাঠ এলাকায় মাঠে কাজ করতে গিয়ে শ্রমিকরা দুটি লাশ পড়ে থাকতে দেখে। বিষয়টি তারা পুলিশকে জানায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লাশ দুটি উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য মাগুরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠান। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করে প্রতিবেশীদের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়ে থাকতে পারে।
সবুজ ও হৃদয়ের বড় ভাই আবুল কালাম বলেন, আমার ভাই সবুজ মোল্যা পেশায় মুদি দোকানদার ও হৃদয় মোল্যা নোহাটা রানি পতিত পাবণী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্র। শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে ফারুক শিকদারের ছেলে আশিক, বিপ্লব ও হাসিব শিকদার- দুই ভাইকে খুঁজতে বাড়িতে আসে। তারা আমার দুই ভাইকে ডাব খাওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে যায়। পরে সকালে আমার দুই ভাইয়ের গলাকাটা লাশ পাওয়া গেছে বলে জানতে পারি।
তিনি আরও বলেন, ‘এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত করে হত্যায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছি।
মাগুরার সহকারী পুলিশ সুপার (শালিখা সার্কেল) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নিহত দুই ভাই শনিবার রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের লোকজন রাত থেকে তাঁদের খোঁজাখুঁজি করছিলেন। সকালে স্থানীয় লোকজন পানিঘাটা গ্রামের একটি মাঠে তাঁদের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁদের গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে হত্যার কারণ জানা যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা মহম্মদপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল সিদ্দিকী বলেন, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে সবুজ মোল্লা মুদি দোকানদারী ও কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। আর তাঁর ছোট ভাই হৃদয় স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল। পানিঘাটা গ্রামের যে মাঠে তাঁদের লাশ পাওয়া গেছে, সেটা তাঁদের বাড়ি থেকে কয়েকশ গজ দূরে।
পুলিশ কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিহত দুজনই নিরীহ প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। হত্যার কারণ উদ্ঘাটন ও জড়িত ব্যক্তিদের ধরতে মাঠে নেমেছে পুলিশ।
মহম্মদপুর থানার ওসি মো. বোরহান উন ইসলাম বলেন, লাশ উদ্ধারের পর হত্যার মোটিভ উদ্ধারে মাঠে নামে পুলিশ। তাৎক্ষনিকভাবে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে দুজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের স্বীকারোক্তিতে ঘটনার ২৪ ঘন্টার মধ্যে মূল হত্যাকারীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
Leave a Reply