টঙ্গীতে পূর্ব বিরোধের জের ধরে নাকি ছিনতাইকারীদের উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে আবুল কাশেম (৪৫) নামে এক পোশাক শ্রমিক নিহত হয়েছে। তা খতিয়ে দেখছে স্থানীয় পুলিশ।
জানা যায়, বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কারখানা থেকে বাসায় ফেরার পথে টঙ্গীর পাগাড় টেকপাড়াস্থ বালুমাঠ এলাকায় আবুল কাশেমকে কয়েক যুবক মিলে উর্যুপরি ছুরাকাঘাত করে আহত করে। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত ঘোষনা করেন। নিহত কাশেম জামালপুর জেলার ইসলামপুর থানার পাতশি গ্রামের নুর হোসেনের ছেলে । সে টঙ্গীর নোমান ফেব্রিকস লিমিটেড কারখানায় সুপারভাইজার পদে কাজ করতো এবং পরিবারের সঙ্গে মরকুন এলাকার মৃত আমিনুল হকের ভাড়া বাড়িতে থাকতো।
টঙ্গী পূর্ব থানা-পুলিশের এসআই লিটন শরীফ মরদেহটি উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
পুলিশ জানায়, বুধবার রাতে কারখানায় কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে টেকপাড়া বালু মাঠ এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন যুবক তাঁকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. নূরুন নাহার জানান, মরদেহের বুকে, পেটে ও পিঠে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হাসপাতালে তাঁকে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে।
মৃত কাশেমের শ্যালক সোলাইমান জানায়, গত কয়েক মাস আগে কারখানার এক শ্রমিক কাজে অবহেলা করলে বিষয়টি কাশেম তার কর্তৃপক্ষকে জানায়। পরে ওই শ্রমিককে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয় কর্তৃপক্ষ। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই শ্রমিক কাশেমকে হত্যার হুমকি দেয় । ওই শ্রমিকের নাম ঠিকানা আমরা কেউ জানি না। তবে কারখানায় অবশ্যই তার নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য রয়েছে। অফিস শেষে রাতে বাসায় ফেরার পথে তাঁকে একা পেয়ে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।
এব্যাপারে টঙ্গী পূর্ব থানা-পুলিশের অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মো. জাবেদ মাসুদ বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আশপাশের সিসিটিভির ফুটেজ দেখা হচ্ছে। এ ঘটনা একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অপরাধী যেই হোক তাকে গ্রেফতারের মাধ্যমে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।
Leave a Reply