গাজীপুরের টঙ্গী হাজীর মাজার বস্তিতে জায়গা দখল করতে গিয়ে বস্তিবাসীর সাথে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। বস্তিবাসীদের পূর্ণবাসন না করা পর্যন্ত বস্তি ছাড়তে অপারগতা প্রকাশ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এসময় অবরোধ করে। এসময় ক্ষুব্ধ বস্তিবাসীরা বস্তির জায়গা দখল করতে যাওয়া গাজীপুর মহানগর যুবলীগের সভাপতি প্রার্থী বিল্লাল হোসেন মোল্লা ও তার সহযোগিদের স্থানীয় আওয়ামীলীগ অফিসে প্রায় দেড় ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। এক পর্যায়ে উত্তেজিত বস্তিবাসী রাজউকের কর্মকর্তা-সার্ভেয়ারদের বেধড়ক মারধর ও লাঞ্ছিত করে। পরে স্থানীয় কাউন্সিলর ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে রাজউকের কর্মকর্তাসহ যুবলীগ নেতাকে উদ্ধার করেন। ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার দুপুরে। ঘটনার পর থেকে বস্তিবাসীদের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সরজমিনে গতকাল রোববার দুপুরে হাজীর মাজার বস্তিতে গিয়ে দেখা যায়, বস্তির দখল ঠেকাতে বস্তির বিভিন্ন মোড়ে সংঘবদ্ধ হয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন বস্তির নারী-পুরুষ ও যুবকরা। শনিবারের ঘটনার পর তাদের মধ্যে অস্থিরতা বিরাজ করছে। যে কোনো মূল্যে নিজেদের থাকার শেষ আশ্রয়স্থলটুকু রক্ষা করতে চান বস্তিবাসী।
অভিযোগ করে বস্তি বাসিন্দা আব্দুস সালাম জানান, স্বাধীনতার পর থেকে তারা পরিবার পরিজন নিয়ে হাজীর মাজার বস্তিতে বসবাস করে আসছে। গত ২৭ নভেম্বর ভোররাতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে বস্তির প্রায় ৮ শতাধিক ঘর ও তাদের মূল্যবান জিনিসপত্র সবকিছু পুড়ে ছাঁই হয়ে যায়। এঘটনার রেশ না কাটতেই শনিবার হঠাৎ করে যুবলীগ নেতা বিল্লাল হোসেন মোল্লার নেতৃত্বে ২০/২৫ জন যুবক ও রাজউকের সার্ভেয়ারসহ ট্রিম গ্রুপ নামে একটি কোম্পানীর কর্মকর্তারা বস্তিতে এসে জায়গা মাপতে শুরু করে। এসময় জায়গা মাপের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা জানান, গত ২০১৭ সালে রাজউক থেকে ট্্িরম গ্রুপ নামে একটি কোম্পানী দুই বিঘা জমি বরাদ্দ নিয়েছে। সেই জায়গা উদ্ধারের জন্য তারা মাপ দিয়ে সীমানা নির্ধারণ করছে। এ খবর অন্যান্য বস্তিবাসীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে বস্তিবাসী উত্তেজিত অবস্থায় ঘটনাস্থলে এসে জড়ো হয় এবং দখলদারদের তাতে বাধা বাধা প্রদান করে। এক পর্যায়ে বিল্লাল মোল্লার ক্যাডার বাহিনী বস্তিবাসীদের উপর চড়াও হয়ে গুলি করার হুমকি দেয়। এমনকি তাদের অবশিষ্ট বস্তিঘর পুড়িয়ে দেয়ারও হুমকি প্রদান করে। পরে বি-ক্ষুব্ধ বস্তিবাসী তাদেরকে ধাওয়া দিয়ে হাজীর মাজার ইউনিট আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন। একপর্যায়ে রাজউকের কর্মকর্তা ও সার্ভেয়ারদের মারধর ও লাঞ্চিত করে।
অপর বস্তিবাসীর নেতা বিল্লাল হোসেন বলেন, ২০১৭ সালে রাজউক থেকে প্লট বরাদ্দ পাওয়ার দাবি করলেও এতো বছরে কেউ কখন এধরনের দাবি নিয়ে আসেনি। রহস্যজনক ভাবে বস্তিটি আগুনে পুড়ে যাওয়ার পর প্লট বরাদ্দ পাবার দাবিদারদের কার্যক্রম রহস্যজনক মনে হচ্ছে। আমাদের সন্দেহ ওই চক্রটিই বস্তির জায়গা দখলের উদ্দেশ্যে ইতিপূর্বে পরিকল্পিতভাবে বস্তিতে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে।
এব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে গাজীপুর মহানগর যুবলীগের সভাপতি পদপ্রার্থী বিল্লাল হোসেন মোল্লা বলেন, রাজউক থেকে প্লট বরাদ্দ পাওয়া ট্্িরম গ্রুপ আমার নিজ এলাকায় ওয়্যার হাউজ ও কারখানা ভাড়া নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। সেই সুবাদে তাদের সাথে আমার সু-সম্পর্ক রয়েছে। ট্্িরম গ্রুপের লোকজনের আবদারে সেখানে তাদের সাথে গিয়েছিলাম। কিন্তু বস্তির লোকজন ভুল বুঝে রাজউকের কর্মকর্তা ও সার্ভেয়ারদের ওপর হামলা চালায়।
যোগাযোগ করা হলে গাসিক ৫৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন সরকার বলেন, রাজউকের কর্মকর্তা ও যুবলীগ নেতাকে অবরুদ্ধ করে রাখার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছে বস্তিবাসীকে বুঝিয়ে শান্ত করি এবং অবরুদ্ধদের উদ্ধার করি।
এব্যাপারে ট্্িরম গ্রুমের কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ বলেন, সেখানে আমাদের গ্রুপের (ট্্িরম গ্রুপ) দুই বিঘা জমি রয়েছে। রাজউকের কর্মকর্তা ও ট্্িরম গ্রুপের প্রতিনিধিরা সেখানে জমি মেপে সীমানা উদ্ধারের জন্য গেলে বস্তিবাসীরা উত্তেজিত হয়ে উঠে।
এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহ আলম জানান, সরকারি বিধি মোতাবেক রাজউক কিংবা অন্যকোন কোম্পানি থানা পুলিশের নিকট সহযোগিতা চায়নি। তবে বস্তিতে জায়গা মাপতে গিয়ে ঝামেলায় পড়ে একজন ব্যক্তি ফোন করে পুলিশের সহায়তা চেয়েছেন। পরে টহল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
Leave a Reply