শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০৫:২৭ অপরাহ্ন

টঙ্গীতে পুলিশ দম্পতির স্ত্রীর মামলায় স্বামী এএসআই এদেল শ্রীঘরে

মৃণাল চৌধুরী সৈকত
  • আপলোডের সময় : মঙ্গলবার, ৮ মার্চ, ২০২২
  • ১২২ বার

গাজীপুরের টঙ্গীতে পারিবারিক কলহের জেরে নারী পুলিশ কর্মকর্তার দায়েরকৃত মামলায় তার পুলিশ স্বামীকে অত্যন্ত সংগোপনে শ্রীঘরে পাঠানো হয়েছে। টঙ্গী পূর্ব থানায় সংগঠিত এঘটনার কথা জানাজানি হলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। থানার এএসআই লিজা আক্তার (৩২) তার স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে অভিযুক্ত এএসআই এদেল হককে (৩৪) গ্রেফতার করে সোমবার জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।
লিজা টাঙ্গাইলের কালিহাতি থানার লুহুরিয়া গ্রামের গফুর মিয়ার মেয়ে। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা এএসআই এদেল হক কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট থানার ছাটমাধাই গ্রামের মৃত আজমত আলীর ছেলে। তিনি খুলনা জেলার সদর রেলওয়ে (জিআরপি) ফাঁড়িতে কর্মরত।
মামলা সুত্রে জানা যায়, এক বছর পূর্বে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের দ্বিতীয় বিবাহ হয়। এর কিছুদিন পর হতে অভিযুক্ত এদেল হক তার প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিতে লিজার কাছে ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। এনিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। গত ২৪ ফেব্রুয়ারী এদেল হক লিজার বর্তমান কর্মস্থল টঙ্গী পূর্ব থানায় এসে পুনরায় তার নিকট উল্লেখিত টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকার করলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয় এবং এদেল হক তার গ্রামের বাডিতে চলে যায়। পহেলা মার্চ ছুটি নিয়ে স্বামীর বাড়িতে গিয়ে তাকে না পেয়ে অপেক্ষা করার পর গত শনিবার স্বামীসহ টঙ্গী আসেন লিজা। পরদিন রোববার সন্ধ্যায় টঙ্গী পূর্ব থানার পুলিশ কোয়াটারের ভিতর যৌতুকের দাবিকৃত টাকা নিয়ে লিজার সাথে তার স্বামীর তুমুল ঝগড়া হয়। এসময় তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করার একপর্যায়ে রুমে থাকা ধারালো বটি দিয়ে কোপ দিলে মাথা ও হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পেয়ে আহত হন লিজা। পরে থানার ডিউটি অফিসার ও অন্য পুলিশ সদস্যরা লিজাকে উদ্ধার করে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন।
এএসআই লিজার মুঠোফোনে তার সাবেক স্বামী-সংসার সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, ১০ বছর পূর্বে ভুয়াপুরের জনৈক সিরাজ মিয়ার সাথে তার বিয়ে হয়। সংসার জীবনে তার সাথে বনিবনা না হওয়ায় তালাকের পথ বেছে নেই। সিরাজ মিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলে তাকে তালাক দেয়া হয়েছিল কিনা এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মান-সম্মানের দোহাই দিয়ে এসব বিষয় না লেখার জন্য এ প্রতিবেদকে অনুরোধ জানিয়ে ফোনটি কেটে দেন।
যোগাযোগ করা হলে টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাবেদ মাসুদ বলেন, এঘটনায় মামলা দায়ের শেষে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories