গত ৯ মার্চ)রাত ১০টা দিকে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের প্রভাকরদী বাজার এলাকায় তার বন্ধু রাসেল মিয়া (২৬) থেকে সিএন জিযোগে নিজ বাড়ি আড়াইহাজারের প্রভাকরদী আসছিলেন। পথে সজীব তার মামা সবুজের (৪০) সাথে দেখা করতে আড়াইহাজারের প্রভাকরদী বাজার সংলগ্ন আবদুর রউফের ভাঙারির দোকানের সামনে কাশবনের মাঠে নামেন। সেখানে যাওয়া মাত্রই এসআই মোজাম্মেলসহ ৫জন তাদের ঘিরে ফেলেন। এসময় মোজাম্মেল তার কাছে থাকা পিস্তল বের করে নিজেদের পুলিশের সদস্য বলে পরিচয় দেন এবং তারা সজীব ও তার বন্ধু রাসেলকে হাতকড়া লাগিয়ে দেন।
এসআই মোজাম্মেলের সঙ্গে থাকা সদস্যরা নিজেদেরকে পুলিশের কনস্টেবল পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এবং সজীবের কাছে থাকা নগদ ৮২ হাজার ৫শ টাকা, তার বন্ধু রাসেলের ৩৫ হাজার টাকা ও দুজনের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে তাদেরকে হাতকড়া পরানো অবস্থায় কাশবনের মাঠ থেকে টেনেহিঁচড়ে রাস্তায় নিয়ে আসেন এবং ধস্তাধস্তি করে একটি সিএনজিতে উঠানোর চেষ্টা করলে। এসময় সজীব ও তার বন্ধুর চিৎকার শুরু করলে কিছু দূরেই টহলরত আড়াইহাজার থানার পুলিশের এএসআই নুরে আলম ও তার সঙ্গীয় সদস্যদের নিয়ে এগিয়ে আসেন।
তাদের পরিচয় জিজ্ঞেসা করলে মোজাম্মেল নিজেদের ডেমরা থানা পুলিশের সদস্য পরিচয় দিলে এএসআই নুরে আলম তাদের পরিচয়পত্র দেখতে চান। তারা নিজেদের পরিচয়পত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়।
গ্রেফতারকৃত উপ-পরিদর্শক মোজাম্মেল হক রাজধানীর ডেমরা থানায় কর্মরত রয়েছেন সে রাজশাহী জেলার বাগমারা থানার ময়েজ উদ্দিনের ছেলে
বাকি সঙ্গীরা হলেন – রূপগঞ্জের ভুলতা এলাকার মাসুদ মিয়ার ছেলে আতিকুর রহমান ওরফে সোহেল (২৯), একই এলাকার মনজুর হোসেনের ছেলে হালিম মিয়া (২০) এবং বিজয় (২৬)।
এ ব্যাপারে শুক্র ১০ মার্চ রাতে ভুক্তভোগী সজিব বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় মামলা দায়ের করলে নারায়ণগঞ্জ জেলা ডিবি পুলিশের ওসি নজরুল ইসলামের মাধ্যমে আদালতে প্রেরন করা হয়। এবং তিনি মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এ বিষয়ে ডেমরা থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি শফিকুর রহমান জানান, সে আমার থানায় কর্মরত ছিল তার এই অপরাধের দায়ভার থানা বহন করবে না। তাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং বিভাগীয় মামলা রুজু করার জন্য আবেদন করা হয়েছে। একজন সদস্যের জন্য গোটা পুলিশের ভাব ক্ষণ করা যাবে না।
আড়াইহাজার থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) নাহিদ মাসুম ডেমরা থানার উপ-পরিদর্শক মোজাম্মেল হক গ্রেফতারের ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এবং , তাদের নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা সংস্থা ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলাটি ডিবি তদন্ত করবেন। যার মামলা নং ২১/৩।
বিষয়টি ছিনতাই আঁচ করতে পেরে এএসআই নুরে আলম আড়াইহাজার থানায় খবর দিলে এসআই নাহিদ মাসুমের নেতৃত্বে অপর পুলিশ টিম ঘটনাস্থলে এসে আসামিদের আটক করা হয়েছে । এসময় অজ্ঞাত এক আসামি পালিয়ে যায়।
Leave a Reply