এবার ভিন্ন মাত্রার ভিন্নরকম ঘুষ বানিজ্যেও অভিযোগ পাওয়া গেছে এক পুলিশ সদস্যরে বিরুদ্ধে। টঙ্গী পূর্ব থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক মোমিনুল ইসলাম অতি কৌশলে যে কোন অপরাধীকে আটকের পর নগদ অর্থ আদায়ের মাধ্যমে তাকে ছেড়ে দেওয়াসহ সপ্তাহ বা মাসিক ভিত্তিত্বে মাসোহার আদায়ের একাধিক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সপ্তাহ বা মাসিক ভিত্তিক টাকা না পেলেই তার চেনাজানা ওইসব অপরাধীদের ধরে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া অথবা অর্থ নিয়েও দ্বিগুন মাল দিয়ে মামলা দেয়ার মত ঘটনাও ঘটিয়েছেন একাধিকবার। এসব ঘটনায় বুধবার রাতে তাকে গাজীপুর পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন অভিযানের নামে কিংবা কর্তব্যের বাইরে বেশীরভাগ সময় সাদা পোষাকে বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীকে মাদকসহ আটকের পর তাকে ছেড়ে দেয়ার কথা বলে আসামির পরিবারের কাছে মোটা অংকের টাকা দাবী করেন। টাকা না পেলে দ্বিগুন মাল দিয়ে মামলা মারফত আদালতে প্রেরণ করে থাকেন। আবার টাকা পেলে ছেড়েও দেন থানার বাইরে থেকে অনায়াসে। এমনই এক ঘটনা ঘটেছে পূর্ব আরিচপুর এলাকার অমিত নামে এক মাদক ব্যবসায়ীর ক্ষেত্রে
জানা যায়, অমিত বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে ম্যানেজ করে এলাকায় তার মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছে। সম্প্রতি ওই পুলিশ সদস্যদেও সপ্তাহ ভিত্তিক টাকা দেয়া বন্ধ করে দিলে ক্ষীপ্ত হয়ে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাকে ৮পিচ ইয়াবাসহ আটক করেন টঙ্গী পূর্ব থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক মোমিনুল ইসলাম। পরে অমিতকে ছেড়ে দেয়ার কথা বলে তার স্ত্রীর নিকট ২০ হাজার টাকা দাবী করেন তিনি। অমিতের স্ত্রী ১৬ হাজার ৭০০ টাকা পরিশোধ করলেও অমিতকে না ছেড়ে থানায় এনে আরো টাকা দাবী করেন। টাকা না দেয়ায় ৫২ পিচ ইয়াবা দিয়ে মাদক আইনে মামলা রজু করে আদালতে প্রেরণ করেছেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। এনিয়ে অমিতের স্ত্রী প্রতিবাদ করলে উক্ত পুলিশ কর্মকর্তা রাতেই ৮ হাজার টাকা ফেরৎ দেন অমিতের স্ত্রীকে।
টাকা নেয়ার বিষয়টি অকপটে স্বীকারও করেছেন পুলিশের এএসআই মোমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিষয়টি ওসি স্যারও অবগত আছেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টায় আরিচপুর বউ বাজার এলাকা থেকে অমিত হাসানকে আটক করা হয়। অমিত টঙ্গীর দক্ষিণ আরিচপুর এলাকার কাজী ভিলায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করেন। সে একজন মাদক ব্যবসায়ী। ওসি স্যারের নির্দেশে অমিতের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে।
অমিতের স্ত্রী বৃষ্টি জানায়, অমিতকে ৮ পিচ ইয়াবাসহ আটকের পরপরই টঙ্গী পূর্ব থানার এএসআই মোমিনুল ইসলাম মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে, তিনি ২০ হাজার টাকা নিয়ে বউ বাজার রেলগেইট এলাকায় দেখা করতে বলেন। পরে ১৩ দিনের সন্তানকে খালি বাসায় রেখে তিনি টঙ্গী বাজারে একটি জুয়েলারীর দোকানে স্বর্ণালঙ্কার বন্ধক রেখে ১৬ হাজার ৭’শ টাকা নিয়ে এএসআই মোমিনুলের হাতে তুলে দেই। টাকা বুঝে পাওয়ার পর মোমিনুল স্যার জানান, মধুমিতা রেলগেইট এলাকায় গিয়ে তোমার স্বামীকে ছেড়ে দিবো, তুমি বাসায় চলে যাও। কিন্তু আমার স্বামীকে না ছেড়ে থানায় নিয়ে যান তিনি। পরে পুলিশের মোটরসাইকেলের পেছনে ছুটতে ছুটতে টঙ্গী পূর্ব থানার গেইট পর্যন্ত চলে আসি। তখন এএসআই মোমিনুল স্যার জানান, তোমার স্বামীকে ছাড়া যাবে না। ইয়াবার মামলায় চালান দেয়া হবে। এ কথা শুনে টাকা ফেরত চাইলে এএসআই মমিনুল স্যার আমাকেও মাদক ব্যবসায়ী এবং মাদক পাচারকারী হিসেবে মামলা দিয়ে চালান করার হুমকি দেন।
অমিতের স্ত্রী বৃষ্টি আরোও বলেন, স্বামীকে ছেড়ে দেয়ার জন্য এএসআই মমিনুল ইসলামকে ১৬হাজার ৭০০ টাকা দিয়েছি। কিন্তু তিনি আমাকে ৮ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছে। বাকি টাকা দিয়ে মাল (ইয়াবা) কিনে মামলা দিবে বলে জানিয়েছেন। আটকের সময় অমিতের কাছে ৮ পিছ ইয়াবা পাওয়ার কথা জানালেও দাবীকৃত টাকা না পেয়ে বুধবার দুপুরে ৫২ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে আদালতে পাঠিয়েছে। বাকি ইয়াবা গুলো আসলো কোথা থেকে..? এব্যাপারে এডিসি বরাবর অভিযোগ দেয়ার পর তিনি আরো ক্ষীপ্ত হয়ে আমাকে অভিযোগ তুলে নিতে ফোন দিয়ে ভয় দেখান। সর্বপরি তিনি ১০ হাজার টাকা ফেরৎ দেবেন এবং আর কখনো এমন হবে না মর্মে আশ^াস দিয়ে বার বার ফোন দিতে থাকেন। এছাড়াও তিনি বউ বাজার, টঙ্গী বাজার, আরিচপুর এলাকার একাধিক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে সপ্তাহ ভিত্তিক টাকা নিয়ে থাকে, অমিতও তাকে নিয়মিত টাকা দিতো। আমি অসুস্থ থাকায় টাকা দিতে দেরী হওয়ায় তিনি আমার স্বামীকে ধরে আদালতে পাঠিয়েছেন।
এবিষয়ে সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মোমিনুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি ওসি স্যার অবগত আছেন। ওসি স্যারের নির্দেশে কিছু টাকা ফেরতও দিয়েছি। আর আমাদের মাল (ইয়াবা) কিনতে কিছু খরচ আছে। তাই বাকি ১০ হাজার টাকা রেখে দিছি।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মো. জাবেদ মাসুদ বলেন, আমি বিষয়টা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। যদি সে এমন কিছু করে বা বলে থাকে তাহলে তাকে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে।
এদিকে এ খবরটি কয়েকটি অনলাইন গনমাধ্যমমে প্রকাশের পর তাকে বুধবার রাতেই গাজীপুর পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
Leave a Reply