টঙ্গীর ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে গাজীপুর আদালতে দায়ের করা মামলার সত্যতা পায়নি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) গাজীপুর। সম্প্রতি আদালতে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে এমন তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
পিবিআই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ২৭ আগষ্ট শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুরুজ্জামান রানা বাদি হয়ে প্রতিষ্ঠানের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোছা. শাহিনা সরকারসহ ৯জন সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে গাজীপুর আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং ১০৭৫/২৩)। উক্ত মামলা আমলে নিয়ে আদালত গাজীপুর জেলা পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন। দীর্ঘ ২মাস মামলা তদন্ত করেন পিবিআই এর পুলিশ পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন পিবিআই কর্মকর্তা।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নুরুজ্জামান রানার দায়ের করা মামলায় আনিত কোন অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। মামলা তদন্তকালে ১৬জন সাক্ষীর সাথে ঘটনাস্থলে ও বাদির উল্লেখিত স্থান পরিদর্শন করেন পিবিআই কর্মকর্তা।
জানা যায়, শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একেএম জিয়াউর রহমান মামুনের মৃত্যুর পর স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হন নুরুজ্জামান রানা। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় ছাত্রীদের যৌন হয়রানিসহ নানারকম অনিয়মের অভিযোগ উঠে। একপর্যায়ে স্কুলের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা লিখিত ভাবে স্থানীয় সাংসদ ও যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল বরাবর অভিযোগ করেন। এসময় অভিভাবকরা তার চারিত্রিক ত্রুটিসহ নানাবিধ কুকর্মের অভিযোগ তুলে ধরেন।
মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষকদের দাবী, প্রতিমন্ত্রীর কাছে অভিভাবকরা অভিযোগ করার পর তা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিতত হয়। এতে রাগান্বিত হয়ে নুরুজ্জামান রানা আমাদের দশ শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
মামলা তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ‘র পুলিশ পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন বলেন, মামলার বিশদ তদন্ত করেই বিজ্ঞ আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। আদালত প্রতিবেদন সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।
Leave a Reply