বৃহস্পতিবার, ০৮ জুন ২০২৩, ১২:০০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
টঙ্গীতে নারী মাদক ব্যবসায়ীসহ গ্রেফতার-২ টঙ্গীতে পা পিছলে ট্রেনের চাকায়, প্রাণ গেল পুলিশ সদস্যের হালুয়াঘাটে ট্রাক চাপায় প্রাণ গেল মাছ ব্যবসায়ীর হালুয়াঘাটে জলবদ্ধতা নিরসনে বিভিন্ন স্থান পরিদর্শনপৌর মেয়র খায়রুল আলম ভূঞার প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা হুমকির প্রতিবাদে হালুয়াঘাটে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের মানববন্ধন রাজধানীসহ আশপাশের জেলায় বিভিন্ন বাসা বাড়িতে ঢুকে চুরি ও মাদক ব্যবসা করতো তারা হালুয়াঘাটে বজ্রপাতে স্কুল ছাত্র নিহত আমার ভোটের হিসাব পেয়েছি, প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ: জায়েদা খাতুন গাজীপুর সিটি নির্বাচন: সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ড কাউন্সিলর হলেন যাঁরা গাজীপুর সিটিতে কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত হলেন যাঁরা

টঙ্গীতে গৃহবধু রুনা-হত্যা নাকি আত্বহত্যা ? গভীর রাতে এলাকা থেকে লাশ নিয়ে পালিয়েছে স্বামী ফিরোজ

গাজীপুর প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : রবিবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২৩
  • ১১৫ বার

