টঙ্গী পূর্ব থানাধীন টঙ্গী রেলওয়ে ষ্টেশন গোলচত্বর এবং বউ বাজার এলাকায় পুরাতন ও চোরাই মোবাইলসহ ইলেকট্রনিক মালামাল, জুতা, প্যান্ট, শার্ট, কাপড় এবং মাদকদ্রব ক্রয় বিক্রয়সহ নানা অপকর্মের অভয়ারণ্য হিসেবে রাজধানীর ঢাকা ও গাজীপুরবাসীর কাছে পরিচিত। চুরি, ডাকাতি ছিনতাইয়ের মালামাল ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য জায়গাটি নিরাপদ বলে দাবি ক্রেতা ও বিক্রেতাদের। এই দুটি বাজার সম্পর্কে স্থনীয় বিভিন্ন মহল অবগত থাকলেও কারো ভ্রু-ক্ষেপ নেই। স্থানীয় প্রশাসন মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে অপরাধ চক্রের পাকড়াও করে জেল হাজতে প্রেরণ করলেও থামছে না অপরাপমূলক কর্মকান্ড।
বউ বাজারে বেশ কয়েকটি মাকের্টের ভেতর এবং টঙ্গী রেলওয়ে ষ্টেশন গোল চত্বরে খোলামেলা বসে প্রায় দুই শতাধিক পুরাতন ও চোরাই মোবাইলসহ ইলেকট্রনিক মালামাল, জুতা, প্যান্ট, শার্ট, কাপড় ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত ব্যবসায়ী বিভিন্ন ধরনের পুরাতন মালামাল ক্রয় বিক্রয় করে থাকে।

স্থানীয়রা জানান, এ দুটি মার্কেটের ব্যবসায়ীদের মধ্যে হাতেগোনা ১৫/২০ জন চোরাই মোবাইল ও বিভিন্ন ইল্যেক্ট্রনিক পণ্যে এবং চোরাই জুতাসহ দামী কাপড় ক্রয়-বিক্রয় করে থাকেন। রহমানের নিজ ব্যবসার পাশাপাশি হাবিবুর রহমানের টিনসেট মার্কেটে প্রতিটি দোকান থেকে ব্যাবসায়ী আ: রহমানসহ স্থানীয় বেশ কয়েকজনের নেতৃত্বে এসব দোকান (বিটপ্রতি) প্রতিদিন ১০০-৫০০ টাকা এবং টঙ্গী রেলওয়ে ষ্টেশন গোলচত্বর এর পুরাতন ও চোরাই জুতা ও কাপড় মার্কেট সমিতির সভাপতি হাবিবের নেতৃত্বে কয়েকজন এ চাঁদার টাকা উত্তোলন করে থাকে বলেও জানান স্থানীয়রা। এ বাজারে মাদার বোডসহ ইলেকট্রনিক মালামাল ক্রয় বিক্রয়ে সাথে জড়িত অপু ও রুবেলের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।
স্থানীয়রা আরো জানান, প্রায় দুই যুগ ধরে বউবাজার এলাকায় চলছে পুরাতন মালামাল ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবসা। সম্প্রতি একটি চক্র পুরাতন মালামাল ক্রয় বিক্রয়ের পাশাপশি চোরাই মালামাল ক্রয় বিক্রয় করে মার্কেটের সুনাম ক্ষুন্নসহ সাধারণ ব্যবসায়ী ও হকারদের চরম ক্ষতি করেছে। ফলে দিনদরিদ্র সাধারণ মানুষ বিভিন্ন ভাবে হয়রানীর শিকার হয়ে ব্যবসা ছেড়ে গ্রামে চলে গেছে।
জানা যায়, প্রতিদিন বিভিন্ন নামিদামি ব্র্যান্ডের চোরাই এবং ছিনতাই হওয়া শতাধিক স্মার্ট ফোন এই মার্কেটে ক্রয়-বিক্রয় হয়ে থাকে। কতিথ আছে, চোরাই এবং ছিনতাইয়ের বিভিন্ন মালামাল এখানে আসার পর একটি চক্র তা ক্রয় করে এবং এ সকল পণ্যের প্রতিটি অংশ খুলে আলাদা (টাচ, ডিসপ্লেমাদারবোর্ড, ব্যাটারি) ভাবে বিক্রি করে থাকে।
পুরাতন ও চোরাই এই মার্কেটে, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, এলইডি টিভি, ফ্যন, স্পিকার, মোবাইল সেট, হাতঘড়ি, চশমা, চার্জার লাইট, টেবিল ফ্যান, টর্চলাইটসহ পুরাতন শাট প্যান্ট কাপড় এবং গৃহস্থালি বিভিন্ন পণ্য প্রকাশ্যেই ক্রয়-বিক্রয় হয় এখানে।
স্থানীয়রা আরো জানান, বউবাজার এলাকার পুরাতন মালামাল এবং চোরাই পন্য-সামগ্রীর এই বাজার প্রতিদিন ভোর ৪টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ছিনতাই ও ডাকাতিসহ সংঘটিত বিভিন্ন অপরারের মালামাল ক্রয়-বিক্রয় হয়। এছাড়া বিকাল ৩টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এখানে ওইসব মালামাল ক্রয়-বিক্রয়ের জমজমাট হাট বসে।
রাজধানীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদকসেবীরা চুরি, ছিনতাই করে নিয়ে আসা নানান পণ্য-সামগ্রী এখানে বিক্রি করে থাকে। ভোর হলেই ভুক্তভোগীরা তাদের চুরি, ছিনতাই ও খোয়া যাওয়া মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ফিরে পেতে এ দুটি হাটে আসেন এবং দ্বিগুণ মূল্য দিয়ে তা ফিরিয়ে নিয়ে যান। আবার এখানে এসে অনেকে প্রতারণার শিকার হয়ে হারান সর্বস্ব এমন ঘটনাও রয়েছে একাধিক।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, স্থানীয় প্রশাসনের যথাযথ দৃষ্টি থাকলে এবং স্থানীয়দের সহযোগীতায় চোরাই মার্কেটগুলো বন্ধ করে দিলে এলাকায় চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা কমে যাবে বলে ধারণা এলাকাবাসীর। অন্যথায় এসব ব্যবসায়ীরা এলাকার মাদকসেবী, টোকাই, এবং ভাঙ্গারী টোকানো এমনকি স্থানীয় চিহ্নিত ছিনতাইকারী ও চোরদের হাজার হাজার টাকা দাদন দিয়ে এসব ব্যবসা পরিচালনা করায় দিনদিন এলাকায় চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রবণতা বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে বউ বাজার ও টঙ্গী রেলওয়ে ষ্টেশন গোলচত্বরে এসব পুরাতন ও চোরাই ব্যবসার প্রবতাতা লক্ষ করার মতো।
বেশ কয়েক মাস পূর্বে বউবাজার এলাকায় চোরাই মোবাইলের এমন হাট বাজার সমন্ধে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) মো. ইলতুৎ মিশ বিষয়টি অবগত হলে উনার নির্দেশে তাৎক্ষনিক টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার্স ইনচার্জ মো. জাবেদ মাসুদের সার্বিক সহায়তায় থানার এস আই আশিকুল হক রোনাল্ড, এসআই মো. রাজীব হোসেন, এসআই অহিদ মিয়া, এসআই লিটন শরীফসহ সঙ্গীয় একদল পুলিশ সদস্য বউ বাজারে অভিযান চালিয়ে চোরাই মোবাইল ক্রয় ও বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মো. আল মামুন (৩৬), মো. জীবন (৩৮) ও মো. শফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। এসময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন কোম্পানির বেশ কিছু সচল ও অচল মোবাইল ফোন উদ্ধার করেন।
এবিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) মো. ইলতুৎ মিশ জানান, বউ বাজার এলাকায় এমন চোরাই মার্কেট সমন্ধে আমার জানা ছিল না। এবিষয়ে জানার পর ‘বউ বাজার’ মার্কেট আমরা কড়া নজরদারিতে রেখেছি। আমাদের অভিযান অব্যহত রয়েছে। চুরি, ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত কাউকে পেলে আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।
Leave a Reply