বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ০১:১২ পূর্বাহ্ন

প্রেমিকাকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ধর্ষন গ্রীন ইউনিভার্সিটির ছাত্র নাহিদ টঙ্গীতে আটক

গাজীপুর প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : মঙ্গলবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ১৬৮ বার

টঙ্গীতে সোমবার সকালে অসুস্থ প্রেমিকাকে তার ভাড়া বাসায় দেখতে এসে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষনের অভিযোগে রাজধানীর গ্রীন ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার বিভাগের (বিএসসি) পড়–য়া ছাত্র মো. নাহিদুজ্জামান নাহিদ (২৩) কে আটক করেছে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ।
জানা যায়, টঙ্গীর গাজীবাড়ি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকা কলেজ পড়–য়া ওই ছাত্রীর সাথে শেরপুর জেলার সদর থানার যোগীনিমুরা কান্দাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সরকারী চাকুরিজীবি মো. মশিউরের ছেলে এবং রাজধানীর বেগম রোকেয়া স্বরণী রোডে স্থাপিত গ্রীণ ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার বিভাগের (বিএসসি) পড়ুয়া ছাত্র মো. নাহিদুজ্জামান নাহিদ প্রায় এক বছর যাবৎ প্রেম করে আসছিলো। হঠাৎ ওই ছাত্রীর অসুস্থতার খবর পেয়ে প্রেমিকাকে এক নজর দেখার অজুহাতে ভোর বেলা ঢাকার মিরপুর থেকে টঙ্গীতে প্রেমিকার ভাড়া বাসায় আসে। বাসায় এসে প্রেমিসকার মা এবং বড়বোনকে না পেয়ে খালি বাসায় প্রবেশ করে প্রেমিকাকে বিয়ে করার আশ^াস দিয়ে এবং প্রেমিকার ই”্ছার বিরুদ্ধে ঘরের দরজা বন্ধ করে শারীরিক সর্ম্পক গড়ে তোলে। বিষয়টি বাড়ির অন্যান্য ভাড়াটিয়াদের সন্দেহ হলে ওই ছাত্রী এবং ছাত্র নাহিদুজ্জামান নাহিদকে আশপাশ ও বাড়ির অন্যান্য লোকজন তাদের সর্ম্পকের বিষয়ে জি¹াসাবাদ করে। এতে তাদের উভয়ের কথা বার্তায় অসঙ্গতি পায়। এক পর্যায়ে নাহিদ জানায়, তাদের উভয়ের মধ্যে সর্ম্পক আছে আমরা উভয়ে বিয়ে করবো। মেয়ে জানায়, আমাদের এক বছরের সর্ম্পক, নাহিদ আমাকে বিয়ে করবে বলে জানিয়েছে। আজ (সোমবার) নাহিদ আমার অসুস্থতার কথা শোনে আমার বাসায় এসেছে কিন্ত আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ঘরের দরজা বন্ধ করে আমাকে —। সে আমাকে বিয়ে করবে। এ সময় নাহিদ নিজেও ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বিয়ে করবে বলে দাবী করেন। পরে বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় লোকজন উভয়ের অভিভাবকদের খবর দেয়। উভয় পরিবার শেরপুর জেলার বাসিন্দা এবং তারা পরস্পর আত্বীয় বলে জানা যায়।

স্থানীয় লোকজন জানান, নাহিদের পরিবারের লোকজন খবর পাওয়ার পর নাহিদের মামা হুমায়ুন কবীর মিলন যিনি নিজেকে স্থানীয় একজন সাংসদের আত্বীয়, কখনো একটি বে-সরকারী ব্যাংকের কর্মকর্তা এবং কখনো সিভিল এভিয়েশনের একজন কর্মকর্তা বলে দাবী করেন। তিনি স্থানীয় পুলিশ নিয়ে ছেলেকে উদ্ধার করতে ধর্ষিতার ভাড়া বাসায আসেন। এ খবর পেয়ে ধর্ষিতার বাবাসহ আত্বীয় স্বজনরা ঘটনাস্থলে এসে বিয়ের দাবী জানালে ধর্ষকের মামা তার ভাগ্নেকে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠেন এবং বিয়ের বদলৌতে প্রয়োজনে মামলা হবে কিন্তু বিএসসি পড়ুয়া ভাগ্নেকে বিয়ে করাবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন। এ সময় মামার কথায় তাল মিলিয়ে প্রেমিকাকে বিয়ে করবে না প্রয়োজনে জেলে যাবে বলে জানালে, মেয়ের অভিভাবকদ্বয় এবং স্থানীয় লোকজন ক্ষীপ্ত হয়ে উঠে এবং মেয়েকে বিয়ে করতে হবে নতুবা ছেলের শাস্তির দাবী করেন। এ ঘটনার পর টঙ্গী পূর্ব থানার এস আই কাজী নেওয়াজসহ সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যরা বাড়ির অন্যান্য ভাড়াটিয়া, স্থানীয় লোকজন এবং মেয়ের সাথে কথা বলে নাহিদুজ্জামান নাহিদকে সোমবার রাত সাড়ে ১১ টায় আটক করে থানায় নিয়ে যান।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ধর্ষিতা ছাত্রীর আত্বীয় স্বজনরা জানান, এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে। তবে ধর্ষক নাহিদুজ্জামান নাহিদকে মামলার হাত থেকে বাঁচাতে ধর্ষিতার পরিবারের লোকজনের আপোষ করতে নাহিদের এক খালা এবং মামা মিলন আপ্রাণ চেস্টাসহ মামলাটি রজুতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে বলে দাবী করেন। আমরা এ ঘটনার সুষ্ট বিচার চাই।
এ ব্যাপারে টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার্স ইনচার্জ (তদন্ত) মো. মনিরুজ্জামান জানান, এ বিষয়ে মামলা রজুর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories