টঙ্গী’র শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের আউট সোর্সিং কর্মচারী সাজ্জাদ হোসেনকে (২৮) অপহরণ ও মারধরের অভিযোগে ৮ যুবককে গ্রেফতার করেছে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ। রোববার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে।
সাজ্জাদ হোসেন কর্তৃক টঙ্গী পূর্ব থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সে টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে আউট সোর্সিং কর্মচারী হিসেবে কর্মরত। হাসপাতালের ডিউটি রোস্টার অনুযায়ী সে হাসপাতালে রাত ৮টা থেকে নিরাপত্তা প্রহরী হিসাবে কর্তব্যরত থাকা অবস্থায় রাত সাড়ে ১২ টার দিকে অজ্ঞাতনামা ৩ ব্যক্তি, এর মধ্যে ১জনের হাত কাটা অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসে। সাজ্জাদ এসময় ওই ব্যক্তির হাত কি ভাবে কাটলো জানতে চাইলে, তারা ক্ষিপ্ত হয়ে সাজ্জাদকে গালাগালি করতে থাকে। এ সময় অজ্ঞাতনামা আরো ৫ জন অজ্ঞাতনামা যুবক তাদের সাথে যুক্ত হয়ে সাজ্জাদকে মারধর করতে থাকে। এসময় ইমারজেন্সিতে কর্তব্যরত ব্রাদার আউয়াল তাদের ফেরাতে গেলে তারা তাকে মারধর করে এবং এক পর্যায়ে সাজ্জাদকে জোরপূর্বক মধ্য-আরিচপুর গরু হাটা বালুর মাঠে নিয়ে বিদ্যুতে তার ও লোহার পাইপ দিয়ে বেদড়ক মারধর করে আহত করে। খবর পেয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার পুলিশ গরু হাটা বালুর মাঠ থেকে সাজ্জাদ হোসেনকে উদ্ধার এবং আকাশ (১৭), হারুন মৃধা (১৭), রাসেল মিয়া (১৬), শিফাত হোসেন রাহুল (১৭), ইনসাফ তাহমিদ প্রত্যয়(১৬), শাওন ইসলাম (১৫),
নাহিদ হাসান (১৭), ও নাজির হাসান লিমন (১৭) গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় ৮ জনকে আসামী করে মামলা হয়েছে। আহতকে উক্ত হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, একটি বিশেষ সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালের আউট সোর্সিং কর্মচারী সত্বেও সাজ্জাদ হোসেন ও তার সহযোগী অপর এক যুবক মিলে গত প্রায় ১৫/১৬ দিন আগে শিফাত হোসেন রাহুল ও নাহিদ হাসান হাসপাতালে এলে তাদের মাদক ব্যবসায়ী আখ্যা দিয়ে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে এমনকি মারধর করে তাদের কাছ থেকে ইয়াবা ও গাঁজা ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত ৭ হাজার টাকা নেয়। এ ঘটনার ৬/৭ দিন পর সাজ্জাদকে মিরাশপাড়া এলাকায় একা পেয়ে শিফাত হোসেন রাহুল ও নাহিদ হাসানগং আটক করে টাকা ফেরৎ চায়। ওই সময় সাজ্জাদের কতিপয় বন্ধুরা ১ সপ্তাহের মধ্যে ওই টাকা ফেরৎ দেয়ার আশ্বাস দিয়ে ছাড়িয়ে আনে। সময়মতো টাকা ফেরৎ না দেয়ায় এবং গত রোববার রাত সাড়ে ১২ টায় শিফাত হোসেন রাহুল ও নাহিদ হাসানগং তাদের বন্ধু কায়সার হোসেন (১৭) এর হাত কাটা নিয়ে হাসপাতালে আসার পর সাজ্জাদ হোসেনকে পেয়ে এবং কথা অনুযায়ী টাকা না দেয়ায় তার কাছে ৭ হাজার টাকা দাবী করে। এ নিয়ে তর্ক-বির্তক হওয়ার এক পর্যায়ে শিফাত হোসেন রাহুল ও নাহিদ হাসানগং আউট সোর্সিং কর্মচারী সাজ্জাদ হোসেনকে মারধর করে জোরপূর্বক উঠিয়ে মধ্য-আরিচপুর গরু হাটা বালুর মাঠে নিয়ে মারধর করে। পরে খবর পেয়ে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশের দুটি টহল দল অভিযান চালিয়ে ওই বালু মাঠ এলাকা থেকে ওই ৮ যুবকে গ্রেফতার ও সাজ্জাদকে উদ্ধার করেন। স্থানীয়দের ধারনা, পূর্ব বিরোধ ও মাদক ব্যবসা এবং টাকা লেনদেনের জের ধরেই হাসপাতাল অভ্যন্তর থেকে সাজ্জাদকে গভীর রাতে তুলে নিয়ে মারধর করা হয়েছে। সম্প্রতি একটি চক্র টঙ্গী এই হাসপাতালটির অভ্যন্তরে মাদক সেবনসহ ব্যবসা চালিয়ে আসছে বলেও স্থানীয়রা জানান।
এব্যাপারে আউট সোর্সিং কর্মচারী সাজ্জাদ হোসেনের মুঠোফোনে বার বার যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা.পারভেজ হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি ঘটনাটি শুনেছি, দুস্কৃতিকারীরা গভীর রাতে প্রায় ২৪ জন হাসপাতালে প্রবেশ করে একজন সরকারী কর্মচারীকে মারধর করে তুলে নিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে, পুলিশ পুরো গ্যাংটা ধরেছে। আইনী পক্রিয়া চলছে। সম্প্রতি উক্ত হাসপাতাল অভ্যন্তরে মাদক ক্রয়-বিক্রয় ও সেবন এবং টাকা লেনদেন সর্ম্পকে তিনি বলেন, বিষয়গুলো আমার জানা নেই, এমন হয়ে থাকলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Leave a Reply