জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক, কলামিস্ট, প্রাবন্ধিক, কবি মিল্টন বিশ্বাসকে জঙ্গিগোষ্ঠী কর্তৃক প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করায় তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার দাবি জানিয়েছে ঢাকা মহানগর বঙ্গবন্ধু পরিষদ। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সরদার মাহামুদ হাসান রুবেল সাক্ষরিত এক প্রতিবাদ বিবৃতিতে বলা হয়, হত্যার হুমকি কেবল চরম ধৃষ্টতার পরিচায়ক নয়, মুক্তচিন্তা ও প্রগতিশীলতার পরিপন্থী। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী যেকোনো মানুষের মুক্তচিন্তার আন্দোলনের বিরুদ্ধে এ ধরনের ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র ও প্রকাশ্য হুমকি মানবাধিকারের চূড়ান্ত লঙ্ঘন। এ ঘটনায় আমরা তীব্র ক্ষোভ, নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করছি। পাশাপাশি হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছি। স্বাধীনতাবিরোধী গোষ্ঠীর পাশাপাশি উগ্র-মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী মিল্টন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এ ধরনের হুমকি দিয়ে চরম ধৃষ্টতার পরিচয় দিচ্ছে। এছাড়াও মিল্টন বিশ্বাসকে হত্যার হুমকির অর্থ হচ্ছে স্বাধীন ও মুক্তিচিন্তাকে আঘাত ও বাধাগ্রস্ত করে স্বাধীনতার মূল্যবোধগুলিকে ভূলুণ্ঠিত করা। হত্যার হুমকির বিষয়টি পুলিশের আইজিপির দৃষ্টি আকর্ষণসহ তার নিরাপত্তা প্রদানের অনুরোধ করেছি।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ আলাউদ্দিন সহ এম. মনসুর আলী, প্রফেসর ড. শামসুদ্দীন ইলিয়াস, ড. এ কে এম নুরুজ্জামান, মো. হারুন-অর-রশিদ, ডা. অসিত মজুমদার, সালাউদ্দিন আল আজাদ, মো. আওরঙ্গজেব, একেএম সিদ্দিকুজ্জামান, ড. তপন কুমার সরকার, সঞ্জীব কুমার রায়, মাহাতাব আলি রাশেদ, এস এম ওয়াহিদুজ্জামান মিন্টু, নির্মল বিশ্বাস, লায়ন শোয়েব উদ্দিন সোহেল, আফসা আহমেদ শানু, মো. মাজহারুল ইসলাম, মোহাম্মদ আজিজুর রহমান রাজীব, ডা. মো. কামরুল ইসলাম ইমন, প্রকৌশলী মোহাম্মদ আওয়াল হোসেন হাবিবুর রহমান খোকন, শেখ ইমরান হোসেন, প্রকৌশলী মো. মশিউর রহমান, মো. অহিদুর রহমান, মো. মেহেবুব হাসান, মো. রিয়াজুল ইসলাম শাওন, পারভিন আক্তার নীলা, সাইফুল আলম তুষার, শওকত আকবর, স্বপন রায়, কাজী মাহতাবুল ইসলাম, মো. জাহিদুল ইসলাম, এইচ এম শামীম, মো. জসিম উদ্দিন প্রমুখ।উল্লেখ্য মিল্টন বিশ্বাস। কলামিস্ট, প্রাবন্ধিক, কবি। জন্ম ৮ ফেব্রুয়ারি, খ্রিস্টান পরিবারে। ‘জীবনানন্দ দাশ ও বুদ্ধদেব বসুর কাব্যচিন্তা’ শীর্ষক অভিসন্দর্ভের জন্য ১৯৯৯ সালে এমফিল এবং তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছোটগল্পে নিম্নবর্গের মানুষ’ রচনার জন্য ২০০৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। ২০০০ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে অধ্যাপনার পর বর্তমানে ঢাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক এবং জনসংযোগ প্রধান। ‘শালোম ফাউন্ডেশন’ নামে একটি মানবাধিকার সংগঠনের চেয়ারম্যান এবং বাংলা একাডেমির জীবন সদস্য।
Leave a Reply