দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সিয়োল সেন্ট্রাল জেলা আদালত এ রায় দেন। রায়ে বলা হয়েছে, ইউন সুক ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে সামরিক শাসন জারি করে রাষ্ট্রবিরোধী বিদ্রোহ সৃষ্টির মূল হোতা ছিলেন।
রায়ে আরও বলা হয়, সেই ব্যর্থ সামরিক শাসন প্রচেষ্টার নেতৃত্বের দায়ে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর করা হলো। যদিও দক্ষিণ কোরিয়ায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয় না, তাই রায়টি কার্যত আমৃত্যু কারাদণ্ড হিসেবে গণ্য হবে।
একইসঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী হান ডাক সুকেও দোষী সাব্যস্ত করে ২৩ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, তিনি সামরিক শাসন জারি করার চেষ্টা বৈধ করার জন্য কেবিনেট কাউন্সিল মিটিংয়ে চাপ প্রয়োগ, নথি বিকৃতকরণ এবং শপথপত্রে মিথ্যা বক্তব্য প্রদান করেছিলেন।
সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিম ইয়ং হিউনকেও একই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এই রায় দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর ইউন সুক ইওল সরাসরি টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে সামরিক আইন জারির ঘোষণা দেন, যা দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। এর পরপরই তিনি সেনা ও পুলিশ মোতায়েন করে জাতীয় সংসদ ভবন ঘিরে ফেলেন, যাতে সংসদ সদস্যরা তার সিদ্ধান্ত বাতিল করতে না পারেন। এমনকি সংসদের স্পিকার ও প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর তৎকালীন নেতাদের গ্রেপ্তারের নির্দেশও দেন।
ইউন দাবি করেছিলেন, উত্তর কোরিয়াপন্থি “রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি” থেকে দেশকে রক্ষা করতেই তিনি সামরিক শাসন জারি করতে চেয়েছিলেন। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই স্পষ্ট হয়, এই পদক্ষেপের পেছনে ছিল তার নিজের রাজনৈতিক সংকট। সংসদ সদস্যরা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভোটের মাধ্যমে সামরিক আইন বাতিল করলে ইউনকে সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে বাধ্য হতে হয়। এরপর শুরু হয় টানা কয়েক মাসের বিক্ষোভ। এরপর ইউনের বিরুদ্ধে আনা হয় একের পর এক অভিযোগ।
Leave a Reply