কলেজছাত্রকে অপহরণ করে জোরপূর্বক বিয়ে করা তরুণী এখন শ্বশুরালয়ে। ওই তরুণী নিজেকে কলেজছাত্র নাজমুলের স্ত্রী দাবি করে নাজমুলের বাবার বাড়ি মির্জাগঞ্জে অবস্থান করছেন। নাজমুল মির্জাগঞ্জ উপজেলার মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের জালাল আকনের ছেলে এবং অভিযুক্ত নারী ইশরাত জাহান পাখি একই উপজেলার গাজীপুর এলাকার মো. আউয়াল হোসেনের মেয়ে। জোরপূর্বক বিয়ে করার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে ইশরাত জাহান পাখিসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে ইশরাত জাহান পাখি বলেন, নাজমুলের সঙ্গে তার দীর্ঘ দুই বছর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। নাজমুল নিজ ইচ্ছায় বিয়ে করেছেন। এখানে অপহরণ কিংবা জোরপূর্বক বিয়ে করার যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। বর্তমানে তিনি নাজমুলের বাড়িতে অবস্থান করছেন।
পটুয়াখালী সদর থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, আদালতের নির্দেশে মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। পটুয়াখালী সরকারি কলেজের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ছাত্র নাজমুল আকনকে (২৩) অপহরণের পর অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে জোরপূর্বক বিয়ে করার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে ইশরাত জাহান পাখিসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় গত ৩ অক্টোবর নাজমুল বাদী হয়ে পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারক আমিরুল ইসলামের আদালতে মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নম্বর সিআর ১০৪৬/২০২১)। মামলায় ইশরাত জাহান পাখিসহ (২৫) অজ্ঞাত আরও ৬ থেকে ৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে পটুয়াখালী সদর থানার ওসিকে এজাহার নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এদিকে নাজমুলকে জোরপূর্বক বিয়ে করার একটি ভিডিওচিত্র আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর ১৫ অক্টোবর দুপুর থেকে পাখি নিজেকে নাজমুলের স্ত্রী দাবি করে নাজমুলের বাবার বাড়ি মির্জাগঞ্জে অবস্থান করছেন।
মামলার নথির বরাত দিয়ে নাজমুলের আইনজীবী অ্যাড. আবদুল্লাহ আল নোমান জানান, তার মক্কেল নাজমুল পটুয়াখালী সরকারি কলেজের অনার্স ৪র্থ বর্ষের নিয়মিত ছাত্র এবং তিনি সরকারি কলেজের আবাসিক হোস্টেলে থাকেন। আসামি ইশরাত জাহান পাখি দীর্ঘদিন নাজমুলকে মোবাইল ফোনে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেমের প্রস্তাবসহ বিয়ের প্রলোভন দেখায়। কিন্তু নাজমুল রাজি না হওয়ায় গত ২৭ সেপ্টেম্বর পটুয়াখালী লঞ্চঘাট এলাকা থেকে নাজমুলকে চোখ বেঁধে অপহরণ করে ২৮ সেপ্টেম্বর অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে সাত- আটজন ব্যক্তি বলপূর্বক তাকে একটি নীল কাগজে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করে। ধারণা করা হচ্ছে এ দিয়ে তারা একটি কাবিননামা তৈরির পাঁয়তারা করছে। এ ঘটনায় আমরা দন্ডবিধির ১৪৩/৩৬৫/৩৭৯/৩৮৪/৫০৬ ধারা মতে আদালতে মামলা দায়ের করেছি। আদালত মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে। এদিকে নাজমুলকে অপহরণ এবং পরে জোরপূর্বক বিয়ে করার আদালতে উপস্থাপিত ভিডিওতে দেখা যায়, একটি কক্ষে এক নারীর (ইশরাত জাহান পাখি) বাম পাশে নাজমুল বসে আছেন। পেছন থেকে নাজমুলের মাথার দুদিক থেকে এক ব্যক্তি ধরে রেখেছে। সেখানে আর কয়েকজনের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এ সময় ওই নারীকে নীল কাগজে স্বাক্ষর করতে দেখা গেছে।
Leave a Reply