বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ১০:৫১ অপরাহ্ন

গাজীপুরে কলেজ ছাত্রলীগ নেতার পায়ের রগ কেটে দিলো সন্ত্রাসীরা

গাজীপুর প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : সোমবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৩
  • ৫৮ বার

ভাওয়াল বদরে আলম কলেজ ছাত্রলীগে পদপ্রত্যাশী ফেরদৌস (ডানে) ও রবিন সরদার

কলেজে মহড়া দিয়ে গাজীপুরের ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ থেকে ফেরদৌস হাসান নামে এক ছাত্রকে তুলে নিয়ে পায়ের রগ কেটে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ভিকটিম শিক্ষার্থী ফেরদৌস হাসানের মা নাজমা বেগম বাদী হয়ে ছাত্রলীগ নেতা রবিন সরদারসহ ২২ জনের নামে বাসন থানায় মামলা করেছেন। গুরুতর আহত ফেরদৌস হাসানকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেলে তিন থেকে চারটি মোটরসাইকেল, তিনটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও একটি প্রাইভেটকার যোগে ১৫ থেকে ২০ সন্ত্রাসী ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজে আসে এবং মহরা দেয়। এসময় তারা ক্যাম্পাসের সামনে থেকে কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগে স্নাতকোত্তর পর্বের ছাত্র ফেরদৌসকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। পরে ফেরদৌসের অপহরণের সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে তার সহপাঠীরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বিক্ষোভ শুরু করে। তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফেরদৌসকে উদ্ধারের দাবি জানায়। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে মহানগরের শিববাড়ি হলি ল্যাব হাসপাতালের সামনে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেরদৌসকে ফেলে রেখে দূর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন।
অভিযোগ উঠেছে, পূর্ব বিরোধের জের ধরে কলেজ শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি পদপ্রার্থী রবিন সরদারের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জন মিলে ওই শিক্ষার্থীকে প্রকাশ্যে অপহরণ করে নিয়ে এ ঘটনা ঘটায়।

এ ব্যাপারে মামলার বাদী নাজমা বেগম বলেন, আমার ছেলে ফেরদৌস ছাত্রলীগের রাজনীতি করে। মামলায় অভিযুক্ত রবিন সরদার এলাকায় বিভিন্ন অপকর্ম করে বেড়ায়। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে। এসব কারণে ছেলেকে তার সঙ্গে চালাফেরা করতে নিষেধ করি। রোববার রবিন সরদারের নেতৃত্বে আমার ছেলেকে ভাওয়াল কলেজ থেকে অস্ত্রের মুখে তুলে আনা হয়। এ খবর পেয়ে আমি ছাত্রলীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করি এবং বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করি। রাত সাড়ে ১০টার দিকে খবর পাই আমার ছেলেকে গুরুতর আহত অবস্থায় শিববাড়ি এলাকায় ফেলে রাখা হয়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে আমার ছেলেকে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় পাই। সেখান থেকে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আমার ছেলের বাম পায়ের রগ কেটে দিয়েছে দূর্বৃত্তরা। এ ছাড়া তার হাঁটুর নিচে ধারাল অস্ত্রের কোপ এবং বাম চোখে আঘাত রয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় হাসপাতালে তার জ্ঞান ফিরেছে। আমার ছেলে এখন মৃত্যুপথযাত্রী। কিন্তু পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। আমি সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারসহ বিচার চাই।

আহত ফেরদৌস বলেন, ভাওয়াল কলেজে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হওয়ায় রবিন সরদার এবং তার লোকজন আমাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ধরে নিয়ে চাকু দিয়ে আমার পায়ের দুটি রগ কেটে দিয়েছে। আমার মোবাইল ও ফেসবুকসহ সবকিছুর পাসওয়ার্ড নিয়ে আমার ফেসবুক থেকে পোস্ট করে, বন্ধু জীবনে অনেক বেইমানি করছি, অনেক স্বার্থপরতা করছি আমারে মাফ কইরা দিয়ো। আগের মতো বন্ধু হইয়া থাকমু সারা জীবন। আর ভুল করমুনা কোনো সময়…। এরপর সোমবার দুপুর রবিন সরদার ফেসবুক পোস্ট দিয়ে আমাকে জন্মদিনের শুভচ্ছা জানিয়েছে। রবিন সরদার সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করায় আমি তার কাছ থেকে সরে এসেছিলাম। যার কারণে সে আমাকে ধরে নিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
বাসন থানার ওসি আবু সিদ্দিক বলেন, কলেজ ছাত্র ফেরদৌস অপহরণের পর তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় শিববাড়ি হলি ল্যাব হাসপাতালের সামনে ফেলে যায় সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় কলেজ ছাত্রের মা বাদী হয়ে থানায় রবিন সরদারসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে অপহরণ ও মারামারির মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা রবিন সরদারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ২৮টি মামলা রয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories