বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ০১:৫১ পূর্বাহ্ন

বেড়াতে এসে খালাতো ভাইয়ের সাথে বেড়িয়ে নিখোঁজ, ৩ দিন পর শিশুর বালুচাপা লাশ উদ্ধার

মৃণাল চৌধুরী সৈকত
  • আপলোডের সময় : বুধবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২৩
  • ১২০ বার

খালার বাড়িতে এসে ১৭ ডিসেম্বর রোবার দুপুর থেকে নিখোঁজের পর ২০ ডিসেম্বর বুধবার বিকেল পর নিমতলী বালুর মাঠ এলাকায় বালু চাপা অবস্থায় এক শিশু কন্যার লাশ উদ্ধার করে করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে স্থানীয় পুলিশ।
জানা যায়, হত্যার শিকার শিশুটির নাম জান্নাত (৮)। সে সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ থানার দশশিখা গ্রামের আব্দুল মান্নানের মেয়ে। জান্নাত ওই এলাকার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণিতে পড়াশুনা করতো।
এ ঘটনায় জড়িত থাকায় খালাতো ভাই মোহাম্মদ জনি (১৫) ও তার বাবা ফজলু মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা টঙ্গীর শিলমুনস্থ যোগীবাড়ি এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা।
ঘটনা জানাজািনর পর টঙ্গী নিমতলী বালুর মাঠ এলাকায় স্থানীয়দের ভিড় দেখায়। উৎসুক জনতা এঘটনার সাথে জড়িতদের চরম শাস্তির দাবী জানান।
নিহত শিশু জান্নাতের পিতা এবং টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ জানান, নিহত জান্নাত গত নভেম্বর মাসে টঙ্গীতে সিলমুন যোগীবাড়ি এলাকায় খালার বাসায় বেড়াতে আসে। গত রোববার সকালে খালাতো ভাই জনি চিপস কিনে দেওয়ার কথা বলে জান্নাতকে বাড়ির বাইরে নিয়ে যায়। কয়েক ঘণ্টা পর জনি বাসায় ফিরে এলেও জান্নাতকে পাওয়া যায়নি। পরে জান্নাতের বাবা আব্দুল মান্নান টঙ্গী পূর্ব থানায় শিশুটির খোঁজে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় কানাঘোষার এক পর্যায়ে
বুধবার পুলিশ জনি ও তার বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বালি চাপা দেওয়ার তথ্য জানায়। তাদের দেওয়া তথ্যে পুলিশ হত্যাকারী জনিকে সঙ্গে নিয়ে নিমতলী এলাকার বালুর মাঠ থেকে বালি চাপা দেওয়া অবস্থায় শিশু জান্নাতের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
পুলিশ আরও জানায়, খালাতো বোনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে এবং ইঠ দিয়ে মাথায় চাপা দিয়ে হত্যা নিশ্চিত করার পর লাশটি বিভিন্ন ময়লা আর্বজনা দিয়ে ঢেকে রেখে হত্যাকারী জনি গভীর রােত বাসায় ফিরে বিষয়টি তার বাবাকে জানায়। পরে বাবা ও ছেলে মিলে রাতেই বিষয়টি ধামাচাপা দিতে শিশুটিকে বালু মাঠের একপাশে বালুচাপা দেয় এবং পরদিন নিখোঁজ শিশু কন্যাটির সন্ধান চেয়ে এলাকায় মাইকিং করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক চা ব্যবসায়ী জানান, গত রোববার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে জনি দোকানে এসে চা সিগারেট খায়, এ সময় তাকে টেনশেন থাকতে দেখা যায়। তাছাড়া ছেলেটি এলাকায় বখাটে হিসেবে পরিচিত। ছেলের এহেন কর্মকান্ডকে পিতা সমর্থন দিয়ে পরদিন এলাকায় শিশু মেয়েটি নিখোজ সংক্রান্ত মাইকিংক করেন। বাপ-ছেলে উভয়ের কঠিন শাস্তি হওয়া দরকার।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার অপরাধ (দক্ষিণ) মোহাম্মদ ইব্রাহিম খান বলেন, সাধারণ ডায়েরির পর জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের পর হত্যার দায় স্বীকার করেছে গ্রেফতারকৃত যুবক জনি ও তার বাবা ফজলু। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার অভিযুক্তদের আদালতে প্রেরণ করা হবে।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories