ফ্রান্স জাতীয় ফুটবল দলের কোচ পদে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। ফরাসি কিংবদন্তি জিনেদিন জিদান ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষে দলটির কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিতে মৌখিক সম্মতি দিয়েছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ইএসপিএন।
বর্তমান কোচ দিদিয়ের দেশমের চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে ২০২৬ বিশ্বকাপের পর। ২০১২ সাল থেকে ফ্রান্সের দায়িত্বে থাকা দেশমের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে জিদানই যে প্রধান পছন্দ, তা অনেকদিন ধরেই আলোচনায় ছিল। এবার সেই সম্ভাবনাই বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন (ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশন) এবং জিদানের মধ্যে ইতোমধ্যেই মৌখিক সমঝোতা হয়েছে। এখন চূড়ান্ত চুক্তির আগে কোচিং স্টাফ গঠন, সদস্যসংখ্যা এবং কাঠামো নিয়ে আলোচনা চলছে। সূত্র বলছে, চুক্তি স্বাক্ষরের আগে কেবল কিছু আনুষ্ঠানিকতা বাকি রয়েছে।
দেশম ২০১২ সালে ফ্রান্সের কোচ হন এবং তার অধীনে দলটি ২০১৮ বিশ্বকাপ জয় করে। দীর্ঘ সময়ের সফল এক অধ্যায় শেষ হতে যাচ্ছে ২০২৬ বিশ্বকাপের পর, যা অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডায়।
২০১১ সালে রিয়াল মাদ্রিদের কোচের দায়িত্ব ছাড়ার পর থেকে প্রায় পাঁচ বছর ধরে কোচিংয়ের বাইরে রয়েছেন জিদান। এই সময়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের কোচ হওয়ার গুঞ্জন উঠলেও তিনি সব প্রস্তাবই প্রত্যাখ্যান করেন।
রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হিসেবে জিদানের সাফল্য কিংবদন্তিতুল্য। ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের প্রথম মেয়াদে এবং ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের দ্বিতীয় মেয়াদে তিনি ক্লাবটিকে দুইবার লা লিগা এবং টানা তিনবার উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতান, যা আধুনিক ফুটবলে এক অনন্য রেকর্ড।
খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৯৮ সালে নিজ দেশে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে শিরোপা জেতান জিদান। সেই থেকে জাতীয় দলের কোচ হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছিল। বিশেষ করে রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়ার পর এই সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়।
এদিকে সম্প্রতি ফরাসি গণমাধ্যমে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এফএফএফ সভাপতি ফিলিপ দিয়ালো ইঙ্গিত দেন যে দেশমের উত্তরসূরি কে হবেন, তা তিনি জানেন। যদিও সরাসরি নাম বলেননি, তবে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে তিনি জিদানের কথাই বলেছেন।
ফরাসি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, জিদানকে কোচ হিসেবে নিয়োগ দিলে স্পনসরশিপ ও বাণিজ্যিক দিক থেকে কতটা লাভ হবে, তা নিয়েও ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু করেছে এফএফএফ।
Leave a Reply