একজন বৃদ্ধ পিতা ৩৫ বছর মাথার ঘাম পায়ে ফেলে আর অক্লান্ত পরিশ্রমের পর করলেন হাফ সেঞ্চুরী! অর্থাৎ : কোন রকম ভাবে সংসার জীবন কাটিয়ে শেষ বয়সে শহরের উপ-কেন্দ্রে কাটা দুই জমিতে দ্বিতল একটা বাডী তৈরি করেন। পিতার অর্থ কড়ি ভান্ডার শুন্য থাকায় সংসাররে বড় ছেলে একজন সংবাদকর্মী হওয়ার দাফটে ভাই বোনকে ঠকিয়ে পিতার ওই বাড়িটি নিজ দখলে নিতে বৃদ্ধ পিতা মাতাকে অত্যাচার নির্যাতন এবং মেরে ফেলার চেষ্টাও করেন একাধিকবার ওই ছেলে! ছেলের ক্ষমতা তিনি স্থানীয় একজন সংবাদকর্মী। সংবাদ মাধ্যমটির ব্যানারও বেশ বড় বটে, ফলে স্থানীয় আইন-শৃংখলা বাহিনী, মেয়র, এমপি, মন্ত্রী, রাজনৈতিক নেতাকমী, ব্যবসায়ী, অপরাধী সকলেই তাকে ভয় পায়। আহারে সাংবাদিকতা! অর্থ উপার্জনে তেলবাজী সাংবাদিকতার আড়ালে হলুদ-সাংবাদিকতা আর চাঁদাবাজীর শুদ্ধ এক পরিশ্রমের নাম “সাংঘাদিক” বললে ভূল হবে বলে মনে হয় না। তবুও তিনি সাংবাদিক। সংবাদ মাধ্যম সংশ্লিষ্ট সম্পাদক, প্রকাশক, নির্বাহী সম্পাদক, বার্তা-মফস্বল সম্পাদক সকলে সব কিছু জানার পরও ওই সংবাদকর্মীর কাছ থেকে মাস শেষে টু-পাইস কামানোর ধান্ধায় নীরব ভূমিকা পালন করেন সর্বদা। বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমগুলো সরকারের নীতিমালা উপেক্ষা করে তাদের মফস্বল সংবাদকর্মীদের বেতন-ভাতা বা সন্মানী না দিতে পারলেও প্রতিমাসে বা বছরে ওই সংবাদ কর্মীর কাছ থেকে পরিচয়পত্র নবায়ন বাবদ ভ্যাট, ট্যাক্স নিতে ভূল করেন না কোন ভাবেই। ফলে দরিদ্র পিতার নামমাত্র শিক্ষিত ছেলেটি ওই পরিচয়পত্র গলায় ঝুলিয়ে, সাধারণ মানুষকে টেপে ফেলে আন্ধার রাতে ধান্ধাবাজী, চাঁদাবাজী, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধীদের সাথে দহরম মহরম সর্ম্পক গড়ে তুলে অবৈধ অর্থ উপার্জনে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষজনকে তেলবাজী আর সাংবাদিকতার অন্তড়ালে হলুদ বা অপ-সাংবাদিকতা চালিয়ে খ্যান্ত নয়, অবশেষে পিতা-মাতা-ভাই-বোন-আত্বীয়-স্বজনকে অত্যাচার নির্যাতন হয়রানী করতেও দ্বিধা করে না। পর্যায়ক্রমে ওই দাপটে সংবাদকর্মী এলাকার প্রকৃত এবং সিনিয়র সংবাদকর্মীদের কারণে অকারণে হয়রানী করতেই গড়ে তোলে তেলবাজ, চাঁদাবাজ কিংবা বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত সংবাদকর্মী নামধারীদের নিয়ে বিশাল এক সিন্ডিকেট। ওই সিন্ডিকেটের সদস্যরা এহেন কর্ম নেই যা করে না। সুদের ব্যবসা থেকে দেহ ব্যবসা পরিচালনা, মাদক ব্যবসা থেকে ছিনতাই, বিয়ের নামে নারীদেও সাথে প্রতারণা থেকে শুরু করে টেন্ডারবাজী, তোলাবাজী, রাজনৈতিক বা ব্যবসায়ীদের নামে সংবাদ প্রকাশের নামে ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজী, মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রনে একে অপরের সাথে বিরোধ সৃষ্টি, পুলিশ সোর্স সেঁেজ অর্থ উর্পাজন এমন কি রাজনৈকিত প্রথম সারির ব্যক্তিদের তেলবাজি যেনো নিত্যদিনের কর্ম ওইসব নামধারী সংবাদ মাধ্যম কর্মীদের। সে সব ক্ষেত্রে একটু ব্যতিক্রম হলেই সত্যকে মিথ্যা আর মিথ্যাকে সত্য উপস্থাপন করে সাধারণ মানুষদের বিরুদ্ধে অপ-প্রচার করা হয় সংবাদ মাধ্যমগুলোতে। ফলে মান-সন্মান ক্ষন্নু হওয়ার ভয়ে তটস্থ সাধারণ ও সর্ব শ্রেনীর মানুষ!
অন্যদিকে, ওই নির্যাতিত পিতার সুযোগ্য সন্তান এক সময় জামাত বিএনপির দোসর এবং বর্তমানে সরকার দলীয় নেতাদের আস্তাভাজন, যিনি এক সময় অর্থের অভাবে লেখাপড়া করার বদৌলতে ফুটপাতে ও যানবাহনে হকারী এবং এক পর্যায়ে গার্মেন্টস শ্রমিক ও সর্বপরি রহস্যজনক ভাবে দেশের একটি আন্ডার গ্রাউন্ড দৈনিক পত্রিকার স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে আর্বিভাব ঘটে। পরবর্তিতে কয়েক মাসের ব্যবধানে তিনি হয়ে উঠেন সভ্য সমাজের নাগরিক। তার টাকার বিনিময়ে আরো একটি সংবাদমাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব। এবার আর পেছনে ফিরে তাকাবার সময় নেই। মাত্র ৮/১০ বছর ওই সংবাদমাধ্যমে কাজ করে বহুতল ভবন আর প্রায় কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। সেই সাথে বর্তমানে ওই সংবাদকর্মীর আন্ধার রাতে ধান্ধা, চাঁদাবাজী নিত্যকর্ম উঠে বটে। তবু তিনি মহান এবং বিশাল সংবাদকর্মী এ সমাজের !
হায়রে সংবাদমাধ্যম এবং সাংবাদিকতা ! ভার্সিটি তো দুরের কথা কলেজের বারান্দায় পা না দিলেও কিংবা লেখাপড়া ততটা জানা না থাকলেও তিনি এখন একটি জাতীয় পত্রিকার সংবাদকর্মী। তখন চাঁদা না দিয়ে উপায় নেই স্থানীয়দের। তিনি যদি কিছু লিখে দেন তবে সমাজে মুখ দেখানো লজ্জাস্কর হয়ে দাঁড়াবে স্থানীয় রাজনৈতিক, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সমাজপতি, সমাজ সেবকদের। কারণ সবার জীবন চলা ও কর্মক্ষেত্রেই কোন না কোন ত্রুটি বিচ্যুতি রয়েছে। আতংক একটাই সংবাদমাধ্যমটা একটু বড় এবং বহুল প্রচারিত ।
আসলে স্থানীয় বিজ্ঞ-জনরা জানেনই না যে, সংবাদ মাধ্যমটা বড় হলেও ওই সংবাদকর্মীর কি যোগ্যতা ? ধাপ্পাবাজী, চাপাবাজী সেই সাথে নিজেকে সমাজে জাহির করতে তেলবাজীর পাশাপাশি অন্যের সমালোচনা, পর-নিন্দা আর ক্ষতি সাধন করাটা ওই সংবাদকর্মী নিত্যদিনের কর্ম। লেখা নেই, পড়া নেই, এ যেনো নিধিরাম সর্দার হয়ে শিক্ষিত সমাজের একজন ডাক্তার, একজন এ্যাডভোকেট, একজন জন-প্রতিনিধি, একজন সূ-প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী বা চাকুরীজীবিকে হেয়-প্রতিপন্ন করার নাম নিশ্চয়ই সাংবাদিকতা নয় ? শুধু তাই নয়- মান-সন্মানের ভয়ে স্থানীয়দের সাথে আইন-শৃংখলা বাহিনীও সমীহ করেন, চাপাবাজ, ধাপ্পাবাজ আর সংবাদ মাধ্যমের ব্যানার বড় হওয়ায় একজন চিহ্নিত চাঁদাবাজ, ধান্ধাবাজ সংবাদকর্মী নামধারী ওই ব্যক্তিকেদের কে। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় শিক্ষিত অভিজ্ঞ সিনিয়র সংবাদকর্মীদের নাজেহাল করতে ঐক্যবদ্ধ ভাবে ওইসব প্রতারক সংবাদকর্মী নামধারী এবং সংবাদমাধ্যমের ব্যানার ব্যবহারকারীরা সমাজের উচু শ্রেনীর রাজনৈতিকসহ বিভিন্ন মহলে পদ-চারণার মাধ্যমে তেলবাজী করে অহরহ এবং রাতের অন্ধকারে অত্যন্ত সূ-কৌশলে এলাকার শীর্ষ অপরাধীদের সাথে সূ-সর্ম্পক রাখেন নিজেকে স্বাবলম্ভী করতে। নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে সংবাদমাধ্যমের ব্যানার গলায় ঝুলিয়ে কখনো সমাজের ভালো কাজে আসতে না পারলেও, সমাজের সন্মানী এবং ভালো মানুষদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপ-প্রচার, লেখালেখি বন্ধ হয় না কখনোই ওদের। ফলে স্থানীয় প্রকৃত শিক্ষিত এবং সিনিয়র সংবাদকর্মীরা বিভিন্ন ভাবে হয়রানীর শিকার হয়ে এ মহান পেশা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে সম্প্রতি।
উল্লেখ্য : একজন পিতা ৩০/৩৫ বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করে যা করতে পারেনি, একজন সন্তান পিতার আর্দশকে জলাঞ্জলী দিয়ে-মাত্র বছর কয়েকের মধ্যে প্রায় কোটি টাকার মালিক হওয়ার রহস্যটা রহস্য হয়েই থাকবে কি অদূর ভবিষ্যতে ? বলা বাহুল্য, গ্রামের বাড়িতে বাবা একজন দিন মুজুর বা রিকশা চালক কিংবা একজন ছোটখাটো কৃষক, নুন আনতে যার পান্তা পুরোয় হর-হামেশাই সংসার চালাতে গিয়ে। স্ব-শিক্ষিত কিংবা নামমাত্র লেখাপড়া করিয়ে ছেলে-মেয়েকে পাঠালেন শহরে কিছু করতে। অচল বাবার সংসারে হাল ধরতে। সেই ছেলে শহরে এসে কাজ না পেয়ে হয় ফুটপাতের হকার, নয়তো গার্মেন্টসের শ্রমিক, নয়তো আবাসিক বা খাবার হোটেলের মেসিয়ার, কিংবা যানবাহনের হেলপার অথবা রিকশা, অটো বা ইজিবাইক চালক কিংবা মাদক ব্যবসায়ী হয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর আইন-শৃংখলা বাহিনীর সোর্স হিসেবে কাজ শুরু করে। কিছুদিন এভাবে পার করার পর হঠাৎ ওই ছেলে নাম-সর্বস্ব সংবাদমাধ্যমের কার্ড সংগ্রহ করে সংবাদকর্মী বনে যান। আর মেয়েটি হয়তো কোন মিল কল-কারখানার শ্রমিক নয়তো অধিক অর্থ উপার্জনের নেশায় আবাসিক-অনাবাসিক বাসা-বাড়ির বা হোটেলের দেহপসারিনী কিংবা মাদক ব্যবসায়ী হয়ে জীবন যাত্রা শুরু করে। তারপর আর কি, ছেলেটি হয়ে গেলেন একজন নামী দামী সংবাদকর্মী। আর ওই মেয়েটি শহরের শীর্ষ দেহ-পসারিনী বা মাদক ব্যবসায়ী। অথচ মাসে একটি রিপোর্টও দেখা মেলে না ওইসব সংবাদকর্মীদের সংবাদ মাধ্যমে। কিন্তু একজন দেহ-পসারিনী বা মাদক ব্যবসায়ীর আয় কমে না বরং বাড়ে কিন্তু পেশা বদলঅয় না। আর একজন নামধারী সংবাদকর্মী ধাপ্পাবাজী, চাঁদাবাজীসহ বিভিন্ন ভাবে অবৈধ অর্থ উপার্জন করে হঠাৎ টাকার বিনিময়ে কোন টিভি চ্যানেল বা প্রথম কিংবা দ্বিতীয় সারির পত্রিকার কার্ড সংগ্রহ করে রাতারাতি বনে যান বিখ্যাত সংবাদকর্মী বা সাংবাদিক। এ জন্য দায়ী কে বা কারা ? এজন্য দায়ী প্রথমত-স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তি, দ্বিতীয়ত-একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী মহল, তৃতীয়ত- আইন-শৃংখলা বাহিনী এবং চতুর্থত-সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক এবং প্রকাশক এবং সর্বপরি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা জন-সাধারণ। সমাজের সবাই সচেতন হলে, আজকাল এ ধরনের সংবাদকর্মী নামধারীদের অপ-সাংবাদিকতার বিস্তার হতো না। প্রকৃত সংবাদকর্মীরাও তাদের সন্মাণ হারাতো না। সৃষ্টি হতো না সাংবাদিকতার আঁড়ালে আন্ধার রাতের ধান্ধাবাজী, চাঁদাবাজী এবং হলুদ সাংবাদিকতা।
Very nice news protal
ধন্যবাদ