সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ১১:০৮ পূর্বাহ্ন

টঙ্গীতে কমিউনিটি পুলিশের নামে চাঁদা আদায়, নেপথ্যে কারা ?

মৃণাল চৌধুরী সৈকত
  • আপলোডের সময় : মঙ্গলবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২২
  • ১৪১ বার

টঙ্গীতে কমিউনিটি পুলিশের নামে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। প্রতি রোববারে টঙ্গী বাজারে সাপ্তাহিক হাট বসে। ওই হাটে আসা বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কমিউনিটি পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রকাশ্যে চাঁদা তুলে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে বিপুল অঙ্কের টাকা। ব্যবসায়ীরা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের বিভিন্ন ভয়ভীতি প্রদর্শণসহ করা হয় দুর্ব্যবহার। অনেক ক্ষেত্রে তাদের মারধরও করা হয় বলে অনেক ব্যবসায়ীরা জানান। গত প্রায় বছর খানেক পূর্বে সিটি কর্পোরেশনের খাজনা আদায়সহ অতিরিক্ত চাঁদা আদায় এবং ব্যবসায়ীকে মারধরের একটি ভিডিও স্যোশাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে পড়েছিলো। তথাপিও বন্ধ হয়নি এ কার্যক্রম। এসব চাঁদা আদায়ের পেছনে কারা জড়িত, সূষ্ট তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী টঙ্গীর ঐতিহ্যবাহী হাটে আসা সাধারণ ব্যবসায়ীদের।
অভিযোগ রয়েছে, ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির কোষাধ্যক্ষ জনৈক মজিবুর রহমানের নির্দেশে ওই হাট থেকে তোলা হয় এই চাঁদা। মজিবুর রহমান টঙ্গী বাজার চাউল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে গত শনিবার মধ্যরাতে টঙ্গী বাজারে গিয়ে দেখা যায়, সাপ্তাহিক হাট উপলক্ষে ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকারী ব্যবসায়ীরা আসেন টঙ্গী বাজারের সাপ্তাহিক হাটে। বাজারের মিতালি ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে শুরু করে, হাজী মার্কেট, ভাওয়াল বিপনি মার্কেট, নোয়াখালী মসলা পট্টি, বস্তা পট্টি, তুরাগ নদীর পাড় রোড, বৌ- বাজার রোড, হোন্ডা রোড, টঙ্গী বাজার জামে মসজিদ রোড (বড় মসজিদের চারপাশে) সিরাজউদ্দীন সরকার বিদ্যানিকেতন রোড, কলঅপট্রি, গরুর হাট রোডসহ বিভিন্ন অলি-গলিতে বিট ভাড়া নিয়ে প্রায় ১৬/১৭শ বিভিন্ন পন্য-সামগ্রির দোকান বসানো হয় পুরো টঙ্গী বাজার জুড়ে। রাত ১টার পর বাজারে আসা ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে ২০/৫০ টাকা করে চাঁদা তোলা শুরু করে এবং সকাল পর্যন্ত উঠিয়ে থাকে এই চাঁদার টাকা। বাজারে সরকারী বিধি বর্হিভূত অতিরিক্ত খাজনা পরিশোধের পরও ২০ টাকা চাঁদা পরিশোধ নিয়ে কেউ কেউ জড়াচ্ছেন বাকবিতন্ডায়। এসময় ওই দুই ব্যক্তিকে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতেও দেখা যায়।
ভূক্তভোগী ব্যবসায়ীরা জানান, কমিউনিটি পুলিশের নামে চাঁদা আদায় করা ওই দুই ব্যক্তি হলেন- মোঃ কবির (৪০), মোঃ ফজলু (৩৮)। হাটে আগত এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে চাঁদা নিয়ে বাকবিতন্ডায় জড়াতে দেখা যায় ফজলুকে। বিষয়টি জানতে চাইলে ফজলু মিয়া স্থানীয় সংবাদকর্মীদের বলেন, চাউল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমানের নির্দেশে কমিউনিটি পুলিশের বেতন ও খরচের জন্য প্রত্যেক দোকান থেকে ২০টাকা করে আদায় করা হয়। কেউ কেউ সিজ উদ্যেগে ৫০ টাকাও দিয়ে থাকেন। করোনার সময় এই টাকা আদায় বন্ধ ছিলো, যা গত দুই সপ্তাহ যাবত পূণরায় চালু হয়েছে। এখন থেকে প্রত্যেক সপ্তাহে এই টাকা তোলা হবে বলেও জানায় ফজলু। ফজলু আরও বলেন, গত সপ্তাহের হাটে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কমিউনিটি পুলিশের নামে আমি ১০ হাজার টাকা আদায় করেছি। আমার সঙ্গে কবির নামে আরেকজন চাঁদা আদায় করে থাকে। সকাল পর্যন্ত টাকা উঠানোর পর সব টাকা জমা দেওয়া হয় বাজার কমিটির নেতা মজিবুর রহমানের নিকট। তিনি আমাদের হাজিরা হিসেবে এক হাজার টাকা দিয়ে বাকি টাকা বুঝে নেন। কমিউনিটি পুলিশের নামে চঁদা উঠানো কবির হোসেন বলেন, বাজারের যানজট নিরসনে কমিউনিটি পুলিশের সদস্যরা কাজ করে। তাদের পারিশ্রমিক বাবদ দোকান প্রতি ২০/৫০ টাকা তোলা হয়ে থাকে। বাজার কমিটির নেতারা স্থানীয় পুলিশের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েই এই টাকা তোলার নির্দেশ দিয়েছেন। করোনার কারণে এই টাকা আদায় বন্ধ ছিলো, ঈদ উপলক্ষে আবারও চালু করা হয়েছে।
ভূক্তভোগী ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারের সরকার নির্ধারিত খাজনার অতিরিক্ত খাজনা পরিশোধের পরও নানান অজুহাতে টাকা নেয়া হয়। গত দুই সপ্তাহ যাবত কমিউনিটি পুলিশের নামে প্রত্যেক দোকান ও বিট থেকে ২০/৫০ টাকা করে চাঁদা তুলা হচ্ছে। এই বাজারে আমাদের সাথে রীতিমত জুলুম করা হচ্ছে। আমরা সপ্তাহে একদিন হাটে আসি। এখানে কাউকে চিনিও না। যে যার মতো এসে চাঁদা দাবি করছে এবং নিচ্ছে। বাজারের খাজনার টাকা ছাড়াও বিট প্রতি সপ্তাহে ৫০০ টাকা দিতে হয়। চাঁদা আদায় করছে বাজারের প্রভাবশালীরা, তাই বাজারের টহল পুলিশও তাদের কিছু বলে না। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির কোষাধ্যক্ষ ও টঙ্গী বাজার চাউল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান টাকা আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, টঙ্গী বাজারের যানজট নিরসনে কমিউনিটি পুলিশের ৮জন সদস্য কাজ করে। তাদের জন্য ঈদের বকশিস হিসেবে দোকান প্রতি ২০টাকা তোলা হচ্ছে। টঙ্গী পূর্ব থানার একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি জানেন দাবি করে মজিবুর রহমান বলেন, আমরা থানায় জানিয়ে এই টাকা তুলছি। এটা কোন চাঁদা নয়। ঈদ উপলক্ষে বকশিস নেয়া হচ্ছে।
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ জাবেদ মাসুদ বলেন, কমিউনিটি পুলিশের নামে চাঁদা তোলার কোন নিয়ম নেই। ইতিপূর্বে এ ধরনের অভিযোগ উঠার পর অভিযান পরিচালনা করে বাজাওে টাকা তোলা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। আবারো এইরকম অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories