জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের নিয়ে কেন্দ্রীয় ইফতার ও দোয়া অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা অনুষদ ভবন এবং বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদ ভবনের নিচতলায় ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-৭ আসনের সংসদ সদস্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ডা. মো. মাহাবুবুর রহমান লিটন এবং সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. মো. মাহাবুবুর রহমান লিটন বলেন, বৃহত্তর ময়মনসিংহ সাংস্কৃতিক ফোরামের ছোট্ট ঘর থেকে শুরু করে আজ বিশ্ববিদ্যালয় এই অবস্থায় এসেছে। আমি যখনই এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আসি তখনই মনে হয় কী থেকে কোন পর্যায়ে এসেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করিয়েছিলাম। দীর্ঘ ১৭ বছর এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে পারিনি। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ভালো। আর এটা সম্ভব হয়েছে আপনাদের সকলের সহায়তায়।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। শিক্ষার্থীর অনুপাতে শিক্ষক সংখ্যা কম, ভবনগুলোর মাঝে দূরত্ব কম, সবুজায়নের অভাব রয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়তন কম, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গা বাড়াতে জমি অধিগ্রহণ করবো। তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের সহায়তায় বিশ্ববিদ্যালয় এখন যেখানে আছে ভবিষ্যতে আরও স্ট্যান্ডার্ড ও দেশ-বিদেশে র্যাংকিংয়ে আরও এগিয়ে নিতে চাই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমরা রমজান মাসে যেভাবে সংযম পালন করি, তা বছরের অন্য সময়ও পালন করতে পারলে আমরা যেমন সমাজ চাই, তেমন সমাজ গড়তে পারবো। গত ১৭ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের যেমন উন্নতি হওয়ার কথা, তা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ে বাজেট ও জনবল সংকট রয়েছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় কবির নামে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়কে অত্যন্ত পছন্দ করেন এবং নিশ্চয়ই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে নজর দিবেন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. জয়নুল আবেদিন সিদ্দিকী, কলা অনুষদের ডিন ও আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হুদা, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন ও আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মো. সাখাওয়াত হোসেন সরকার এবং রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান। দোয়া পরিচালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মো. আব্দুল হাকীম।
প্রসঙ্গত, গতবছর বিদ্রোহী হলে ইফতারের টোকেন বিতরণকে কেন্দ্র করে সিনিয়র শিক্ষার্থীদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগে কেন্দ্রীয় ইফতার বয়কট করে নিজেদের উদ্যোগে গণ-ইফতারের আয়োজন করে শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে আন্দোলন শুরু হলে সকল আবাসিক-অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের নিয়ে ইফতার আয়োজনের দাবি তোলেন শিক্ষার্থীরা।
Leave a Reply