টঙ্গী পূর্ব থানার মূল ফটকের সামনে যানজট নিরসনের নামে জাপানী নামে এক চিহ্নিত চাঁদাবাজ কৌশলে স্থানীয় থানা পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে তার সহযোগীদের নিয়ে ইজিবাই ও অটোরিকশা চালকের সাথে যোগসাজশ করে স্ট্যান্ড বসিয়ে ইজিবাই ও অটোরিকশা প্রতি ২০/৫০ টাকা করে জিপি উত্তোলনের নামে একছত্র নীরব চাঁদাবাজী করছে।
ফলে থানার গেইটের সামনে নিত্য যানজট সৃষ্টিসহ স্কুল কলেজগামী ছাত্রছাত্রী, অফিস আদালতগামী কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সাধারণ পথচারীদের যাতায়াতে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া জরুরী কাজে টঙ্গী পূর্ব থানা থেকে গাড়ী নিয়ে বের হতে গিয়ে থানার পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরম্ভনার শিকার হতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। অথচ স্থানীয় থানা কর্তৃপক্ষ থানা ভবনের সামনে এবং দত্তপাড়া ও জয়দেবপুরগামী সড়কটি যানজট মুক্ত রাখতে এই স্ট্যান্ডটি এখান থেকে একাধিকবার সরিয়ে দিলেও পূনরায় এক অদৃশ্য শক্তির ক্ষমতাবলে আবারো সেখানে স্ট্যান্ড বসানোসহ চাঁদাবাজি চলছে।
স্থানীয় লোকজন বলেন, স্ট্যান্ড সংলগ্ন একটি সরকারী সেবামূলক আইনপ্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের মূল ফটকের সামনে স্ট্যান্ড বসিয়ে যানজট নিরসনের নামে প্রকাশ্যে কি করে চাঁদাবাজি করছে, জাপানী ওরফে নোয়াখাইল্যা জাপানী ও তার সহযোগীরা তা কারো বোধগম্য নয়!

একটি বিশেষ সূত্র জানায়, জাপানী দীর্ঘদিন টঙ্গীতে বসবাসের সুবাধে টঙ্গী পূর্ব থানা গেইটের মোড়ে টঙ্গী বনমালা ও জয়দেবপুর সড়কের যানজট নিরসনের অজুহাতে স্থানীয় ট্রাফিক পুলিশসহ প্রশাসনের বিভিন্ন উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে কাড়ে। এরই সুবাধে স্ত্রী পূত্র নিয়ে দিনাতিপাত করার অজুহাতে টঙ্গী পূর্ব থানার মূল ফটকের সামনে জয়দেপুরগামী অটোরিকশা এবং ইজিবাইক এনে জড়ো করে অস্থায়ী স্ট্যান্ড গড়ে তুলে এবং প্রতিটি ইজিবাইক ও অটোরিকশা থেকে ২০ থেকে ৫০ করে প্রতিদিন ৫/৭ হাজার টাকা চাঁদা উঠিয়ে সে ও তার সহযোগীরা হাতিয়ে নেয়। এসব টাকার একাংশ স্থানীয় নামধারী নেতাদের দেয়া হয় বলেও জানা যায়। এছাড়া প্রতিদিনের উত্তোলিত চাঁদার টাকায় স্ত্রী বা পরিবারের সদস্যদের চাহিদা মেটাতে না পারলেও জাপানী ওই উত্তোলিত টাকা নিয়ে বহিরাগত দুই সুন্দরীর মহিলার পেছনে খরচ করেন এবং আনন্দ উল্লাসে দিনযাপন করে থাকেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে জাপানী নিজেকে স্থানীয় থানা পুলিশ এবং ট্রাফিক পুলিশের একজন সহকর্মী বলে দাবী করে চাঁদা উঠায় এবং কোন ইজিবাইক ও অটোরিকশা চালক চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করলে জাপানী ও তার সহযোগীরা চালকদের বাপ-মা তুলে গালিগালাজ এবং অটোরিকশা ও ইজিবাইক ট্রাফিক পুলিশসহ থানা পুলিশ দিয়ে আটকের ভয় দেখান বলে একাধিক চালকরা জানান।
এব্যাপারে জাপানীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, স্থানীয় প্রশাসন আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে এই রোড থেকে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করার এবং যানজট মুক্ত রাখার। বিনিময়ে ড্রাইভাররা খুশি হয়ে আমাদের ১০/২০ টাকা করে দেন, সেই টাকা দিয়ে আমাদের সংসার খরচ চলে। স্থানীয় প্রশাসন আমাদের আসতে বারণ করলে আমরা আসবো না।
স্থানীয় লোকজনের দাবী, থানার সামনে মোড়সহ দত্তপাড়া জয়দেবপুর সড়কটি যানজট মুক্ত রাখতে অনতিবিলম্বে থানা গেইট থেকে উক্ত স্ট্যান্ড সরিয়ে দেয়াসহ চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহনে আইনশৃংখলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ গ্রহন করা উচিৎ।
Leave a Reply