রাজধানীর উত্তর বাড্ডা এলাকায় বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার শীর্ষ সন্ত্রাসী মেহেদী হাসান ওরফে দীপুকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। দীপু সাবেক সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বাড্ডা থানায় অস্ত্র আইনে দায়ের করা এক মামলার শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালত এই রিমান্ডের আদেশ দেন।
এর আগে শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) রাজধানীর উত্তর বাড্ডা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মেহেদী হাসান ওরফে দীপুকে গ্রেপ্তার করে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বাধীন যৌথবাহিনীর একটি বিশেষ দল। এসময় তার বাসা থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গুলি।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বাড্ডা অঞ্চলের সহকারী কমিশনার আসাদুজ্জামান বলেন, শুক্রবার মেহেদী হাসানকে একটি বাড়ির তিনতলার ফ্ল্যাট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেখান থেকে ১১টি অত্যাধুনিক বিদেশি অস্ত্র ও ৩৯৪টি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার মেহেদী হাসানই ওই বাড়ির মালিক। অভিযানে অস্ত্র ও গুলি ছাড়াও পিস্তলের ৮টি ম্যাগাজিন, ৩২টি কার্তুজ, একটি ২২ উজি মেশিনগান রাইফেল, উজি রাইফেলের দুটি ম্যাগাজিন, তিনটি চায়নিজ কুড়াল, একটি ‘টাইগার হান্টিং কমান্ডো’ চাকু, দুটি ওয়াকিটকি, একটি ওয়াকিটকি ব্যাটারি, তিনটি পিস্তলের সাইড কভার ও একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের হয়ে রামপুরা, বনশ্রী, বাড্ডা, ভাটারা, বারিধারা ও গুলশান এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতেন মেহেদী হাসান দীপু। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছে আরও অস্ত্র থাকার তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এসব অস্ত্রের একটি অংশ সুব্রত বাইন ও আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী মোল্লা মাসুদের বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত বছরের মে মাসে কুষ্টিয়া শহরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে সুব্রত বাইন ও মোল্লা মাসুদ গ্রেপ্তার হন। এরপর সুব্রত বাইনের হয়ে রাজধানীতে অপরাধচক্র পরিচালনার দায়িত্ব নেন মেহেদী হাসান।
পুলিশের একাধিক সূত্র দাবি করছে, মেহেদী হাসান ও তার সহযোগীরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভাড়াটে খুনি হিসেবে কাজ করতেন এবং অস্ত্র ভাড়াও দিতেন। তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মধ্যে ওয়াসির মাহমুদ সাঈদ ওরফে বড় সাঈদ, গোলাম মর্তুজা বাবু ওরফে মধু বাবু এবং সোহেল ওরফে কান্নি সোহেলের নাম উঠে এসেছে।
জানা যায়, বাড্ডা ও আশপাশের এলাকায় মাছের আড়ত, গাড়ির শোরুম, তৈরি পোশাক কারখানাসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি ও ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে ছিল এই চক্র। সুব্রত বাইন গ্রেপ্তার হওয়ার পর এসব কার্যক্রম তদারক করতেন মেহেদী হাসান।
পুলিশ আরও জানায়, ৫ আগস্টের পর সুব্রত বাইন প্রকাশ্যে সক্রিয় হয়ে প্রতিবেশী দেশ থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করেন এবং রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আধিপত্য বিস্তার শুরু করেন।
নব্বইয়ের দশকে ঢাকার অপরাধজগতের আলোচিত নাম ছিল সুব্রত বাইন। দরপত্র নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি ও সশস্ত্র আধিপত্য বিস্তারের ঘটনায় তার নাম বহুবার এসেছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, সেই পুরোনো নেটওয়ার্কের ধারাবাহিকতাতেই নতুন করে সংগঠিত হচ্ছিল চক্রটি।
ডিবি পুলিশের একটি সূত্র জানায়, সুব্রত বাইন বর্তমানে কুমিল্লার কারাগারে আছেন। তার মেয়ে খাদিজা ইয়াসমিন বাবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাইরের সহযোগীদের কাছে বার্তা পৌঁছে দিতেন এমন অভিযোগের ভিত্তিতে একটি হত্যা মামলায় তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, গ্রেপ্তার মেহেদী হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে অস্ত্রের উৎস, সহযোগীদের অবস্থান এবং সাম্প্রতিক অপরাধগুলোর সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে। তার সহযোগীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
Leave a Reply