সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০৮:৪৫ পূর্বাহ্ন

টঙ্গীতে চালের বস্তার নীচে পড়ে এক দিনমুজুর নিহত ॥ আহত-১

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপলোডের সময় : রবিবার, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২২
  • ১৯৬ বার

প্রতিদিনের ন্যায় গোডাউনে চাল ও ডালের বস্তা থামাল করার করার সময় অসাবধনতাবসত চালের থামাল ভেঙ্গে পড়ে সোহেল রানা লিটন (৩৫) নামে এক দিনমুজুর নিহত এবং অপর দিনমুজুর আবুল হাসেম (৫০) আহত হয়েছে। পুলিশী তদন্ত এবং ময়নাতদন্ত বিহীন লাশ গ্রামের বাড়ি নিয়ে দাফন করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার ভোর রাত সাড়ে ৫টায় টঙ্গী বাজার হাজী স্টোরের নিজস্ব গোডাউনে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে আনোয়ার হোসেন সুমন এবং রাজিব হোসেনের মালিকানাধীন গফুর মার্কেটস্থ হাজী স্টোর চাল আমদানী করার পর তা গোডাউনজাত করতে ওইদিন গভীর রাতেই বেশ কয়েকজন শ্রমিক কাজ শুরু করে। ভোর রাত সাড়ে ৫ টায় গোডাউনে প্লাষ্টিকের বস্তা ভর্তি চাল থামাল দেয়ার সময় অসাবধানতাবশত প্রায় অর্ধশত চাল ভর্তি বস্তা দিনমুজুর সোহেল রানা লিটন ও আ: হাসেমের উপর পড়ে যায়। এসময় সোহেল রানা বস্তায় চাপা পড়লেও হাসেম সাময়িক আহত হয়। বিষয়টি টের পেয়ে অন্যান্য শ্রমিকরা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে। সোহেল রানার অবস্থা আশংকা জনক দেখে তাকে দ্রুত স্থানীয় একটি বে-সরকারী হাসপাতাল ও পরে টঙ্গীস্থ শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার জেনারেল হাসাপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করেন। নিহত সোহেল রানা লিটন রাজশাহী জেলার বাঘা থানার কিশোরপুর গ্রামের মো. রাহেজ মোল্লার ছেলে। সে টঙ্গী বাজারস্থ রুবেল সরকারের মেসে ভাড়া থেকে হাজী স্টোরে দিনমুজুরের কাজ করতো। ঘটনার পর তার আত্বীয় স্বজনরা বিষয়টি থাকা পুলিশকে অবহিত না করে লাশ গ্রামের বাড়ি নিয়ে দাফন সম্পন্ন করেন।
এ খবর জানা জানি হয়ে পড়লে শনিবার বিকেল ৩ টায় টঙ্গী পূর্ব থানার এস আই বিষয়টি জানতে ঘটনাস্থল ঘুরে আসেন। এরপর বিকেল ৪ টায় উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে এস আই কাজী নেওয়াজ হাজী স্টোরের ছোট মালিক রাজিব হোসেনকে প্রাথমিক জি¹াসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যান এবং রাত প্রায় সাড়ে ১০ টায় ছেড়ে দেন। এ ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে ধুম্্রজাল সৃষ্টি হয়। কেউ বলছে পুলিশকে না জানিয়ে লাশ নিয়ে যাওয়ার কারণ কি ? আবার কেউ বলছে, থানার একজন এস আই ঘটনাস্থল ঘুরে যাওয়ার পর পূণরায় প্রায় দু-ঘন্টা পর দোকান মালিকের ছোট ভাই রাজিব হোসাইনকে থানায় নিয়ে প্রায় ৬ ঘন্টা পর ছেড়ে দিয়েছেন !
এদিকে সোহেল রানার ভগ্নিপতি দিনমুজুর মো. জাহিদ জানান, চাল-ডালের বস্তা ট্রাক থেকে নামিয়ে গোডাউনে থামাল দেয়ার সময় প্রায় অর্ধশত চাল ভর্তি বস্তা হেলে পড়ে গেলে সোহেল রানা বস্তার নীচে চাপা পড়ে। এতে সে গুরতর আহত হয়ে মারা যায়। নিহত সোহেল রানার পরিবার পরিজন এবং আমাদের কারো কোন অভিযোগ না থাকায়, স্থানীয় কাউন্সিলর এবং ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির কাছ থেকে লাশ দাফনের অনুমতিপত্র নিয়ে আমরা লাশ গ্রামের বাড়ি এনে দাফন সম্পন্ন করেছি।
এ বিষয়ে স্থানীয় ৫৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. গিয়াস উদ্দিন সরকার জানান, আমি ঘটনাটি পরে শুনেছি, এটি একটি দূর্ঘটনা। আমি সিটি কর্পোরেশনের নিয়ম অনুযায়ী কবরস্থানে লাশ দাফনের জন্য ইমাম বরাবর একটি লিখিত আবেদনপত্র দিয়েছি।
এ ব্যাপারে টঙ্গী বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিন জানান, আমরা সমিতি থেকে সোহেল রানার দূঘর্টনায় মৃত্যু এবং লাশ দাফনের জন্য একটি লিখিত দিয়েছি। তাছাড়া নিহতের পরিবার যাতে ক্ষতিপূরণ বাবদ দোকান মালিকৈর কাছ থেকে সাহায্য পেতে পারে সেই ব্যবস্থা করে দিয়েছি।
উপরোক্ত বিষয়টি জানতে থানার এস আই কাজী নেওয়াজ এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে, তিনি বলেন ঘটনাটি একটি দূর্ঘটনা, উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে রাজিবকে আনা হয়েছিলো। পুলিশকে না জানিয়ে বা কার নির্দেশে নিহতের পরিবার লাশ নিয়ে গেলেন বা কোন মারামারির ঘটনা ঘটেছিলো কি না জি¹েস করতেই তিনি রেগে গিয়ে বলেন, অপ্রাসঙ্গিক কোন কথা না বলে ন্যায় ও সত্যেরে পথে কাজ করুন, নোংরা সাংবাদিকতা ছেড়ে দিন। সাংবাদিকতা পেশাকে কলুষিত করবেন না। ওসব ব্যাপারে আমার কিছু জানা নেই।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories