রাশিয়ার তেল পরিবহনের কাজে নিয়োজিত তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর একের পর এক জাহাজ জব্দ করছে পশ্চিমা দেশগুলো। এমন পরিস্থিতিতে নৌবাহিনীর মাধ্যমে পাল্টা জবাব দেয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ক্রেমলিনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত নিকোলাই পাত্রুশেভ গত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বলেন, ‘যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং বাল্টিক রাষ্ট্রগুলোর উদ্দেশে রাশিয়াকে একটি শক্ত বার্তা দিতে হবে।’ পাত্রুশেভ ক্রেমলিনের সহকারী এবং শিপিং বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
মস্কোভিত্তিক পত্রিকা আর্গুমেন্তি ই ফাকতি-কে দেয়া সাক্ষাৎকারে পাত্রুশেভ বলেন, ‘আমরা মনে করি, সব সময়ের মতোই নৌ-পরিবহন নিরাপত্তার সর্বোত্তম গ্যারান্টি হলো নৌবাহিনী।’ তিনি রুশ জাহাজের ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর পদক্ষেপকে ‘দস্যুদের হামলা’র সঙ্গে তুলনা করেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা যদি দৃঢ়ভাবে প্রতিরোধ না করি, তবে ইংরেজ, ফরাসি এবং এমনকি বাল্টিক রাষ্ট্রগুলো দুঃসাহসী হয়ে উঠবে। তারা আটলান্টিক অববাহিকায় আমাদের দেশের সমুদ্রপথে প্রবেশাধিকার বন্ধ করার চেষ্টা করবে।’
পাত্রুশেভ বলেন, অর্থনীতি সচল রাখতে রাশিয়াকে তেল, শস্য ও সার রপ্তানি অব্যাহত রাখতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, রাশিয়ার পশ্চিমা প্রতিপক্ষরা দেশটির অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত শিপিংকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘নৌ অবরোধ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ইউরোপীয়রা ইচ্ছাকৃতভাবে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির পথ বেছে নিচ্ছে। তারা আমাদের ধৈর্যের সীমা পরীক্ষা করছে এবং পাল্টা ব্যবস্থার উসকানি দিচ্ছে।’
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন, ‘যদি এই পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধান না হয়, তবে নৌবাহিনী অবরোধ ভেঙে দেবে এবং তা নির্মূল করবে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী কয়েক সপ্তাহ অনুসরণের পর উত্তর আটলান্টিকে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি রুশ পতাকাবাহী তেলবাহী ট্যাঙ্কার জব্দ করে, যা নিয়ে মস্কো তীব্র প্রতিবাদ জানায়। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, ভেনেজুয়েলার ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগে ‘মারিনেরা’ নামের ওই ট্যাঙ্কার জব্দ করা হয়।
এ ছাড়া জানুয়ারিতে ফরাসি কর্তৃপক্ষ স্পেন ও মরক্কোর মধ্যবর্তী ভূমধ্যসাগরীয় এলাকায় ‘গ্রিঞ্চ’ নামের একটি ট্যাঙ্কারে তল্লাশি চালায়। ফ্রান্সের অভিযোগ, এটি মস্কোর তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর অংশ।
রাশিয়া থেকে যাত্রা শুরু করা গ্রিঞ্চ জাহাজটিকে ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মার্সেইয়ের নিকটবর্তী একটি বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়। মঙ্গলবার ফ্রান্স জানায়, মালিক পক্ষ কয়েক মিলিয়ন ইউরো জরিমানা পরিশোধ করার পর গ্রিঞ্চকে মুক্তি দেয়া হয়েছে।
Leave a Reply