গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী পূর্ব থানাধীন হিমারদিঘী এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় ওয়ার্ড যুবদলের নামধারী নেতা টুটুল (৪২) এর সন্ত্রাসী কার্যকলাপে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী।
এলাকাবাসী জানায়, যুবদল নেতা টুটুল স্থানীয় দুটি প্রভাবশালী পরিবারের আত্মীয়তার সুবাধে নিজেকে এলাকার সন্ত্রাসীদের “ডন” হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার অভিপ্রায় বিভিন্ন অপরাধের জড়িয়ে এলাকার সাধারণ মানুষের কারণে অকারণে বেদড়ক মারধর করে আহত করার পর ওইসব আত্মীয়-স্বজনদের দিয়ে তা আপোষ মিমাংশার নামে সাধারণ মানুষদের সাথে প্রহসন সৃষ্টিসহ আতংক সৃষ্টিসহ করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এছাড়া টুটুল প্রায়ই এলাকায় এধরণের ঘটনা ঘটিয়ে থাকে। তার বিরুদ্ধে টঙ্গী পূর্ব থানায় বিভিন্ন অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে স্থানীয় একাধিক লোকজন জানান।
গত ১৮ জানুয়ারী ২০২৩ ইং হুমায়ুন কবীর নামে এক ব্যবসায়ী কর্তৃক টঙ্গী পূর্ব থানায় দায়েরকৃত অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, গত ১৮ জানুয়ারী সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় টঙ্গীর ৪৬ নং ওয়ার্ডে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৪৬ নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি প্রার্থী মোঃ টুটুল ও তার সহযোগী সন্ত্রাসীরা বাহিনীর সদস্যরা মিলে একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ট্রাক হেলপার হাসান (১৮)কে এলোপাথারী পিটিয়ে গুরতর আহত করে এবং ট্রাক চালক মো. এরশাদ(২৮)সহ ট্রাকটি কয়েক ঘন্টা আটক রাখে। খবর পেয়ে ট্রাক মালিক ব্যবসায়ী ব্যবসায়ী মোঃ হুমায়ূন কবির ঘটনাটি জানতে ও ট্রাকসহ চালক এবং আহত হেলপারকে আনতে গেলে টুটুল তাকে মারধর করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়।

ভূক্তভোগী ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবির জানান, ট্রাকে মালামাল লোড করার সময় টুটুলের ৮ বছর বয়সী ছেলে ওইখান দিয়ে যাচ্ছিলো, কোন দূর্ঘটনা ঘটতে পারে আশংকায় ট্রাক হেলপার হাসান ওই শিশু ছেলেটিকে সেখান থেকে একটু দুর দিয়ে যেতে বলে। দুর দিয়ে যেতে বলার বিষয়টি ওই ছেলে তার বাবা টুটুলকে জানায়। টুটুল (দুর দিয়ে যেতে বলার) বিষয়টি জানতে পারে এবং ক্ষীপ্ত হয়ে তার সহযোগীদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রাক হেলপার হাসানকে বেদড়ক মারধর করে। এ সময় হাসানের ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন এবং ট্রাক চালক এসে হেলপারকে উদ্ধার করে টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেন। এদিকে টুটুল ও তার লোকজন ট্রাকসহ চালক এরশাদকে আটকে রাখে। পরে খবর পেয়ে ট্রাক মালিক ও ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবির ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি জানার পর হেলপার হাসানকে নিয়ে টুটুলের কাছে মাফ চাইতে বলে। ততাপিও টুটুল স্থানীয় প্রভাব দেখিয়ে অকারণে ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবীরকে মারধর করে প্রাণনাশসহ পরিবহন ব্যবসা কিভাবে করে তা দেখে নেয়ার হুমকি দিয়ে চলে যায়। এ ঘটনায় হুমায়ুন কবীর বাদী হয়ে টঙ্গী পূর্ব থানায় টুটুলসহ ৪/৫ জনকে অভিযুক্ত করে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগটির তদন্ত করছেন এস আই মনির হোসেন।
এস আই মনির হোসেন জানান, অভিযোগ পেয়ে দু-দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে পাইনি, তবে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। এ ব্যাপারে বাদী যা চাইবেন, সে ভাবেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে যুবদল নেতার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার ছেলের সাথে খারাপ ব্যবহার করায় আমি তাদেরকে কয়েকটি চর থাপ্পড় মেরেছি, তখন আমার মাথা ঠিক ছিল না। শুনেছি তারা থানায় অভিযোগ করেছে এবং পুলিশ এসে তদন্ত করে গেছে।
এ ব্যাপারে টঙ্গী পূর্ব থানার অফির্সাস ইনচার্জ বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত চলছে এবং ঘটনার সত্যতাও পাওয়া গেছে, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Leave a Reply