মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানের ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় ছয় দেশে বসবাসকারী প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ বিদেশি শ্রমিক, যার মধ্যে প্রায় ৫০ লাখ বাংলাদেশি। তারা সম্ভাব্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই ছয়টি দেশ নিয়ে গঠিত গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) অঞ্চলে মোট জনসংখ্যা প্রায় ৬ কোটি ২০ লাখ। এর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি মানুষই প্রবাসী। জিসিসির সদস্য দেশগুলো হলো সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ওমান এবং বাহরাইন। বিশ্লেষকদের মতে, যদি আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়, তাহলে এই অঞ্চলজুড়ে কর্মরত বিপুল সংখ্যক প্রবাসী শ্রমিকের নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং আয়ের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
উপসাগরীয় দেশগুলোতে বিদেশি শ্রমিকদের মধ্যে সবচেয়ে বড় জনগোষ্ঠী হলো ভারতের নাগরিক, যাদের সংখ্যা প্রায় ৯১ লাখ। তবে দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রবাসী জনগোষ্ঠী হলো বাংলাদেশিরা, সংখ্যায় প্রায় ৫০ লাখ। এছাড়া পাকিস্তানের প্রায় ৪৯ লাখ, মিসরের ৩৩ লাখ, ফিলিপাইন ও ইয়েমেনের প্রায় ২২ লাখ করে এবং নেপালের প্রায় ১২ লাখ নাগরিক সেখানে বসবাস করছেন।
ফলে উপসাগরীয় শ্রমবাজারে ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের শ্রমিকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এক ধরনের প্রতিযোগিতা রয়েছে। এই প্রতিযোগিতা মূলত নির্মাণশিল্প, সেবা খাত, নিরাপত্তা ও গৃহস্থালি কাজের মতো শ্রমঘন খাতে কর্মসংস্থানকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে।
সৌদি প্রবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি: জিসিসির সবচেয়ে বড় দেশ সৌদি আরবে প্রায় ২৫ লাখ ৯০ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করছেন। দেশটির মোট জনসংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ, যার মধ্যে ১ কোটি ৬৪ লাখই বিদেশি।
এছাড়া সেখানে ভারতের প্রায় ২৩ লাখ ১০ হাজার, পাকিস্তানের ২২ লাখ ৩০ হাজার, ইয়েমেনের ২২ লাখ ১০ হাজার, মিসরের ১৮ লাখ এবং সুদানের প্রায় ১০ লাখ নাগরিক রয়েছেন।
এদিকে, আমিরাতের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮৮ শতাংশই বিদেশি। দেশটিতে প্রায় ৮ লাখ ৪০ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করছেন। একই সঙ্গে সেখানে ভারতের ৪৩ লাখ ৬০ হাজার এবং পাকিস্তানের প্রায় ১৯ লাখ নাগরিক রয়েছেন।
অন্যদিকে কাতারে প্রায় ৪ লাখ বাংলাদেশি বসবাস করছেন। দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮৮ শতাংশই বিদেশি শ্রমিক।
অন্য উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে কুয়েতে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার, ওমানে প্রায় ৭ লাখ ১৮ হাজার এবং বাহরাইনে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মরত আছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতি অনেকাংশে বিদেশি শ্রমিক ও প্রবাসীদের ওপর নির্ভরশীল। নির্মাণশিল্প, তেল ও গ্যাস, সেবা খাত এবং গৃহস্থালি কাজে বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক কাজ করছেন। তবে আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে কর্মসংস্থান কমে যাওয়া, নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়া এবং প্রবাসী আয়ের ওপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে বসবাসকারী বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ এশিয়ার লাখো প্রবাসীর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
Leave a Reply