সনাতন (হিন্দু) ধর্মাম্বলীদের বছরের সব চেয়ে ধর্মীয় উৎসব হচ্ছে শারদীয়া শ্রী শ্রী দূর্গা দেবীর পূঁজা অর্চনা। পূঁজার আর মাত্র ১২ দিন বাকি আছে। ইতিমধ্যে এ সম্প্রদায়ের মধ্যে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। শুরু হয়েছে প্রতিমা তৈরিসহ কেনা কাটার ধুমধাম। আগামী ১১ অক্টোবর মহা ষষ্টির মধ্যদিয়ে পূঁজা শুরু।
আর তাই বেশ কয়েকদিন ধরেই স্থানীয় বা দুর-দুরান্ত থেকে আসা মৃৎশিল্পীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা তৈরির কাজে। এর ব্যতিক্রম নেই টঙ্গীসহ গাজীপুর মহানগরের বিভিন্ন এলাকায়। বিশ্বব্যাপী মহামারী কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাস এবং এডিস মশার উপদ্রব বৃদ্ধি তথা ডেঙ্গু জ্বরের পার্দুভাব শিথিল হওয়ায় পূঁজা অর্চনাকারী এবং মৃৎশিল্পীদের কাজের ব্যস্ততা বেড়েছে। কেনাকাটা, প্রতিমা বা মন্দির সাঁজানো, অতিথি আপ্যাায়নের প্রস্তুতি ইত্যাদি। বিভিন্ন তথ্যানুসারে গাজীপুর জেলায় সম্ভাব্য ৩০৯টি, দেশের বৃহত্তম গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় এ বছর সম্ভাব্য ১০০টি। এর মধ্যে টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকায় ৭ টি এবং টঙ্গী পশ্চিম থানা এলাকায় ২টি পূঁজা হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে মৃৎশিল্পীরা রাত-দিন এক করে একের পর এক ফুটিয়ে তুলছেন দেবী দুর্গা, লক্ষি, সরস্বতী, গণেশ ও কার্তিকের প্রতিমা। বিভিন্ন পূঁজা মন্ডবে কাদা-মাটি, বাঁশ, খড়, সুতলি দিয়ে শৈল্পিক শ্রদ্ধায় তিলতিল করে গড়ে তোলা হচ্ছে মহামায়া দেবী দুর্গাকে। শ্বারদীয়া দুর্গা পূঁজা ঘনিয়ে আসায় টঙ্গীসহ গাজীপুরের পূজা মন্ডব গুলোতে দম ফেলার সময় নেই মৃৎশিল্প কারিগরদের। মহামারী করোনা বা ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বৃদ্ধির সাথে সাথে বেড়েছে সব ধরনের পূঁজা সংশ্লিষ্ট উপকরণের দাম। তাই এবার খরচ একটু বেশি বলে জানান পূঁজা উদ্যাপনকারী সংশ্লিষ্টরা। প্রতিমা তৈরিতে মাটির কাঠামো নির্মাণের মূল কাজ ইতিমধ্যেই শেষ করেছেন মৃৎশিল্পীরা। এরপর রং তুলির আঁচড়ে প্রতিমা পাবে দৃষ্টি নন্দন রূপ।
মৃৎশিল্পীরা জানান, অনেক দিন পরে একটু মন খুলে কাজ করতে পেরে খুব ভল লাগছে। করোনা ও ডেঙ্গুকালীন সময়ে সব ধরনের পণ্যের দাম বেশি হওয়ায় এবার পূঁজায়ও ব্যাপক খরচ গুনতে হবে। আগামী ক’দিন সব ঠিকঠাক থাকলে যথা সময়ে কাজ শেষ করতে পারবো।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ টঙ্গী থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অমল চন্দ্র ঘোষ জানান, দেশে কোভিড-১৯ করোনা মহামারী চলছে, চলছে ডেঙ্গু জ্বরের প্রবণতা। ততাপিও সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে, এ বছর শারদীয় দূর্গা দেবীর পূঁজা অর্চনা করা হবে। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ টঙ্গী থানা কমিটি যথাযথ ভাবে সরকারের বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে সচেষ্ট থাকবে। টঙ্গী বাজার সার্বজনিন শ্রী শ্রী দূর্গা মন্দিরসহ বেশ কয়েকটি পূঁজা মন্ড ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। আমরা চেস্টা করবো যাতে কোন পূঁজা মন্ডবে বিশৃংখলার সৃষ্টি না হয়। আমরা আশা করছি, স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে সর্বাত্বক সহযোগীতা পাবো।
এদিকে, গাজীপুর জেলা আইন শৃংখলা বাহিনী, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ, র্যাপিড এ্যাকশন ব্যটালিয়ন র্যাব, ডিবি পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাদ্বয় সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী সু-শৃংখল এবং শান্তিপূর্ণভাবে সনাতন ধর্মাম্বলীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয়া দূর্গা দেবীর পূঁজা উদ্যাপনে সকল প্রকার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানা গেছে। এছাড়া প্রতিটি পূঁজা মন্ডবে নিজ নিজ দায়িত্বে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহনের ক্ষেত্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, ২৪ ঘন্টা নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী বা ভলান্টিয়ার রাখা, স্বাস্থ্যবিধি যাতে করে উপেক্ষিত না হয় তার জন্য প্রতিটি মন্দির ও মন্দির প্রাঙ্গনে জন-সমাগম এড়িয়ে চলা, বাধ্যতামূলক মাস্ক ব্যবহার, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও সাবান দিয়ে হাত ধুয়া বা স্প্রে’র ব্যবস্থা গ্রহনে পূঁজা অর্চনা এবং উদ্যাপনকারী সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশনা রয়েছে বলেও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
এব্যাপারে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ টঙ্গী জোনের এসি বাবু পিযুষ কুমার দে বলেন, বরাবরের মতো এবারো শারদীয় দুর্গা পূঁজা বা উৎসবে সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কঠোর নজরদারি থাকবে। সনাতন ধর্মীরা যেন, তাদের পূঁজা অর্চনা সু-শৃংখল এবং শান্তিপূর্ণ ভাবে সমাপ্ত করতে পারেন এবং পূঁজা মন্ডব পরিচালনা এবং পূঁজা অর্চনাকারীগন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেন, তার জন্যও প্রশাসন সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
Leave a Reply