টঙ্গী বাজার কেন্দ্রীয় সার্বজনিন শ্রী শ্রী দূর্গা মন্দিরের বিয়ে রেজিস্টার ডাক্তার পরিচয়দাতা শংকর দাস কর্তৃক সনাতন নিয়মে (হিন্দু) বিয়ে রেজিস্টার করতে গিয়ে মিথ্যা বিভিন্ন অজুহাতে এবং প্রতারণার কৌশল অবলম্বন করে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার দরিদ্র-মধ্যবিত্ত সনাতন (হিন্দু) সমাজের মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন বিপুল পরিমান টাকা !
সনাতন (হিন্দু) বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ এর ধারা ৪ এর অধীন হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক (রেজিষ্টার) হিসাবে নিয়োগ প্রাপ্ত বা হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক (রেজিষ্টার) সরকারি চাকরিজীবি বটে। গনপ্রজাতন্ত্রীক বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ২৭ জানুয়ারি, ২০১৩ তারিখের ৩১-আইন/২০১৩ নং এস, আর, ও, অনুযায়ী একজন হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক (রেজিস্ট্রার) নিম্ন হারে ফি আদায় করতে পারেন। নিয়োগকৃত নিবন্ধক (রেজিষ্টার) বিবাহ রেজিস্ট্রি ফি নিবেন এক হাজার টাকা। নকল প্রাপ্তি বা পরিদর্শন ফি নেবেন একশত টাকা।
অথচ এসব কোন নিয়মই মানছেন না টঙ্গী এলাকার সনাতন (হিন্দু) বিবাহ নিবন্ধক বা রেজিষ্টার কথিত ডা. পরিচয়দাতা শংকর দাস। বরং টাকা বেশী নেয়ার বিষয়ে কেউ কিছু বললে বা জানতে চাইলে তিনি উল্টো হুমকি দিয়ে থাকেন বিভিন্ন ভাবে। এমনকি টাকার পরিমান কম হলে বিয়ে নিবন্ধন বা রেজিষ্টার করতে অপারগতা প্রকাশ করে প্রভাব খাটান তার স্থানীয় আত্বীয় স্বজনের এমনটাই অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

মন্দির পরিচালনা কমিটির নেতা অমল ঘোষ জানান, মিন্দরে একটি সনাতন (হিন্দু) বিয়ে রেজিস্টার করতে হলে ১১শত টাকা সরকারী খরচ দেয়ার নিয়ম রয়েছ অথচ সরকারী নিয়ম বহির্ভূত ছেলে পক্ষের কাছ থেকে নগদ ৩ হাজার টাকা নেয়া হয়। যা আইন বর্হিভূত। অনেক ক্ষেত্রে রেজিষ্টার শংকর দাস মেয়ে পক্ষের কাছ থেকেও টাকা নিয়ে থাকেন।
বিয়ে রেজিস্টার করার নামে এভাবে এতো বেশী টাকা নেয়া বা দরিদ্র মানুষের টাকা আত্বসাৎ করাকে সম্পূর্ণ সরকারী আইন বহির্ভূত বলে মন্তব্য করেন মন্দির পরিচালনা কমিটির অপর নেতা ইন্দ্রজিৎ সাহা মরণসহ একাধিক নেতৃবৃন্দ । ওই নেতৃবৃন্দ দাবী করেন, শংকর দাস, বিয়ে রেজিস্টারের নামে ছেলে-মেয়ে উভয় পক্ষের কাছ থেকে কয়েকগুন বেশী টাকা নিয়ে মন্দিরসহ হিন্দু সমাজের দূর্নাম করছে্, এটা দু:খজনক । এ রকম একাধিক প্রতারণার অভিযোগ এই রেজিস্টারের বিরুদ্ধে স্থানীয় সনাতন (হিন্দু) সমাজের।
মন্দির পরিচালনা কমিটির অপর নেতা বাবু দীপঙ্কর জানান, আজ আমার ভাতিজার বিয়ে, এজন্য আমি রেজিস্টার শংকর বাবুকে সরকারী নিয়মের বাইরে ৩ হাজার টাকা দিয়ে দেই, তিনি আমার ভাতিজার পরিবারের কাছ থেকে মেয়ের বাড়ির ঠিকানা নিয়ে মেয়ের বাবার কাছ থেকে আরো ৩ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন ! কেনো এমনটা করলেন, জানতে চাওয়ায় তিনি আমার প্রতি ক্ষীপ্ত হয়ে উঠেন ! এটা উচিৎ নয়, মেয়ের বাড়ির লোকজনের কাছে আমাদের সন্মাণহানী করা হয়েছে। তিনি এটা করতে পারেন না। এ নিয়ে স্যোশাল মিডিয়া লেখালেখি হওয়ার পর ডা. শংকর দাস আমাকে ফোন করে টাকা ফেরৎ দিতে চাইলেন, কেনাে ? আমি বিষয়টা জানার পর উনাকে অনুরোধ করেছিলাম টাকাটা ফেরৎ দিন, তখনতো দিলেন না, এমন কি তিনি মন্দিরেও আসলেন না ! আমরা এর প্রতিকার চাই, এই দূর্নীতি পরায়ণ রেজিস্টারের তদন্তমূলক বিচার চাই ।
উল্লেখ্য : ইতিপূর্বে বিয়ে রেজিস্টার সংক্রান্ত এমন বেশ কয়েকটি ঘটনা জানাজানির পর রেজিস্টার নিজেকে একজন স্থানীয় বাসিন্দা ও মন্দির পরিচালনা কমিটির একজন প্রভাবশারী নেতা এবং নিজেকে কোটিপতি দাবী করে ফেইসবুক ম্যাসেঞ্জারে বেশ কয়েকজন হুমকি দেয়ারও অভিযোগ রয়েছে ।
এ ব্যাপারে হিন্দু বিয়ে রেজিস্টার ডা.শংকর দাস এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায় ।
Leave a Reply