টঙ্গীর মরকুন কবরস্থান এলাকায় এক পোষাক কর্মীকে গণ ধর্ষণ ঘটনায় গত মঙ্গলবার সকালে টঙ্গী পূর্ব থানায় দায়েরকৃত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ধর্ষকদের ধরতে গেলে তাদের সাথে পুলিশের মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে থানায় আরো একটি মামলা দায়ের করেছে। ঘটনার পর টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ দুই ধর্ষণকারীসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করে গতকাল বুধবার আদালতের মাধ্যমে জেলে প্রেরণ করেছে।
থানায় দায়েরকৃত এজাহার সূত্রে জানা যায়, পোশাক কর্মী ধর্ষিতা ওই যুবতীর সাথে ৭মাস পূর্বে টঙ্গীর ৪৭ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক প্রাথী এবং ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার বিভাগের ছাত্র আসাদুজ্জামান শাওনের (২১) ফেসবুকে পরিচয় হয়। পরে মোবাইল ফোনে কথা বলা থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এক পর্যায়ে প্রেম গভীর হলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে লাগাতার ধর্ষণ করে শাওন। এর ধারাবাহিকতায় গত ২৯ তারিখ ধর্ষিতাকে প্রেমিকের বাসায় আসতে বললে সে রাজি হয়নি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শাওনসহ তার বন্ধুরা মিলে মোবাইল ফোনে ধর্ষিতাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। প্রাণ বাচাঁতে একই দিন গভীর রাত দেড়টার দিকে সে প্রেমিকের বাসায় যাওয়ার পথে মরকুন কবরস্থান এলাকায় পৌছলে পূর্ব থেকে উৎপেতে থাকা শাওন, তার বন্ধু বাবুল হোসেন বাবু ওরফে ফরমা বাবু (২৪) ও রিপন মিয়া (২৭) মুখ চেপে ধরে কবরস্থানের ভিতরে নিয়ে যায়। পরে তাকে পালাক্রমে রাতভর ধর্ষণ করে। এ সময় ধর্ষিতা ডাক চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে ঘটনাস্থলের পাশে একটি বাড়িতে নিয়ে যায়। উদ্ধারকারীরা জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯- এ অবহিত করলে পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে ধর্ষক বাবুল হোসেন বাবু ওরফে ফরমা বাবুকে গ্রেফতার করে। বাবুর দেওয়া তথ্যমতে আসাদুজ্জামান শাওনকে মঙ্গলবার দুপুওে ধরতে গেলে বাবুর বাবা লুৎফর রহমান কালুসহ ধর্ষক রিপন মিয়ার লোকজন পুলিশের ওপর চড়াও হয় এবং একজন এসআইসহ পুলিশ সদস্যদের মারধর করে।এতে পুলিশ সদস্য আমজাদ শরিফ গুরুতর আহত হয়। তাকে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এঘটনায় ১২জনকে এজাহারভুক্ত ও ১০/১২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে থানায় পৃথক আরো একটি মামলা করা হয়। পুলিশ এ মামলায় ধর্ষণকারী হিসেবে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মী আসাদুজ্জামান শাওন এবং শাওনের বাবা স্থানীয় ৪৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক এবং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি প্রার্থী লুৎফর রহমান কাল্লু তার দুই স্ত্রী ফাতেমা বেগম ও সনি বেগমকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে।
এবিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ আশরাফুল ইসলাম বলেন, গণ ধর্ষণ ও হামলার ঘটনায় থানায় পৃথক দুই মামলা দায়ের করে দুজন ধর্ষণকারীসহ পাচঁজনকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করেছি। বাকিদের ধরার অভিযান অব্যাহত আছে।
Leave a Reply