গাজীপুরের টঙ্গীতে পুলিশকে মাদক ব্যবসায়ীর বাসা দেখিয়ে দেয়ায় জের ধরে পলাশ নামের এক সোর্সের নেতৃত্বে কয়েকজন মিলে স্থানীয় শাহরিয়ার আল-আমিন সৈকত (২৫) নামে এক যুবককে পিটিয়ে ও কুপিরয় হত্যার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার পর স্থানীয়রা গুরতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় শাহরিয়ার আল-আমিন সৈকতকে উদ্ধার করে টঙ্গীস্থ শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তাকে চিকিৎসা করা হয়। এছাড়াও এ বিষয়ে থানায় কোন প্রকার অভিযোগ করা হলে মামলা দিয়ে হয়রানীসহ প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছে আল-আমিন। ঘটনাটি ঘটেছে টঙ্গীর মধুমতিাস্থ ৩ তলা মসজিদের পাশে।
শাহরিয়ার আল-আমিন সৈকত জানায়, আমি স্থানীয় একটি ইন্টারনেট অফিসের কাজ করি। গত কয়েক দিন পূর্বে টঙ্গী পূর্ব থানার একজন এ এস আই আমার নিকট আরিচপুর এলাকার একজন মাদক ব্যবসায়ীর বাসার ঠিকানা জানতে চাইলে, আমি ওই মাদক ব্যবসায়ীর বাসা পুলিশকে দেখিয়ে দেই। এতে করে পুলিশ সোর্স পলাশ আমার প্রতি ক্ষীপ্ত হয়ে আমাকে বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে দেয়াসহ প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকে। এরই জের ধরে গত রাতে সোর্স পলাশ ও তার সাথে থাকা দাঁত ভাঙ্গা রাসেল, রাসেলের ছোট ও বড় ভাইসহ সাদ্দাম মিলে মধুমিতা ৩ তলা মসজিদের পিছনে এবং প্রিন্স ভিলা ব্লিল্ডিয়ের সামনে একা পেয়ে মারধর করে এবং এক পর্যায়ে সোর্স পলাশ আমাকে ধাঁরালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় ও পায়ে কুপিয়ে আহত ও হত্যার চেষ্টা করে। এ সময় আমার ডাক-চিৎকারে আশাপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তারা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন আমাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করে এবং আমার বাসায় পৌছে দেয়। এ ঘটনায় আমি থানায় অভিযোগ দিতে যাওয়ার পর বিষয়টি জানতে পেরে, পলাশ ও তার লোকজন আমাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে আমি প্রাণের ভয়ে থানায় অভিযোগ না দিয়ে চলে আসি। তবে গাজীপুরের আদালতে এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
বিষয়টি জানতে সোর্স পলাশের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে-সে প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে জানায়. আমি শাহরিয়ার আল-আমিন নামে কাউকে চিনি না। আমার সাথে এই নামের কারো সাথে কোন ঘটঁনা ঘটেনি। কাউকে মারিনি। আমি মারামারি করবো কেনো ? তবে ওই এলাকায় সেদিন সৈকত ও রাসেলরা নিজেরা নিজেরা মারামারি করেছে। বিষয়টি জানতে পেরে, আমি নিজে সৈকত ও রাসেলের মধ্যে মারামারির বিষয়টি মিমাংশা করতে চেয়েছিলাম বলেই সৈকত আমার নামে মিথ্যা অপপ্রচার করছে। সৈকতের সাথে দাঁত ভাঙ্গা রাসেলের মারামারি হয়েছে এটা সত্য। সৈকতকে কেউ কুপায়নি। সৈকত নিজেই নিজের শরীর কেঁটে ফেইসবুকে ছেড়েছে। পলাশ আরো জানায়, সৈকত খারাপ ছেলে, এলাকার চিহ্নিত ছিনতাইকারী মিম, মঈন, জয়, গাংগুয়া গ্রুপের সদস্য। টঙ্গী পূর্ব থানায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। সম্প্রতি এক ব্যক্তিকে আটক করে মুক্তিপণ চাওয়ার ব্যপারেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।
Leave a Reply