গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী পাগাড় শফিউদ্দিন রোড আমবাগান এলাকায় ভাবীকে মোবাইল ফোনে প্রতিনিয়ত উত্যক্ত করার প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় চিহ্নিত অস্ত্রধারী বখাটে ইমরান ও বিশাল বাহিনী সংঘবদ্ধ হয়ে একটি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুরসহ ওই নারীর স্বামী ও দেবরকে হত্যার হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা যায়, টঙ্গীর পাড়ার এলাকার বখাটে ও অস্ত্রধারী যুবক ইমরান হোসেন একই এলাকার বাসিন্দা রবিউল ইসলাম রবি’র গার্মেস স্ত্রী জেসমিন আক্তারের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে ইমুতে প্রায়ই উত্যক্ত করে এবং আজে বাজে ম্যাসেজ দেয়। বিষয়টি জেসমিন আক্তার তার স্বামী রবিউল এবং দেবর গার্মেন্টসকর্মী শিবলুকে জানায়। শিবলু বিষয়টি জানতে পেরে পূর্ব পরিচিত ইমরানকে তার ভাবীর নম্বরে ম্যাসেজ দিতে বারণ করে। বারণ না শুনে ইমরান উল্টো তাকে হুমকি দেয়। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে মোবাইল ফোনে বাকবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে ক্ষীপ্ত হয়ে ইমরান তার একান্ত সহযোগী স্থানীয় মুসলিম মিয়ার ছেলে বিশাল (২৪) এর নেতৃত্বে শহিদ মিয়ার ছেলে রতন (২৩) হীরা (১৭), মৃত আয়াত আলীর ছেলে যোবায়ের (২৭), মেহেরাজ (২১), শাকিল (২৪) পলাশ (২২) রাজন (২০) সহ অজ্ঞাতনামা আরো ৫/৬ জন মিলে ধাঁরালো অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রবি ও তার ভাই শিবলুকে হত্যার উদ্দ্যেশ্যে এলাকায় খুঁজতে থাকে। তাদের দু-ভাইকে না পেয়ে সন্ধ্যা ৭ টায় প্রকাশ্যে তাদের ভাড়া বাসায় (আমবাগানস্থ জনৈক আমিনুর রহমানের বাড়িতে) হামলা চালিয়ে বখাটে এবং অস্ত্রধারীরা বাড়ির গেইট, জানালা ভাংচুর করে ব্যাপক ক্ষতি করে এবং প্রকাশ্য হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যায়। এঘটনায় অস্ত্রধারী বখাটেদের তান্ডবে এলাকায় আতংকের সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয় লোকজন ভয়ে বাড়ির দরজা জানালা ও স্থানীয় দোকানপাট বন্ধ করে দেয়।

স্থানীয় একাধিক লোকজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এই চক্রটি প্রায়ই ধাঁরালো অস্ত্রসহ বিভিন্ন অস্ত্র হাতে নিয়ে দল বেঁেধ এলাকায় মহরা চালায় এবং এলাকাবাসীর মধ্যে আতংক সৃষ্টি করে। এই চক্রের প্রধান ইমরান ও তার বাহিনী গত জুন মাসে ঝিনু মার্কেটের বাসিন্দা গৃহিনী ইসরাত জাহান ঈশা (২৩) কে উত্যক্ত করার পর ওই নারীর স্বামী রাজু প্রতিবাদ করায় গত ২৭ জুন দুপুর সাড়ে ১২ টায় ইমরান, রতন ও হীরার নেতৃতে প্রকাশ্যে ঈশার স্বামী আরিফুল ইসলাম রাজু (২৪) কে দুই হাত ও পায়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে।
এ ব্যাপারে মুসলিম মিয়ার ছেলে বিশাল জানায়, আমার এক ছোট ভাই ইমরান অন্যায় কিছু করেনি। ভূলবশত একটা ঘটনা ঘটেছে। ইমরান কোন অন্যায় করলে নিশ্চয়ই তার বিচার হতে পারতো, তা না করে রবি ভাই আমাদের বড় ভাইয়ের মতো, তিনি ইমরানকে মারলো কেনো ? তাই ক্ষোভে ও রাগে ইমরানকে মারধর করার কথা জানতে পেরে ইমরানসহ আমরা ওখানে গিয়েছিলাম।
এ ব্যাপারে রবিউল ইসলাম রবি জানায়, আমার স্ত্রীকে ইমরান উত্যক্তসহ মোবাইল ফোনের ইমুকে বাজে ম্যাসেজ দেয়, এর প্রতিবাদ করায় বিশাল ও ইমরানের নেতৃত্বে উপরোক্ত ছেলেরা আমাকে ও আমার ভাই শিবলুকে হত্যার উদ্দ্যেশ্যে আমার ভাড়া বাসায় এসে আমাদের না পেয়ে ভাংচুর করে এবং হত্যার হুমকি দিয়েছে। আমি এ বিষয়ে অঅইনগত ব্যবস্থা নেবো।
হামলায় ক্ষতিগ্রস্থ আমিনুর মিয়ার বাড়ির কেয়ার টেকার মিজান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, এঘটনায় থানায় অভিযোগ দেয়ার প্রস্তুতি চলছে।
Leave a Reply