টঙ্গী প্রতিবন্ধী সংস্থা এবং বিদ্যালয় নামে একটি সমাজ সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের জামানতকৃত টাকা আত্বসাৎ এবং বিদ্যালয়ের প্রতিষ্টাতা শামীমা খানমকে মারধরসহ হয়রানীর অভিযোগে আদালতে স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ নেতা কবির বেপারী এবং টুটুল সরকার নামে দু-ব্যক্তির নামে মামলা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, টঙ্গীর পূর্ব আরিচপুর বৌ-বাজার এলাকার মৃত ডা. আলী আকবরের মেয়ে শামীমা খানম নিজে টঙ্গীর বিভিন্ন গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সহযোগীতা নিয়ে অত্র এলাকার দুস্থ অসহায় প্রতিবন্ধীদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে “টঙ্গী প্রতিবন্ধী সংস্থা এবং বিদ্যালয়” নামে একটি প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার জন্য অত্র এলাকার ৪৫ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং মৃত আক্কাছ আলী বেপারীর ছেলে কবির উদ্দিন বেপারীর নিকট ১ নভেম্বর ২০১৯ ইং এক লক্ষ দশ হাজার টাকা জামানত এবং মাসিক ৫ হাজার টাকা ভাড়া প্রদান সংক্রান্ত একটি চুক্তিপত্র সম্পাদনের মাধ্যমে শামীমা খানম তার ব্যক্তিগত একটি অফিস এবং উপরোক্ত প্রতিবন্ধী প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা কার্যক্রম শুরু করেন। চুক্তিপত্রে ওই প্রতিষ্টানটি সেখানে ১ নভেম্বর ২০২২ ইং পর্যন্ত থাকার কথা থাকলেও গত ৩১ জুলাই ২০২০ ইং কবির উদ্দিন বেপারী উপরোক্ত চুক্তি ভঙ্গ করে এবং স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে জামানতের টাকা ফেরৎ না দিয়ে উপরোক্ত প্রতিষ্টানটি ধ্বংশ করতে তার ভবন থেকে বের করে দেন। জামানতের টাকা ফেরৎ এবং অন্যায় ভাবে প্রতিষ্টানটি বন্ধ করে ভবন থেকে বের করে দেয়ায় শামীমা খানম সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ দিয়েও কোন সূরাহা পায়নি। উপরোন্ত শামীমা খানম নিজ প্রচেষ্টায় উক্ত প্রতিবন্ধী প্রতিষ্ঠানটি নতুন ঠিকানায় নিয়ে পরিচালনা কার্যক্রম শুরু করলে কবির উদ্দিন বেপারী জামানতের এক লক্ষ দশ হাজার টাকা ফেরৎ না দিয়ে উল্টো তার সহযোগী টুটুল সরকারসহ ১০/১৫ জন মিলে শামীমাকে উক্ত প্রতিষ্ঠান চালাতে হলে প্রতি মাসে ১০ হাজার করে টাকা চাঁদা দিতে হবে বলে দাবী করে বিভিন্ন প্রকার হুমকিসহ শামীমাকে হয়রানী করতে থাকে। এসব নিয়ে শামীমা খানম এবং কবির উদ্দিন বেপারীগং এর মধ্যে দীর্ঘদিন যাবৎ বিরোধ চলে আসছে।
বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট-৩(টঙ্গী) আদালত, গাজীপুর এর সি, আর মামলঅ নং-৬৫/২২, ধারা-১৪৩/৪২৭/
৩২৩/৩৭৯/৩০৭/৩৫৪/৩৮৫/৫০৬ দন্ডবিধি’র সূত্র অনুযায়ী আরো জানা যায়, ওই বিরোধের জের ধরে গত ২০ জানুয়ারী ২০২২ ইং বিকেলে কবির উদ্দিন বেপারী এবং তার সহযোগী টুটুল সরকারের নেতৃত্বে ১৫/২০ জন সঙ্গবদ্ধ হয়ে টঙ্গী প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে গিয়ে শামীমার নিকট চাঁদা দাবী করেন। দাবীকৃত চাঁদার টাকা না দেয়ায় তারা শামীমাকে বেদড়ক মারধর করে এবং এবং ২৪ হাজার টাকা মূল্যেও মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ভেঙ্গে ফেলে, সেই সাথে প্রতিষ্ঠানের মূল্যবান আসবাবপত্র ভেঙ্গেলঅখ টাকার ক্ষতি সাধন করে এবং যাবার সময় প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যায়। খবর পেয়ে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত শামীমাকে উদ্ধার করলেও মামলা না নেয়ায় রিুপায় হয়ে আদালতে মামলা করতে বাধ্য হয় বলে শামীমা খানম জানান।

এছাড়াও স্থানীয় জাহাঙ্গীর, হুমায়ুন সরকার, ইলিয়াস আহম্মেদ সিটু, সোহেল, জাহিদসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৫/৬ জন মিলে ওই নারীর নিকট এক লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করেন অন্যথায় প্রতিবন্ধী স্কুলটি বন্ধ করে দেয়া হবে বলে হুমকি দিয়েছেন বলে গত ১৯ জানুয়ারী টঙ্গী পূর্ব থানার সাধারণ ডায়রী নং-১১৩৩ রজু করেছেন।

এব্যাপারে শামীমা খানম বলেন, কবির বেপারী আমার প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের নামে জামানতকৃত টাকা আত্বসাৎ এবং নিয়মিত আমার কাছ থেকে চাঁদা নিতেই এসব করছে। চাঁদা না দেয়ায় আমাকে মারধর করেছে, ওইদিন স্থানীয় পুলিশ আমার প্রাণ বাঁচিয়েছে। আমি মামলা করায় কবির বেপারী এবং টুটুল সরকারগং আমাকে প্রতিনিয়ত মেরে ফেলার চেষ্টা করছে।
এব্যাপারে কবির উদ্দিন বেপারীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি শুনেছি আমার নামে আদালতে মামলা দিয়েছে, ডিবি পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। নদীর পাড়ে কার সাথে ঝগড়া হয়েছে, সেখানে আমাকে জড়ানোর কারণ আমি জানি না। ঘটনার সত্যতা না পেলে মামলা ঠিকবে কি করে। যা পারে করুক।
Leave a Reply