বহুদিন ধরেই বিভিন্ন কৌশলে নারী দিয়ে ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায় করত সংঘবদ্ধ চক্রটি। যেকোনো ব্যবসায়ীকে টার্গেট করে কাজের কথা বলে বাসায় এনে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মুক্তিপণ আদায় করত তারা। শুক্রবার এই চক্রের মূল হোতাসহ দুই সদস্যকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ।
গ্রেফতার চক্রের সদস্যরা হলো-নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানার শরিফুল ইসলাম সোহাগ (৩০) ও পাইনাদী এলাকার মনির হোসেন ওরফে চান্দু মনির। সোহাগ এই চক্রের মূল হোতা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মাহাজাব উদ্দিন আদেল নামের একজন প্রিন্টিং ব্যবসায়ীকে প্রিন্টিংয়ের কাজ দেওয়ার কথা বলে অপহরণকারী চক্রের মুক্তা (২৬) নামের এক নারী সদস্য। ব্যবসায়ীর ফোনে কল দিয়ে কিছু প্রিন্টের কাজ আছে বলে দেখা করতে বলে ওই নারী। পরে ওই ব্যবসায়ীকে সে মৌচাক এলাকায় যেতে বলে। মাহাজাব আদেল মৌচাক পৌঁছলে ওই নারী তাকে মৌচাক মাদরাসা রোডের নিজাম উদ্দিনের পাঁচ তলার একটি রুমে নিয়ে যায়। সেখানে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আগে থেকেই ওত পেতে ছিল ১০-১১ জন। রুমে ঢুকলেই মাহাজাবকে চোখ-মুখ বেঁধে মারধর শুরু করে তারা।
একপর্যায় ভুক্তভোগীর কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে চক্রটি। মারধর সহ্য করতে না পেরে মাহাজাব তার মোবাইল থেকে স্ত্রী ঝরনা আক্তার নদীর ফোনে কল দিয়ে টাকা পাঠাতে বলেন। স্ত্রী টাকা পাঠাতে দেরি করায় ভুক্তভোগী তার বন্ধুদের কাছে টাকার জন্য ফোন দেন। পরে বন্ধু মোস্তফা ১৫ হাজার টাকা, মাসুদ ৫০ হাজার এবং রাকিব ৪০ হাজার টাকাসহ মোট এক লাখ পাঁচ হাজার টাকা পাঠান। এ ছাড়া ভুক্তভোগীর কাছে থাকা ১৭ হাজার টাকাসহ এক লাখ ২২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় তারা। বাকি টাকা সংগ্রহ করতে না পেরে নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগীর স্ত্রী পুলিশকে জানালে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের গ্রেফতার করে পুলিশ।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মশিউর রহমান বলেন, ‘ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দুজন আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। আসামিদের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
Leave a Reply