সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০৬:১৮ পূর্বাহ্ন

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে অন্তরঙ্গ অবস্থায় এএসআই আটক ॥ আতংকে পুরুষশুন্য গ্রাম

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : মঙ্গলবার, ২ নভেম্বর, ২০২১
  • ১২৪ বার

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের উত্তর ধর্মপুর গ্রামে বাদীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় গ্রামবাসীর হাতে আটক এএসআই তোফাজ্জল হোসেনকে প্রত্যাহারের পর সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ৯০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় এ পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের উত্তর ধর্মপুর গ্রামের দবির উদ্দিনের ছেলে জহুরুল হক (২৫), কপিল উদ্দিনের ছেলে রবিউল ইসলাম (২৭), বদিউজ্জামানের ছেলে সুমন মিয়া (৩৯), মহির উদ্দিনের ছেলে হামিদুল ইসলাম (৪৮), খয়বর হোসেনের ছেলে আব্দুল খালেক (৪০), আমজাদ হোসেন (৩৮), কবির উদ্দিনের ছেলে মুকুল মিয়া (২৩) বকুল মিয়া (২০), রাজু মিয়া (৩৭), আবুল হোসেনের ছেলে জয়নাল আবেদীন (৪২), আশরাফুলের ছেলে শাহজাহান সিদ্দিক (৩৩) পাঁচগাছি শান্তিরাম গ্রামের আব্দুল রাজ্জাকের ছেলে আজিজুর রহমান (৩৮) ও গাইবান্ধা সদরের ফারাজি পাড়ার আফসার আলীর ছেলে নাজমুল হক (৩৭)।

সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহিল জামান মামলা ও গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এদিকে গ্রেফতার এড়াতে গ্রাম ছেড়েছে উত্তর ধর্মপুরের পুরুষরা। ফলে পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে উত্তর ধর্মপুর গ্রাম। মামলা সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের উত্তর ধর্মপুর গ্রামের এক নারীর গাছ জোরপূর্বক কেটে নেয়ার অভিযোগ পেয়ে ২৯ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টার দিকে কঞ্চিবাড়ি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই তোফাজ্জল হোসেন সাদা পোশাকে তার বাড়িতে যান। পরে ওই বাড়ি থেকে ফেরার সময় এএসআই তোফাজ্জল হোসেনকে গালমন্দ করেন বাদীর ভাসুর মাসুদ মিয়া। এক পর্যায়ে তিনি চিৎকার করে গ্রামবাসীকে জড়ো করে তোফাজ্জল হোসেনকে উঠানের আম গাছে বেঁধে মারধর করেন এবং তার পকেটে থাকা টাকা ও হাতঘড়ি লুট করে নেন। সংবাদ পেয়ে কঞ্চিবাড়ি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ও সুন্দরগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে গ্রামবাসী তাদের উপর হামলার চেষ্টা চালায়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এএসআই তোফাজ্জল হোসেনকে উদ্ধার করে পুলিশ চলে যায়।

ঘটনার পর মারধর ও ছিনতাইসহ সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ এনে গত শনিবার মামলা করেন কঞ্চিবাড়ি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই মিজানুর রহমান। মামলায় ২০ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৭০ জনকে অজ্ঞাত হিসেবে আসামি করা হয়।এলাকাবাসী বলেন, কিছুদিন আগে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের উত্তর ধর্মপুর গ্রামের ওই নারীর সৌদি প্রবাসী স্বামীর সঙ্গে তা বড় ভাইয়ের জমি নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। সেই বিরোধের জেরে জোরপূর্বক গাছ কেটে নেয়ায় ওই নারী ভাসুরের বিরুদ্ধে মামলা করেন। সেই মামলার তদন্তে গিয়ে ওই প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন এএসআই তোফাজ্জল হোসেন। তিনি মামলার অজুহাতে ওই নারীর সঙ্গে প্রায়ই রাতে দেখা করতেন। গত শুক্রবার রাতে ওই নারীর সঙ্গে বাড়ির গোয়ালঘরে আপত্তিকর অবস্থায় তোফাজ্জল হোসেনকে দেখে ফেলে প্রতিবেশীরা।

ঘটনা জানাজানি হলে গ্রামবাসী তাদের আটক করে বাড়ির উঠানের আমগাছে বেঁধে পুলিশে সংবাদ দেয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সংবাদ পেয়ে কঞ্চিবাড়ি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই তোফাজ্জল হোসেনকে উদ্ধার করতে গেলে গ্রামবাসী হামলার চেষ্টা চালায়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এএসআই তোফাজ্জল হোসেনকে উদ্ধার করে। সে সময় জনগণ ছত্রভঙ্গ হয়ে বিভিন্ন দিকে ছোটাছুটি করতে গিয়ে কয়েকজন আহত হয়। সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাাহিল জামান জানান, সেদিনের ঘটনার পর কঞ্চিবাড়ি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই তোফাজ্জল হোসেনকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া পুলিশের দায়ের করা মামলায় ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories