গাজীপুর মহানগরের গাছার দক্ষিণ খাইলকুর এলাকা থেকে শিক্ষক দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। এঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) ভোরে স্থানীয় বগারটেক এলাকায় প্রাইভেটকারের ভেতর থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয় ।
গাজীপুরে শিক্ষক দম্পতির লাশ উদ্ধারের পর এ হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত বলে দাবি করেছে স্বজনেরা। শিক্ষক দম্পতি একসঙ্গে গাড়িতে করে বাসার উদ্দেশে স্কুল হয়ে ফিরলেন লাশ হয়ে। এটি কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তাদের পরিবার, স্বজন ও সহকর্মীরা।
জানা যায়, একেএম জিয়াউর রহমান (৪৮) টঙ্গীর শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও মোসাম্মত মাহমুদ আক্তার জলি (৩৭)আমজাদ আলী সরকার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তারা পরিবার নিয়ে গাজীপুর মহানগরের ৩৬ নং ওয়ার্ডের গাছা থানাধীন কামারজুরি এলাকায় বসবাস করতেন।
নিহত শিক্ষক দম্পত্তির ছেলে একেএম তৌসিফুর রহমান মিরাজ সাংবাদিকদের জানান, সবশেষ গতকাল বুধবার সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে বাবার মোবাইলে ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। ওই সময়ই তার মায়ের সঙ্গে কথা হয়। এসময় মায়ের কন্ঠ ভার ছিল। তারপর কোনো যোগাযোগ করতে না পেরে রাতে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেন।

মেরাজ বলেন, আমরা রাতভর খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান পাচ্ছিলাম না। ভোরের দিকে স্থানীয় বগারটেক এলাকা থেকে গাড়ির ভেতর চালকের আসনে বাবা ও পাশে মায়ের মরদেহ পাওয়া যায়। সেখান থেকে প্রথমে তাদের তায়রুন্নেছা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে উত্তরার একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
জিয়াউর রহমানের ভগ্নিপতি মাওলানা আব্দুর রশিদ এ বিষয়ে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে টঙ্গীর শহিদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন জিয়াউর রহমান। পরে তাকে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তার স্ত্রী মাহমুদ আক্তার জলিও স্থানীয় আমজাদ আলী সরকার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তারা পরিবার নিয়ে গাছা থানার কামারজুরি এলাকায় নিজ বাড়িতে বসবাস করতেন।
নিহত জিয়াউরের বড় ভাই মো. রিপন বলেন, এটি পুরোপুরি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাদের সঙ্গে থাকা স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন কিছুই নেয়নি। ঘটনাটি যদি ছিনতাইকারী কিংবা দুর্বৃত্তরা ঘটাতো তাহলে টাকা, স্বর্ণ, মোবাইল ও গাড়ি নিয়ে যেত। কিছুই নেয়নি। শুধু জান দুইটা নিয়ে গেছে।
নিহত প্রধান শিক্ষক ড্রাইভিং সিটে ছিলেন। তার হাতটিও গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে ছিল। তার সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনও পাওয়া গেছে। জিয়াউর রহমান মামুন ও তার স্ত্রীর মানিব্যাগ ও ভ্যানিটি ব্যাগও গাড়িতেই ছিল। সবমিলিয়ে এর রহস্য উদঘাটনে কাজ চলছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
এব্যাপারে গাজীপুর মহানগরের গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নন্দলাল চৌধুরী বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। সন্দেহজনক ঘটনার পর নিহতদের ময়নাতদন্ত র্রিপোট না আসা পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।
এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (অপরাধ) মোহাম্মদ ইলতুৎমিশ টেলিফোনে বলেন, ঘটনা তদন্তে ইতিমধ্যে কাজ শুরু করা হয়েছে। বিষয়টি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তাৎক্ষণিভাবে এর বেশি কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না।
Leave a Reply