বিশ্ব ইজতেমার তৃতীয় দিন রোববার আখেরী মোনাজাতের মধ্যদিয়ে শান্তিপূর্ণ ভাবে শেষ হলো ২০২৩ এর বিশ্ব ইজতেমা। মোনাজাত শেষে মুসল্লিদের বাড়ি ফেরার অপেক্ষা। সৃষ্ট যানবাহন সংকট আর যানজটে পড়ে চরম দূর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে মুসল্লিদের। যানবাহনের অভাবে এবং কয়েকগুন ভাড়া বৃদ্ধির কারণে মুসল্লিরা ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। অন্যদিকে ইজতমো ময়দানে রোববার বার্ধক্যজর্নিত কারণে আরো ১ মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে বলেও জানা গেছে।
জানা যায়, টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রোববার সকালে আরোও এক মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। ওই মুসল্লির নাম আনিসুর রহমান (৭১), তিনি ঢাকার বংশালের কাজী আলাউদ্দিন রোড এলাকার বাসিন্দা ছমির উদ্দিনের ছেলে। এ নিয়ে এবারের বিশ^ ইজতেমা ময়দানে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে গণপরিবহন সংকটে পড়ে পায়ে হেঁটে আশপাশের থানা এলাকায় ফিরতে হচ্ছে মুসল্লিদের।
টঙ্গীর তুরাগ তীরে আখেরি মোনাজাতে অংশ নেওয়া মুসল্লিরা বাড়ি ফেরার সময় পরিবহন সংকটে ভোগান্তিতে পড়েছেন। মোনাজাতের পরপরই ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, টঙ্গী-পুবাইল, টঙ্গী-বনমালা আঞ্চলিক সড়ক, টঙ্গী-আব্দুল্লাহ্পুর, টঙ্গী-কামারপাড়া ও আশুলিয়া, ঢাকা সড়কে মুসল্লিদের ঢল নেমেছে। দুই একটি পিকআপ ও মোটরসাইকেল ছাড়া মুসল্লিরা নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশে পায়ে হেঁটে রওনা দিয়েছেন।
কোনাবাড়ি থেকে রোববার সকালে আখেরি মোনাজাতের উদ্দেশ্যে এসেছিলেন আমান উল্লাহ। তিনি বলেন, হেঁটে, অটোরিকশায় ইজতেমা মাঠে এলেও ফিরতে হবে পায়ে হেঁটে, এছাড়া কোন উপায় দেখছি না। তাই জোট বেধে জিকিরে ইজতেমা এলাকা থেকে কোনাবাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছি। আজ সকালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, টঙ্গীর কামারপাড়াসহ আশপাশ এলাকায় মুসল্লিদের ঢল নামে। ৯টা ৫৮ মিনিটে আখেরি মোনাজাত শুরু হয়ে ১০টা ২০ মিনিট পর্যন্ত তা স্থায়ী থাকে। আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন কাকরাইল মারকাজের তাবলিগ জামায়াতের সুরা সদস্য ও শীর্ষস্থানীয় নেতা মাওলানা কারী মাওলানা মু. যোবায়ের হাসান। মোনাজাতের পরপরই আখেরি মোনাজাতের উদ্দেশে আসা মুসল্লিরা ইজতেমা এলাকা ছাড়ছেন। তবে খিত্তায় অবস্থান নেওয়া মুসল্লিরা পর্যায় ক্রমে ময়দান ছাড়বেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আগামীকাল পর্যন্ত ময়দানে অবস্থান করবেন।
Leave a Reply