জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা পৃথিবী-আকারের একটি নতুন গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন, যা পৃথিবী থেকে প্রায় ১৪৬ আলোকবর্ষ দূরে একটি সূর্যসদৃশ নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, এই গ্রহটি প্রাণ ধারণের সম্ভাবনাময় অঞ্চলের কাছাকাছি অবস্থান করায় আশপাশের বাসযোগ্য জগত নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রহটির নাম দেয়া হয়েছে এইচডি ১৩৭০১০বি। এটি শনাক্ত করা হয়েছে নাসার কেপলার স্পেস টেলিস্কোপের কে-টু মিশনের ২০১৭ সালের তথ্য ব্যবহার করে। আন্তর্জাতিক একটি গবেষক দল তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করেন, যার নেতৃত্ব দেন অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন কুইন্সল্যান্ডের (ইউএসকিউ) গবেষক আলেকজান্ডার ভেনার। গবেষণার ফলাফল মঙ্গলবার দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটার্সে প্রকাশিত হয়।
গবেষণা অনুযায়ী, গ্রহটি পৃথিবীর তুলনায় প্রায় ৬ শতাংশ বড় এবং এটি তার নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করতে প্রায় ৩৫৫ দিন সময় নেয়। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, গ্রহটির প্রায় ৫০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে তার নক্ষত্রের ‘হ্যাবিটেবল জোন’-এ অবস্থান করার, যেখানে তরল পানি থাকার পরিবেশ থাকতে পারে। তবে গ্রহটির পৃষ্ঠের তাপমাত্রা মঙ্গলের কাছাকাছি হতে পারে এবং তা মাইনাস ৯৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট (মাইনাস ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) পর্যন্ত নেমে যেতে পারে।
ইউএসকিউয়ের সহলেখক চেলসি হুয়াং বলেন, এই পৃথিবী-আকারের গ্রহটির সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ দিক হলো, এটি আমাদের সৌরজগত থেকে মাত্র ১৫০ আলোকবর্ষ দূরে। তিনি জানান, তুলনামূলকভাবে কাছাকাছি অবস্থানের কারণে ভবিষ্যতের শক্তিশালী টেলিস্কোপ দিয়ে এই গ্রহ নিয়ে আরও গভীর গবেষণার সুযোগ তৈরি হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সূর্যসদৃশ নক্ষত্রের চারপাশে হ্যাবিটেবল জোনে থাকা কেপলার-১৮৬এফ এই গ্রহটির তুলনায় চার গুণ দূরে এবং প্রায় ২০ গুণ বেশি ক্ষীণ।
এই গ্রহটির অস্তিত্বের ইঙ্গিত প্রথম ধরা পড়ে ‘সিটিজেন সায়েন্টিস্ট’ বা সাধারণ বিজ্ঞানপ্রেমীদের মাধ্যমে। গবেষণার প্রধান লেখক আলেকজান্ডার ভেনার বলেন, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি ‘প্ল্যানেট হান্টার্স’ নামের একটি নাগরিক বিজ্ঞান প্রকল্পে যুক্ত ছিলেন, যা তাকে গবেষণার পথে আসতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
ভেনার আরও বলেন, ভবিষ্যতে পৃথিবীর মতো গ্রহের সরাসরি ছবি তুলতে সক্ষম মহাকাশ মিশন যেমন- নাসার ‘হ্যাবিটেবল ওয়ার্ল্ডস অবজারভেটরি’ এইচডি ১৩৭০১০ বি-এর ছবি ধারণ করতেও সক্ষম হতে পারে। এই আবিষ্কার তাই ভবিষ্যতের মহাকাশ গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
Leave a Reply