বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন

টঙ্গীতে ডোবা থেকে লাশ উদ্ধার ॥ গানের শিক্ষক মানসুরা আক্তার জিতুকে গলা কেটে হত্যা

মৃণাল চৌধুরী সৈকত
  • আপলোডের সময় : শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৩
  • ১২০ বার

টঙ্গী‌তে শুক্রবার দুপুরে গাজীপুরা প‌শ্চিম হাজী আরব আলী সড়কের এক‌টি ডোবা থেকে মানসুরা আক্তার ওরফে জিতু মন্ডল (২৭) না‌মে এক গা‌নের শি‌ক্ষিকার গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার রাতে সৎ ছেলের বাসায় খাওয়া-দাওয়া সেরে নিজের বাসায় ফেরার পথে নিখোঁজ হন তিনি। মানসুরা হত্যাকাণ্ড নিয়ে রহস্য দেখা দিয়েছে। পরিবারের সদস্যরা একজনকে সন্দেহ করলেও বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। তারা জানিয়েছে, রহস্য উন্মোচনে চেষ্টা চলছে।
মানসুরা গাজীপুর সদরের পিরুজআলী এলাকার মৃত জাহাঙ্গীর মিয়াজীর মে‌য়ে। তিনি গাজীপুরা সাতাইশ এলাকায় থাকতেন । স্থানীয় এক‌টি পোশাক কারখানায় কাজের পাশাপা‌শি জিত মি‌উজিক একাডেমি নামের প্রতিষ্ঠান রয়েছে তাঁর। সেখানে তিনি গা‌নের ক্লাস নি‌তেন বলে জানা গেছে।
ছোট বোন সায়মা আক্তারের ভাষ্য, চন্দ্র শেখর মণ্ডলের গীতাঞ্জলি একাডেমিতে গান শিখতেন মানসুরা। সেখানে পরিচয়ের সূত্র ধরে বছর পাঁচেক আগে বিবাহিত চন্দ্র শেখরকে বিয়ে করেন। চন্দ্র শেখরের আগের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে আছে। বছর খানেক আগে তিনি মারা যান।
সায়মা বলেন, চন্দ্র শেখরের ছেলে নিলয় মণ্ডল জুয়েলের সঙ্গে মিলে মানসুরা জিত মি‌উজিক একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন। নিলয়ের বাসায়ই তিনি খাওয়া-দাওয়া করতেন। বৃহস্পতিবার রাতে সেখান থেকে খেয়ে বাসার উদ্দেশে বেরিয়ে নিখোঁজ হন। তাঁর মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। শুক্রবার দুপু‌রে স্থানীয় লোকজন গাজীপুরা প‌শ্চিমপাড়া হাজি আরব আলী সড়কের ডোবায় লাশ দেখে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন পোশাক দেখে মানসুরাকে শনাক্ত করেন।
নিলয় মণ্ডল জু‌য়েলের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দি‌কে একা‌ডে‌মি থে‌কে বেরিয়ে স্থানীয় চা দোকানে বসেছিলেন তিনি। মানসুরা ৯টার দি‌কে একা‌ডে‌মি বন্ধ ক‌রেন। এক সঙ্গে তাঁর বাসায় যান খেতে। রাতের খাবার শেষে তিনি বাসায় ফিরে যান। জুয়েলের জানা ম‌তে, মানসুরার সঙ্গে কারও শত্রুতা ছিল না।
সায়মার স্বামী এরশাদ হো‌সেন জানিয়েছেন, একই এলাকার আসাদ না‌মের এক‌টি ছে‌লে মানসুরাকে বিরক্ত কর‌তো বলে শুনেছেন। কয়েকবার বিয়ের প্রস্তাব দিলেও তিনি রাজি হননি।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৫০ নম্বর ওয়া‌র্ড কাউন্সিলর আবু বকর সি‌দ্দিক লাশ উদ্ধারের সময় এলাকায় ছিলেন না। তিনি জানান, সংবাদ পেয়ে সচিবকে পাঠিয়েছিলেন। পরে থানার ওসির সঙ্গে কথা বলেন।
টঙ্গী‌ প‌শ্চিম থানার‌ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম ব‌লেন, এ হত্যায় কারা জড়িত বা কী কারণে হত্যা করা হয়েছে– তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করা হবে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে সায়মা আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা রজু করেছেন।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories