রাস্তায় বেরোলেই ধুলো বালি আর মারাত্মক বায়ু দূষণের কবলে পড়তে হয় খোদ রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের শহর গুলোতে আসা বিভিন্ন শ্রেনী পেশার নারী, পুরুষ, বৃদ্ধ-বর্ণিতাসহ স্কুল-কলেজগামী ছাত্র/ছাত্রী এবং শিশুদের। ফলে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয় মানুষগুলো। হালকা শীতের কুয়াশা আর ক্ষীনপ্রায় রুদ্রের আভায় হালকা বাসাতে অতিরিক্ত যানবাহন তথা কালো ধোঁয়া তার উপর উপরোন্ত শহরগুলোতে সৃষ্ট হয় ধুলোবালি ও বিষাক্ত বায়ু দূষণ এবং যত্রতত্র ময়লা আর্বজনার ফলে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন বা সড়ক ও জনপথ বিভাগ এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় এডিস মশার উপদ্রব বৃদ্ধিতে ডেঙ্গুর ভয়াবহতার পাশাপাশি বিভিন্ন রোগ জীবানূ ছড়িয়ে পড়ছে মানব দেহে।
এতে করে রাজধানী ঢাকা আবারো শীর্ষ অবস্থানে উঠে এসেছে বিশ্বের দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায়। যা আমাদের কারো কাম্য নয়। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী শহর গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদীর বাতাসের মান অত্যন্ত অ-স্বাস্থ্যকর।
একিউআই এর স্কোর অনুযায়ী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার বাতাসের অবস্থা কিছুটা উন্নতি হলেও মাঝে মাঝে এ স্কোর নেমে আসে ২২২-তে। একিউআই সূচকে ৫৫/৫০ এর নিচে স্কোর থাকার অর্থ হলো বাতাসের মান ভালো। সূচকে ৫১ থেকে ১০০ স্কোরের মধ্যে থাকলে বাতাসের মান গ্রহণযোগ্য বলে ধরে নেয়া হয়। তবে একিউআই স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে প্রত্যেকেই স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে। আর সে ক্ষেত্রে জরুরি সতর্কতা অবস্থা দেয়া হয়ে থাকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। তবে ৩০১ থেকে ৫০০ বা তারও বেশি হলে বাতাসের মান ঝুঁকিপূর্ণ মনে করা হয়। এ অবস্থায় প্রত্যেক নগরবাসী স্বাস্থ্য সতর্কতাসহ জরুরী অবস্থার মুখোমুখি হওয়ার সম্ভবনা থাকে। আমাদের দেশে এমন ব্যবস্থা আছে কি না তা জানা নেই কারো।
ঢাকা বা পার্শ্ববতী শহরে বাতাসের মান খুবই অ-স্বাস্থ্যকর হওয়াকে কেন্দ্র সম্প্রতি একাধিক বিভিন্ন পত্র-পত্রিকিায় প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। ওইসব প্রতিবেদনগুলোর তথ্যানুসারে দেখা যায়, বিশ্বের দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। একটি নির্দিষ্ট শহরের প্রতিদিনের বাতাসের মান নিয়ে একিউআই সূচক তৈরি করা হয়ে থাকে। যার মাধ্যমে একটি শহরের বাতাস কতটুকু বিশুদ্ধ বা দূষিত এবং সেই সাথে ওই পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে কি না সেই তথ্য হয়ে থাকে। মাত্রাতিরিক্ত মানুষের বসবাসের নগরী ঢাকা দীর্ঘদিন ধরেই বাতাসে দূষণের মাত্রা নিয়ন্ত্রন্ত্রণ নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। বর্ষাকালে কিছুটা উন্নতি হতে দেখা গেলেও গ্রীষ্ম ও শীকতালে শহরটিতে বায়ু দূষণের মাত্রা বেড়ে যায় কয়েকগুন।
এছাড়া রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের ওইসব শহরগুলোতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ, স্থানীয় সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক সড়ক মহাসড়ক, আঞ্চলিক সড়ক কিংবা ছোট ছোটশাখা রাস্তা-ঘাটগুলোর উন্নয়নে কাজ করাকালীন যানবাহনের কালো শিষাযুক্ত বিষাক্ত ধোঁয়া আর প্রচন্ড রকম ধুলোবালির কবলে পড়ে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয় পথ যাত্রী বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ। সড়ক মহা-সড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলোর উন্নয়ণ কাজে জড়িত প্রতিষ্ঠান বা কর্তাব্যক্তিরা উন্নয়ন কাজ চলাকালী পর্যাপ্ত পানি ব্যবহার না করা বা মাসের পর মাস বিভিন্ন অজুহাতে কাজ বন্ধ রাখায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়ে থাকে বলেও সাধারণ মানুষ মনে করেন। শহরের রাস্তাঘাটে চলতে গিয়ে সাধারণ মানুষ বলে থাকেন, উষ্ণ মৌসুমে রাস্তাঘাট মেরামত করায় ধুলোবালি বাতাসের সাথে মিশে আকাশে একটু বেশী উড়ে আর সেই সাথে যানবাহনের শিষাযুক্ত কালো ধোঁয়া মিলে মিশে রোগজীবানু ছড়ায়। এতে করে শ্বাস কষ্ট, এ্যাজমা, জ্বরসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয় শিশুসহ বৃদ্ধ মানুষ গুলো। স্থানীয় সরকারী ও বেসরকারী হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন শতশত রোগীদের উপচে পড়া ভীড় দেখা যায়।
আবার বর্ষাকালে শহরগুলোতে পানি নিস্কাষনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা বিশেষ করে ‘ড্রেনেজ ব্যবস্থা’ না থাকায় রাস্তাঘাটের খুড়াখুড়িতে জলাবদ্ধ সৃষ্টিসহ যাতায়াতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয় শহরবাসীকে। এসব ক্ষেত্রে রাস্তা-ঘাট, সড়ক-মহাসড়কসহ শহরগুলোতে জনসাধারণের যাতায়াতের সার্বিক সূবিধার্থে উন্নয়ণ কাজ গুলো করার সময় কর্তৃপক্ষকে ধুলোবালি আর জলাবদ্ধ নিরশনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা জরুরী বলেই মনে করেন স্থানীয় বোদ্ধা মহল।
ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী যাতায়াতকালে সড়ক-মহাসড়কগুলোতে পর্যাপ্ত ধুলোবালি আর সড়কের দু-পাশে গড়ে উঠা শিল্প কলকারখানার বর্জ্য ও যানবাহনের কালো ধোঁয়ায় চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় সাধারণ যাত্রীদের। এ যেন নিত্যদিনের সঙ্গী পথচারীদের। এ থেকে পরিত্রাণ করবে কারা ?
Leave a Reply