টঙ্গীতে মিথ্যা তথ্যদিয়ে রুনা আক্তার (২৬) নামে এক দরিদ্র মেয়ে বিয়ে করার পর অমানুষকি নির্যাতন অত্যাচার অবশেষে রহস্যজনক মৃত স্ত্রীর লাশ নিয়ে গভীর রাতে ভাড়া বাসা থেকে লা-পাত্তা স্বামী ফিরোজ হাওলাদার (৪২)। এ নিয়ে এলাকায় গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, ঝালকাটি জেলার রাজাপুর থানার পুটিয়াখালী গ্রামের আবদুর রব হাওলাদার ও জামিনা খাতুনের ছেলে মো. ফিরোজ হাওলাদার গত ৪/৫ বছর আগে পূর্বে বিয়ে করা স্ত্রী ২ সন্তানের কথা গোপন রেখে নারায়নগঞ্জ জেলার রুপগঞ্জ থানার তারাব পৌরসভাধীন দক্ষিন রুপসী গ্রামের দরিদ্র মো. জয়নাল মিয়া ও মিনারা বেগমের মেয়ে টঙ্গীর উত্তর আরিচপুর এলাকার অস্থায়ী বাসিন্দা মোসা : রুনা আক্তারকে বিয়ে করে। বিয়ের কয়েকদিন পর রুনা জানতে পারেন কাভারভ্যান চালক স্বামী ফিরোজের স্ত্রী এবং ২ সন্তান রয়েছে। বড় ছেলে মো. মুসা হাওলাদার (১৮) মহাখালীর ওই কাভারভ্যান কোম্পানীর কর্মচারী। সংসারের অভাব অনটন ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী স্ত্রী ও সৎ সন্তানের মধ্যে প্রায় ঝগড়া হতো। প্রায়ই ফিরোজ ও তার বড় ছেলে মুসা মিলে রুনাকে এ সংসার ছেড়ে চলে যেতে প্রাণনাশের হুমকিসহ মারধর ও অমানুষিক নির্যাতনও করতো। ঘরের বাজার, বাসাভাড়া এবং খরচাদি না দেয়ায় রুনা আক্তার এ বাড়ি ও বাড়ি ঝিয়ের কাজ করে সংসার চালাতো। গত কয়েক মাস পূর্বে টঙ্গীর উত্তর আরিচপুরস্থ গাজীবাড়ি পুকুর পাড় এলাকার আমিন উদ্দিনের বাড়িতে টিনসেড রুম ভাড়া নিয়ে ফিরোজ ও তার বড় ছেলে মুসা হাওলাদারসহ রুনা আক্তার বসবাস শুরু করে। অভাব অনটন রুনার নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়ায়, তার উপর সতীনের ছেলে মো. মুসা ও স্বামী মো. ফিরোজের শারীরিক নির্যাতন অত্যাচার তো আছেই। গত ২ জানুয়ারী ২০২৩ ইং সোমবার গভীর রাতে ফিরোজ ও তার বড় ছেলে মিলে রুনাকে বেধড়ক মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরতর জখম ও আহত করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বাসা থেকে চলে যায়। পরদিন ৩ জানুয়ারী ২০২৩ ইং মঙ্গলবার দুপুরে আহত রুনা আক্তার মুখ টঙ্গী পূর্ব থানা সংলগ্ন বস্তিতে বসবাসরত (পূর্ব পরিচিত) বাবুর্চি জসিমের স্ত্রীর সাথে দেখা করতে যায়।
বাবুর্চি জসিমের স্ত্রী জানায়, রুনা আমাদের পাশের রুমে ভাড়া থাকতো, সেই সূত্রে পরিচয়। গত মঙ্গলবার দুপুরে হঠাৎ সে আমার কাছে আসে এবং কান্না করতে থাকে। এ সময় তার মুখ কাপড় দিয়ে বাঁধা ছিলো। এ সময় আমার সাথে আমার স্বামীও ছিলো। কেনো কাঁদছনে-কোন সমস্যা হয়েছে কি না জানতে চাইলে, রুনা আমাদের জানায়, তার স্বামী ও বড় ছেলে মিলে মেরেছে, আমাকে মেরে ফেলার হুমকিও দিয়েছে। মুখের কাঁপড় সরিয়ে দেয়ার পর দেখি রুনার মুখে মারের দাগ, শরীরেও মারের দাগ ছিলো। প্রায়ই নাকি তার স্বামী ও সৎ ছেলে মিলে মারধর করতো এবং প্রাণনাশের হুমকি দিতো। সে সময় আমরা তাকে থানায় জিডি বা অভিযোগ দিতে বলি, কিন্তু সে পরে আসবে বলে আমাদের জানায় এবং ওই দিন আমাদের এখান থেকে খাবার খেয়ে চলে যায়। এর একদিন পর লোকমুখে জানতে পারি-রুনা বিষ খেয়ে মারা গেছে।
এদিকে, বাড়ির মালিক মো. আমিন উদ্দিন জানান, আমি বিস্তারিত কিছু জানি না, ৬ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার সকাল ৭ টার দিকে রুনার স্বামী ফিরোজ আমাকে জানায়, রুনা অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি আছে। দুপুরের পর তার বড় ছেলে এসে জানালো রুনা বিষ খেয়ে মারা গেছে। লঅশ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে দাফন করা হয়েছে। কোথায় দাফন করেছে তা বলেনি। পরে জানতে পারলাম, গত ৫ জানুয়ারী বুধবার রাত প্রায় সাড়ে ১২ টায় ড্রাইভার ফিরোজ তার অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে গেছে। কোন হাসপাতালে গেছে সেটাও জানি না। রুনা ফিরোজ আমার ভাড়াটিয়া,তাদের পারিবারিক ভালোমন্দ কোন বিষয় কখনো আমাকে জানায়নি,আমি জানতেও চাইনি। মারামারির মতো কােন ঘটনা ঘটেছে কি না তা আমার জানা নেই।
এলাকায় গুঞ্জন উঠেছে, ফিরোজ ও তার ছেলে মুসা মিলে রুনাকে হত্যার পর লোক জানাজানির ভয়ে গভীর রাতে লাশ তাদে গ্রামের বাড়ি ঝালকাটির রাজাপুরে নিয়ে গেছে। আবার কেউ কেউ বলছেন, রুনার লাশ তার পিত্রালয় নারায়নগঞ্জের রুপগঞ্জ থানাধীন তারাব পৌরসভার দক্ষিন রুপসী নিয়ে দাফন করেছে।
আত্বহত্যা হোক বা হত্যা ঘটনার রাত সাড়ে ১২ টা থেকে সকাল ৭ টার মধ্যে একটি নারীর রহস্যজনক মৃতদেহ টঙ্গীর পূর্ব থানাধীন উত্তর আরিচপুর থেকে নারায়নগঞ্জের তারাব পৌরসভার দক্ষিন রুপসী গ্রামে অথবা ঝালকাটি জেলার রাজাপুর থানাধীন পুটিয়াখালী গ্রামে নিয়ে তড়িগড়ি কওে দাফন সম্পন্ন করার নেপথ্য রহস্য নিয়ে জনমনে গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে ঘটনার পর থেকে পিতা মো. ফিরোজ হাওলাদার ও ছেলে মো. মুসা হাওলাদারের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে স্থানীয় লোকজনসহ বাড়িওয়ালা আমিন উদ্দিন জানান। এছাড়া রুনার পরিবারের কোন লোকজনও রহস্যজনক কারণে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে কারো সাথে যোগাযোগ করেনি বলেও জানান বাড়িওয়ালা। ফলে, এ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবী করেছেন স্থানীয়রা।
এদিকে, মো. ফিরোজ হাওলাদার মহাখালী থেকে পরিচালিত একটি ডিষ্ট্রি কাভারভ্যান কোম্পানীর কাভারভ্যান চালক এবং ছেলে মো. মুসা হাওলাদার ওই কোম্পানীর একজন কর্মচারী হিসেবে কাজ করে বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories