বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ১২:৫০ পূর্বাহ্ন

টঙ্গীতে নৌকা-ট্রাক সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, নাকি পারিবারিক ঘটনা ? আহত-৯

গাজীপুর প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : রবিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৩
  • ১১১ বার

টঙ্গীর ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডের তুরাগ নদীর পাড়ে সান্দারপাড়া নামক স্থানে শিশু বাচ্চাকে নিয়ে কেন্দ্র করে প্রথমে হাতাহাতি তারপর ধারালো ছোরা দিয়ে আঘাত ও মারামারির ঘটনাকে অবশেষে নৌকা ও ট্রাক প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা বলে সাজানোর দাবী স্থানীয়দের। এতে উভয় পরিবারের ৯জন আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ভাবে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, রবিবার বিকেল ৪টার দিকে তুরাগ নদীর পাড়ে ভরান মাজার বস্তির পাশে সান্দার পাড় এলাকায় নৌকার সমর্থক শাহজালালের ছেলে ট্রাক মার্কার সমর্থক লাল চান মিয়ার সাথে নৌকা সমর্থক শরীফের ছেলে পলাশকে কেন্দ্র করে একই এলাকার নৌকার সমর্থক শরীফের কথা কাটাকাটি হয়। এরপর লাল চান, কাদির খোরশেদ এবং তাদের লোকজন নৌকা সমর্থক শরীফ, শাহজালাল এবং শরীফের বৃদ্ধ মাকে মারধর করে। এ ঘটনায় ক্ষীপ্ত হয়ে শরীফ ও তার লোকজন ট্রাক প্রতীক সমর্থক লাল চান এবং কাদিরকে বেদড়ক মারধর করে এবং ধারালো ছোরা দিয়ে লাল চানের বুকে আঘাত পূর্বক গুরতর আহত করে। এ সময় উভয় পক্ষের ৯ জন আহত হয়। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে নৌকা এবং ট্রাক প্রতীকের সমর্থকরা বিষয়টি প্রতিহিংশ্বা বশত রাজনৈতিক ভাবে পোস্টার ছেঁড়া নিয়ে নৌকা ও ট্রাক সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয় বলে প্রচার শুরু করে।

খবর পেয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ ও বিজিবি ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ আইন শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রেন রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করেছেন। আহত লাল চানকে উদ্ধার করে প্রথমে টঙ্গীস্থ শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার জেনারেল হাসপাতাল ও পরে আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে বর্তমানে ঘটনাস্থলে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় যুবলীগ নেতা লিটন উদ্দিন সরকারের দাবি, ট্রাক প্রতীকের কর্মীরা নৌকার পোস্টার ছিঁড়ে ফেলতে শুরু করলে বাধা দেওয়া হয়। এ সময় ট্রাকের সমর্থকরা তাদের ৬জন কর্মীকে আহত করেন। ৬জনের মধ্যে ২জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বাকিরা শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি আছে।
আহত নৌকার সমর্থকরা হলেন- ফিরোজ মিয়ার ছেলে শ্যামল মিয়া (২৩), শরীফ মিয়ার ছেলে পলাশ (১৮), মৃত ফজলুর রহমানের স্ত্রী সাহিদা বেগম (৬২), শরিফ মিয়ার স্ত্রী শবনম (৩৭)।
আবুল মিয়ার মেয়ে টিয়া মিয়া (২০), আরমানের মেয়ে নূপুর (২৭)।
ট্রাক সমর্থক ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সদস্যসচিব আজহার বেপারী জানান, নৌকার কর্মীরা ট্রাকের প্রচারণায় হামলা করে তাদের ২ কর্মীকে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত করেছে। ২জনকেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
ট্রাক প্রতীকের আহত সমর্থকরা হলেন- মোহাম্মদ আলীর ছেলে ফারুক (৩৮) ও শাহ জালালের ছেলে লাল চান মিয়া (৩২)।
এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি জানান, আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তদন্ত চলছে, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তদন্তপূর্বক আইনূ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories