সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
জয়পুরহাটে দিলীপ হত্যা মামলায় ২৩ বছর পর একজনের যাবজ্জীবন আইসিটি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির ৭ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা আগামী অর্থবছরের মধ্যে বদলে যাবে দেশের স্বাস্থ্যখাত : স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজধানী হকারমুক্ত হবে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক-ফুটপাত: সড়কমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপ-নির্বাচনে ২১ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন গাজীপুরের শ্রীপুরে ছেলের লাঠির আঘাতে বাবার মৃত্যু, অভিযুক্ত পলাতক শেরপুরে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার, নারায়ণগঞ্জে এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত আরেকজন আটক গাইবান্ধা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৯ মাসে ৬ হাজার ৮৪৯ মামলা নিষ্পত্তি দেবীদ্বারে ফুটপাত দখলে দুই ডিম ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা

লক্ষ্মীপুরে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৫ আগস্ট, ২০২২
  • ২২৩ বার

লক্ষ্মীপুর সদরের ভাবানীগঞ্জে জোরপূর্বক মুখ চেপে কীটনাশক খাইয়ে ও পরে মাথায় আঘাত করে শিল্পী  আক্তারকে হত্যার দায়ে স্বামী মো. হোসেনের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদন্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ রহিবুল ইসলাম এ রায় দেন। 

লক্ষ্মীপুর জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি জসিম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামি হোসেন তার স্ত্রীকে পরিকল্পনা করে হত্যা করেছে। আদালতে ঘটনাটি প্রমাণিত হয়েছে। এতে আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশ দেন। তবে আসামি পলাতক রয়েছে। দন্ডপ্রাপ্ত হোসেন সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের চরমনসা গ্রামের সফিক উল্যাহর ছেলে। আদালত ও এজাহার সূত্র জানায়, হোসেনের সঙ্গে ২০০৩ সালে সদর উপজেলার মান্দারী ইউনিয়নে যাদৈয়া গ্রামের আব্দুল হাসেমের মেয়ে শিল্পীর পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের তিন মেয়ে ও এক ছেলে আছে। ২০১৬ সালের দিকে হোসেন দ্বিতীয় বিয়ে করে। দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে হোসেন চট্টগ্রামে বসবাস করতো। এরপর থেকে তিনি প্রথম স্ত্রী সন্তানদের ভরণপোষণ বন্ধ করে দেয়। হোসেন প্রথম স্ত্রীকে পথের কাটা মনে করতো। এ জন্য তিনি শিল্পীকে হত্যার পরিকল্পনা নিয়েই চট্টগ্রাম থেকে চরমনসা গ্রামের বাড়িতে আসেন। ২০১৮ সালের ২৭ আগস্ট সন্ধ্যায় পার্শ্ববর্তী তোরাবগঞ্জ বাজার থেকে হোসেন কীটনাশক কেনে। পরে বাড়িতে গিয়ে কীটনাশক পানিতে মিশিয়ে স্যালাইন বলে শিল্পীকে খেতে বলে। পানি ঘোলা ও গন্ধ হওয়ায় শিল্পী তা খেতে চায়নি। এসময় তাদের মেয়ে সীমা আক্তার খেতে চাইলেও হোসেন তাকে খেতে দেয়নি। একপর্যায়ে হোসেন জোরপূর্বক মুখ চেপে শিল্পীকে বিষ খাইয়ে দেয়। পরে শিল্পী কয়েকবার বমি করে। এতে শিল্পীকে সুপারি খাওয়ানোর কথা বলে হোসেন ঘর থেকে বের হয়ে যায়। 

এদিকে রাতে হঠাৎ হোসেন ও শিল্পীর ঘুমানোর কক্ষ থেকে আওয়াজ আসে। একপর্যায়ে শিল্পীর চিৎকার শোনা যায়। এসময় মেয়ে সীমা আক্তারসহ অন্যসন্তানরা উঠে আসলে হোসেন তাদেও ঘুমানোর জন্য ধমক দেয়। পরে হোসেন তার মাথায় আঘাত করে। এতে কীটনাশকের প্রভাব ও আঘাত পেয়ে শিল্পীর অবস্থার অবনতি হয়। ঘটনাটি অন্যদিকে প্রভাবিত করতে পাশ্ববর্তী এক গ্রাম্য চিকিৎসক এনে একটি স্যালাইন পুশ করা হয়েছিল। গ্রাম্য চিকিৎসক তখন শিল্পীকে দ্রুত হাসপাতাল নিয়ে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দেয়। এতে সিএনজি চালিত অটোরিকশাযোগে হাসপাতাল নেওয়ার পথে শিল্পী মারা যায়। এ ঘটনার দুদিন পর শিল্পীর পিতা আব্দুল হাসিম বাদী হয়ে হোসের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।ময়নাতদন্তে র প্রতিবেদনে ভিকটিমের পেটে বিষ ও মাথায় আঘাতের জখম পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তে র ভিত্তিতে ২০১৯ সালের ২০ অক্টোবর মামলার তদন্ত কারী কর্মকর্তা ও সদর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোসলেহ উদ্দিন আদালতে হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত আসামির সাজা প্রদান করে।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories