গাজীপুরের বাসন থানাধীন নাওজোর দক্ষিনপাড়া গ্রামের মো. শাহজাহানের বাসায় ২৬ সেপ্টেম্বর সোমবার গভীর রাতে হামলা চালিয়েছে মেয়ের জামাই। এ সময় শ্বাশুড়ি ফরিদা বেগম (৪৮) কে কুপিয়ে গুরতর আহত করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুটপাট করেছে মেয়ের জামাই মো. জাহাঙ্গীর (২৩)। খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং গুরতর আহত ফরিদা বেগমকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় এবং থানায় দেয়া অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, একই থানা এলাকার ইঠাহাটা মধ্যপাড়া গ্রামের মো.সাইদুল ইসলামের ছেলে মো. জাহাঙ্গীর (২৩) এর সাথে গত ২২ জানুয়ারী ২০২১ ইসলামকি শরীয়া অনুযায়ী সামাজিকভাবে মো. শাহজাহানের মেয়ে সীমা আক্তার (২০) এর বিবাহ হয়। বিবাহের পর থেকে জাহাঙ্গীরসহ তার পিতা ও পরিবারের লোকজন মিলে সীমার পরিবারের লোকজনের কাছে যৌতুক দাবী করে সীমাকে মারধরসহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিলো। এক মাত্র মেয়ে নির্যাতনের কথা ভেবে শাহজাহান ও তার স্ত্রী মিলে ছেলের পরিবারকে একাধিকবার মোটা অংকের টাকা যৌতুক প্রদান করেন। ততাপিও মেয়েকে নির্যাতন অত্যাচার করায় মেয়ে গাজীপুর বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্রুনাল আদালতের শরনাপন্ন হয়ে সিপি মোকদ্দমা নং-৯৮/২০২২ ইং, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী/২০০৩) এর ১১(গ)/৩০ ধারায় একটি সিআর মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে উক্ত মামলায় বিবাদী মো. জাহাঙ্গীর গ্রেফতার হওয়ার পর ২১ সেপ্টেম্বও ২০২২ ইং আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে এসে সীমা অঅক্তারসহ তার মা বাবাকে প্রকাশ্যে খুন জখম এবং প্রাণনাশসহ বিভিন্ন প্রকার হুমকি প্রদান করে। ওই ঘটনার সূত্র ধরে ২৬ সেপ্টেম্বও ২০২২ ইং সোমবার গভীর রাত ১১ টা ৫০ মিনিটে জাহাঙ্গীর তার শ্বশুড় শাহজাহানের অনু-উপস্থিতিতে শ্বাশুড়ালয়ে গিয়ে বাসার দরজায় ডাকা-ডাকি শুরু করলে তার শ্বাশুড়ী দরজা খুলে দেন। এ সময় জাহাঙ্গীর বাসায় শ্বাশুড়িকে একা পেয়ে এবং কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই কিল ঘুষিসহ বেদড়ক মারধর এবং হত্যার উদ্দেশ্যে দেশীয় ধাঁরালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করে। এছাড়া ঘরের আলমারী ভেঙ্গে আলমারীতে রক্ষিত নগদ ৪ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকা ও ৪ ভরি বিভিন্ন ধরনে স্বর্ণের গহনা লুট করে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে বাসন থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন নির্যাতনের শিকার ফরিদা বেগম। এদিকে ঘটনার সময় গুরতর আহত ফরিদা বেগমের ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে গুরতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় ফরিদা বেগমকে গাজীপুরস্থ শহীদ তাজ উদ্দিন আহম্মেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। খবর পেয়ে বাসন থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে ফরিদা বেগম জানান, আমার মেয়ে সীমাকে নিয়ে তার স্বামী জাহাঙ্গীরের সাথে ঝামেলা চলছে। আদালতে এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলা করার পর থেকে জাহাঙ্গীর আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করবে বলে হুমকি দিচ্ছে। জাহাঙ্গীর একজন মাদকাসক্ত, মাদক বিক্রেতা এবং ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত। গত সোমবার গভীর রাতে বাসায় কেউ না থাকায় সে এসে আমার উপর হামলা করে আমাকে হত্যার চেষ্টা করেছে এবং আমার ঘর থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে।
এ বিষয়ে থানার অফির্সাস ইনচার্জ (ওসি) মো. মালেক খসরু জানান, এ সংক্রান্ত থানায় একটি অভিযোগ হয়েছে। তদন্ত চলছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে।
Leave a Reply